1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে
  3. asyrvwvn@tacoblastmail.com : NARYTHY496NEHTYHYHTR :
  4. sumibaruasushmita@gmail.com : Sumi barua :
২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| বৃহস্পতিবার| রাত ১১:৪৩
শিরোনামঃ
সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম: সংঘবদ্ধ জাতি ও আদর্শ সমাজ গঠনের বৌদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি সম্মান আয়নার মতো—আপনি যেমন দেবেন, তেমনই ফিরে পাবেন নিজের মন-চিত্তকে জানা: বুদ্ধদর্শনের আলোকে আত্ম-পর্যবেক্ষণ ও সত্য উপলব্ধি কর্মফল, কর্মনিয়তি এবং তথাগত বুদ্ধের জীবনদর্শন: ধর্মের পরিহানির মূল কারণ: না জেনে, না বুঝে পণ্ডিত হওয়ার প্রবণতা প্রাণী হত্যা ও তার চার প্রকার পাপ: বৌদ্ধধর্মের আলোকে  আলোচনাটি করলাম মা-বাবা: জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ — বৌদ্ধধর্মের আলোকে এই আলোচনা পঞ্চশীল বা পঞ্চনীতিই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারে! চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন ভদন্ত মহাস্থবির ড. এস. লোকজিৎ ভিক্ষু পাপগ্রস্ত মানুষের দুঃখ ও মৃত্যুমুখে পতন:

সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম: সংঘবদ্ধ জাতি ও আদর্শ সমাজ গঠনের বৌদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি

ধর্মদূত স্থবির এম ধর্মবোধি ভিক্ষু
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ বুধবার, জুলাই ১, ২০২৬,
  • 71 বার দেখা হয়েছে

সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম: সংঘবদ্ধ জাতি ও আদর্শ সমাজ গঠনের বৌদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি


-রবিন বড়ুয়া (এম.এ), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষক, রাঙ্গুনিয়া পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ।


উপক্রমণিকা:
বুদ্ধের বাণী কেবলমাত্র দুঃখমুক্তির জন্য সন্ন্যাসজীবন গ্রহণ করে নির্বাণ সন্ধানের শিক্ষা দেয় না; বরং ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও জাতীয় জীবনের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্যও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। বৌদ্ধ সাহিত্যে এসব নীতিকে ‘পরিহানীয়’ ও ‘অপরিহানীয়’ ধর্মনীতি নামে অভিহিত করা হয়। যে সকল আচরণ ও নীতি পরিহার না করলে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে অবক্ষয় ও পতন ঘটে, সেগুলোকে পরিহানীয় ধর্ম বলা হয়। অন্যদিকে, যে সকল নীতি যথাযথভাবে পালন করলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতি, ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, সেগুলোকে অপরিহানীয় ধর্ম বলা হয়।

সূত্রপিটকের দীর্ঘনিকায়ের ‘মহাপরিনিব্বান সুত্তং’ ও অট্ঠকথা ‘সুমঙ্গলবিলাসিনী’ গ্রন্থে প্রাচীন বৃজি (বজ্জি) জাতির শাসনব্যবস্থা ও সামাজিক ঐক্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বিশেষভাবে প্রতীয়মান হয় পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ‘সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম’-এর গুরুত্ব।এই বিষয়ে রাজগুরু ধর্মরত্ন ও সলিল বিহারী বড়ুয়ার কাজ উল্লেখযোগ্য হলেও বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিশেষ আলোচনা এখনও সীমিত।

সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের ধারণা :
‘সপ্ত’ অর্থ সাত, ‘অপরিহানীয়’ অর্থ যা পতন বা পরাজয় থেকে রক্ষা করে এবং ‘ধর্ম’ অর্থ নিয়ম, নীতি বা কর্তব্য। সুতরাং, সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম বলতে এমন সাতটি অবশ্যপালনীয় নীতিকে বোঝায়, যা অনুসরণ করলে একটি জাতি স্বাধীন, ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত হয়ে উঠতে পারে।

বৌদ্ধ সাহিত্যে বর্ণিত আছে যে, ভগবান বুদ্ধ বৈশালীর সারন্দদ চৈত্যে অবস্থানকালে বৃজি জাতির কল্যাণার্থে যে সাতটি উপদেশ প্রদান করেছিলেন, সেগুলোকেই সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম বলা হয়। এই নীতিগুলোর মধ্যে নিহিত রয়েছে ঐক্য, সংহতি, নৈতিকতা ও সুশাসনের অমূল্য শিক্ষা। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এগুলো এক অনন্য আদর্শ হিসেবে বিবেচিত।

সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মসমূহ :
সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মকে “একতাই বল” প্রবাদটির প্রতিচ্ছবিই বলা যায় ।ভগবান বুদ্ধ এই সাতটি নীতির মাধ্যমে একটি আদর্শ, সংঘবদ্ধ ও অপরাজেয় জাতি গঠনের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। বৃজিগণ এই নীতিগুলো অনুসরণ করেই ভারতবর্ষে একটি শক্তিশালী ও উন্নত জাতিতে পরিণত হয়েছিল। সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মসমূহ হলো—

