1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে
  3. asyrvwvn@tacoblastmail.com : NARYTHY496NEHTYHYHTR :
  4. sumibaruasushmita@gmail.com : Sumi barua :
৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| সোমবার| রাত ১১:৪২
শিরোনামঃ
বাংলায় থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : উৎপত্তি, বিকাশ ও পুনর্জাগরণ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উদ্‌যাপন করলেন বৌদ্ধ যুব পরিষদ, রাংগুনিয়া শাখা গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহারে ৮ দিনব্যাপী ফ্রি বিদর্শন ভাবনা অনুশীলন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন পাট্ঠান পাঠের উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা আদর্শবান নীতিপরায়ণ সন্তানই মহাসম্পদ এবং পিতামাতার উত্তম আশীর্বাদ বৌদ্ধ বিহারের মালিকানা ও পরিচালনা: বিনয় সম্মত আলোচনা বৌদ্ধ দর্শনে অরহৎ চিনার উপায় পঞ্চশীল: নৈতিক জীবন ও বিশ্বশান্তির ভিত্তি বৌদ্ধ দর্শনে ষড়ভিজ্ঞ অরহৎ সম্পর্কে জানুন কাউকে বড় বা ছোট করার জন্য নয়! আমি শুদু আমার মনের অনুভূতিগুলি প্রকাশ করছি

বাংলায় থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : উৎপত্তি, বিকাশ ও পুনর্জাগরণ

ধর্মদূত স্থবির এম ধর্মবোধি ভিক্ষু
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ সোমবার, জুন ৮, ২০২৬,
  • 51 বার দেখা হয়েছে

বাংলায় থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : উৎপত্তি, বিকাশ ও পুনর্জাগরণ


কলমে-  ধর্মদূত স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে

প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ,

শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুঠির,

পুরাতন চান্দগাঁও।

অধ্যক্ষ, গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহার, হাটহাজারী


ভূমিকা

বাংলার ইতিহাসে বৌদ্ধধর্ম এক গৌরবময় অধ্যায়ের নাম। প্রাচীনকাল থেকে মধ্যযুগ পর্যন্ত বাংলা ছিল বৌদ্ধ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও দর্শনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই ভূখণ্ডে বৌদ্ধধর্মের বিকাশ কেবল ধর্মীয় ক্ষেত্রে নয়, শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, স্থাপত্য ও সমাজজীবনের প্রতিটি স্তরে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। যদিও একসময় বাংলায় বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ক্ষীণ হয়ে পড়ে, তথাপি তার মূলধারা কখনো সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি। বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে রেখেছিল। পরবর্তীকালে উনবিংশ শতাব্দীতে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলায় থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম পুনরায় সুসংগঠিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান বাংলাদেশের বৌদ্ধ সমাজ মূলত এই থেরবাদী ধারার অনুসারী। বাংলায় থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তাই শুধু একটি ধর্মীয় ইতিহাস নয়, বরং এটি সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা, সামাজিক পুনর্জাগরণ এবং আধ্যাত্মিক পুনর্গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

বাংলায় বৌদ্ধধর্মের প্রাথমিক আগমন

বাংলায় বৌদ্ধধর্মের আগমন সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় যে মৌর্য সম্রাট অশোকের শাসনামলে বৌদ্ধধর্ম এই অঞ্চলে প্রবেশ করে। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের পর সমগ্র ভারতবর্ষ এবং ভারতবর্ষের বাইরের বিভিন্ন দেশে ধর্মপ্রচারক প্রেরণ করেন। তাঁর এই ধর্মপ্রচার কার্যক্রমের ফলে পূর্ব ভারতের জনপদসমূহেও বৌদ্ধধর্ম বিস্তার লাভ করে। প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন, সমতট, হরিকেল ও বঙ্গ অঞ্চলে আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, শিলালিপি এবং ভাস্কর্য থেকে জানা যায় যে বাংলায় খুব প্রাচীনকাল থেকেই বৌদ্ধধর্মের অস্তিত্ব ছিল।

বৌদ্ধধর্মের মূল শিক্ষা ছিল অহিংসা, করুণা, মৈত্রী এবং মধ্যমপন্থা। এসব আদর্শ সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। ফলে বাংলা অঞ্চলে বৌদ্ধধর্ম ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী ধর্মীয় ও সামাজিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

পাল যুগে বাংলার বৌদ্ধ সভ্যতার স্বর্ণযুগ

বাংলায় বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে পাল যুগকে স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অষ্টম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত পাল রাজারা বাংলায় শাসন করেন এবং তাঁরা ছিলেন বৌদ্ধধর্মের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তাদের রাজত্বকালে বাংলা শুধু ভারতবর্ষ নয়, সমগ্র এশিয়ার বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

পাল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সোমপুর মহাবিহার, জগদ্দল মহাবিহার, বিক্রমশীলা মহাবিহার এবং নালন্দা মহাবিহারের মতো বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এসব মহাবিহারে ভারত, তিব্বত, নেপাল, চীন, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নের জন্য আসতেন। ফলে বাংলার বৌদ্ধ সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করে।

তবে উল্লেখ্য যে পাল যুগে প্রধানত মহাযান ও বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ছিল। বোধিসত্ত্ব আদর্শ, তান্ত্রিক সাধনা এবং সংস্কৃতভাষাভিত্তিক শাস্ত্রচর্চা এই সময়ে ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়। যদিও বর্তমান থেরবাদ বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে এ ধারার কিছু পার্থক্য ছিল, তথাপি বুদ্ধের মূল শিক্ষা, সংঘজীবন এবং ধর্মীয় অনুশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল।

বৌদ্ধধর্মের অবক্ষয় ও পতনের কারণ

দ্বাদশ শতাব্দীর পর বাংলায় বৌদ্ধধর্ম ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। এর পেছনে নানা রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় কারণ কাজ করেছে। পাল রাজবংশের পতনের পর সেন রাজারা ক্ষমতায় এসে ব্রাহ্মণ্যধর্মকে অধিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেন। ফলে বৌদ্ধবিহারগুলোর আর্থিক ও প্রশাসনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে বৌদ্ধধর্মের অভ্যন্তরে তান্ত্রিক ও আচারকেন্দ্রিক প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল শাস্ত্রচর্চা ও সংঘশৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসনের বিস্তার এবং বহু শিক্ষা কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ার ফলে বৌদ্ধধর্মের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। ফলে বাংলার অধিকাংশ অঞ্চল থেকে বৌদ্ধধর্ম ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

 

চট্টগ্রাম ও আরাকান অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের ধারাবাহিকতা

যদিও সমগ্র বাংলায় বৌদ্ধধর্মের প্রভাব কমে যায়, তথাপি চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আরাকান সংলগ্ন অঞ্চলে বৌদ্ধ ঐতিহ্য টিকে থাকে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং আরাকান রাজ্যের সঙ্গে দীর্ঘকালীন সাংস্কৃতিক যোগাযোগের কারণে এ অঞ্চলের জনগণ থেরবাদী বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে।

চাকমা, মারমা, রাখাইন, তঞ্চঙ্গ্যা এবং বড়ুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মীয় পরিচয় সংরক্ষিত ছিল। যদিও তাদের ধর্মাচরণে অনেক স্থানীয় লোকবিশ্বাস ও আঞ্চলিক আচার যুক্ত হয়েছিল, তবুও বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘের প্রতি তাদের আনুগত্য অটুট ছিল।

উনবিংশ শতাব্দীতে থেরবাদ বৌদ্ধধর্মের পুনর্জাগরণ

বাংলায় আধুনিক থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস মূলত উনবিংশ শতাব্দীতে শুরু হয়। এই সময়ে আরাকান থেকে আগত মহাপণ্ডিত ভদন্ত সারমেধ মহাস্থবির চট্টগ্রাম অঞ্চলে আগমন করেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে স্থানীয় বৌদ্ধ সমাজে প্রকৃত থেরবাদী শাস্ত্র ও বিনয়চর্চার পরিবর্তে বিভিন্ন লোকাচার, কুসংস্কার এবং অশুদ্ধ ধর্মীয় অনুশীলন প্রচলিত রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে তিনি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। তিনি ভিক্ষুদের জন্য শুদ্ধ উপসম্পদা প্রথা চালু করেন, পালি ভাষা শিক্ষা পুনরুজ্জীবিত করেন, ত্রিপিটক অধ্যয়নের ব্যবস্থা করেন এবং বৌদ্ধ সংঘে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলে বাংলায় আধুনিক থেরবাদ বৌদ্ধধর্মের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।

সংঘরাজ নিকায়ের প্রতিষ্ঠা ও গুরুত্ব

সারমেধ মহাস্থবিরের সংস্কার আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে সংঘরাজ নিকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই নিকায়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল শুদ্ধ থেরবাদী ধর্মচর্চা, বিনয় অনুসরণ এবং সংঘশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। সংঘরাজ নিকায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার, ধর্মীয় ঐক্য এবং সংগঠিত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ বিহার ও ভিক্ষুসংঘ ধীরে ধীরে এই সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ফলে বৌদ্ধ সমাজে একটি নতুন ধর্মীয় জাগরণ সৃষ্টি হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশে থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বৌদ্ধ সম্প্রদায় সাংবিধানিকভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা লাভ করে। বর্তমানে বাংলাদেশে থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম প্রধানত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রচলিত। অসংখ্য বৌদ্ধবিহার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংগঠন এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান বৌদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে কাজ করছে।

বুদ্ধ পূর্ণিমা, আষাঢ়ী পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং কঠিন চীবর দান উৎসবের মাধ্যমে বৌদ্ধ সমাজ তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সুসংহত করে চলেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বৌদ্ধদের সম্পর্ক ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপসংহার

বাংলায় থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বহু শতাব্দীর বিবর্তনের ফল। অশোকের যুগে বৌদ্ধধর্মের আগমন, পাল যুগে তার অসাধারণ বিকাশ, মধ্যযুগে অবক্ষয়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে তার ধারাবাহিক অস্তিত্ব এবং উনবিংশ শতাব্দীতে সারমেধ মহাস্থবির ও কৃপাশরণ মহাস্থবিরের নেতৃত্বে পুনর্জাগরণ—এই দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বাংলায় আধুনিক থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশে থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম শুধু একটি ধর্মীয় পরিচয় নয়; এটি হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের এক জীবন্ত ঐতিহ্য, যা আজও বাঙালি সমাজের বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ জাতীয় আরো খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (রাত ১১:৪২)
  • ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)

জ্ঞানঅন্বেষণ © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।