১. সভা-সমিতিতে সর্বদা ঐক্য ও সম্প্রীতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
২. সম্মিলিতভাবে কর্তব্য ও কর্মসূচি সম্পাদন করা।
৩. প্রাচীন ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি ও রাষ্ট্রীয় নীতির যথাযথ সংরক্ষণ ও অনুসরণ করা।
৪. বয়োজ্যেষ্ঠ ও পূজনীয় ব্যক্তিদের সম্মান, শ্রদ্ধা ও তাঁদের উপদেশ অনুসরণ করা।
৫. নারীজাতির সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৬. চৈত্য, বিহার ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সংরক্ষণ ও মর্যাদা রক্ষা করা।
৭. অর্হৎ, শীলবান ও জ্ঞানী ধর্মাচার্যদের যথাযথ সম্মান, সেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা।

সংঘবদ্ধ জাতি ও সমাজ গঠনে সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের ভূমিকা:
সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের যথাযথ অনুসরণের ফলে বৃজিগণ একটি সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হয়েছিল। তারা যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বা রাষ্ট্রীয় বিষয় নিয়ে সভার আয়োজন করত এবং আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত। প্রত্যেকের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতো এবং যে মত অধিক যুক্তিসঙ্গত ও কল্যাণকর হতো, তা গ্রহণ করা হতো। ফলে তাদের মধ্যে বিভেদ, দ্বন্দ্ব বা অসন্তোষের সুযোগ সৃষ্টি হতো না। এভাবেই তারা একটি ঐক্যবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল।
ব্যক্তি থেকেই জাতীয় জীবনের সূচনা। সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের অনুশীলনে একজন ব্যক্তির নৈতিক ও মানবিক উন্নয়ন ঘটে। আদর্শ ব্যক্তি গড়ে তোলে আদর্শ পরিবার, আর আদর্শ পরিবার সমাজে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার বীজ বপন করে। ফলে সমগ্র সমাজ এক অভিন্ন আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে। সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও কলুষতা দূরীভূত হয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হয়।

সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মচ্যুতি ও বৃজিদের বিনাশ :
মগধ ও বৃজি রাজ্যের মধ্যবর্তী গঙ্গানদীর তীরে একটি বন্দর ছিল, যেখানে মাঝে মাঝে মূল্যবান রত্ন পাওয়া যেত। ঐক্যবদ্ধ থাকার কারণে বৃজিগণ খুব ভোরে সেখানে গিয়ে রত্ন সংগ্রহ করত। কিন্তু অনৈক্যের কারণে মগধের প্রজারা দেরিতে পৌঁছে কিছুই পেত না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মগধরাজ অজাতশত্রু বৃজিদের আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। তবে বৃজিদের ঐক্য ও গণতান্ত্রিক শক্তির কারণে সরাসরি আক্রমণে সফল হওয়া কঠিন জেনে তিনি তাঁর মন্ত্রী বর্ষাকার ব্রাহ্মণকে ভগবান বুদ্ধের কাছে পাঠান।

ভগবান বুদ্ধ তখন আনন্দকে উদ্দেশ্য করে বৃজিদের সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মসমূহ ব্যাখ্যা করে বলেন—
“হে আনন্দ, যতদিন বৃজিগণ ঐক্যবদ্ধভাবে সভায় মিলিত হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কর্তব্য সম্পাদন করবে — ততদিন তাদের উন্নতিই হবে, অবনতি নয়।” — দীর্ঘনিকায়, মহাপরিনিব্বান সুত্তং (ধর্মরত্ন, ১৯৬২)
তাই মন্ত্রী বর্ষাকার অত্যন্ত কৌশলে বৃজিদের মধ্যে প্রবেশ করে কয়েক বছরের মধ্যে তাদের আস্থা অর্জন করেন এবং পরে কুমন্ত্রণা দিয়ে তাদের মধ্যে বিভেদ, সন্দেহ ও কলহ সৃষ্টি করেন। ফলে বৃজিগণ ঐক্যচ্যুত হয়ে সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের চর্চা থেকে বিচ্যুত হয়।
অবশেষে এই অনৈক্যের সুযোগে অজাতশত্রু বৃজিদের আক্রমণ করে সহজেই বৈশালী দখল করেন। এভাবেই পতন ঘটে বৃজিদের এবং ধ্বংস হয়ে যায় বৈশালীর গণতান্ত্রিক ঐক্য।

বর্তমান সমাজে সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োগ:
বর্তমান যুগে মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিতে অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবুও সামাজিক জীবন, মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা ও অস্থিরতা দেখা যায়। এই প্রেক্ষাপটে আড়াই হাজার বছর পূর্বে বুদ্ধ প্রদত্ত সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম আজও সমাজে শান্তি, ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর নৈতিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

– বুদ্ধ যে ঐক্য ও সহযোগিতার শিক্ষা দিয়েছেন, তা যদি আমরা আমাদের পরিবার, সামাজিক সংগঠন, সভা-সমিতি এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবনেও প্রয়োগ করি, তাহলে বিভেদ, দ্বন্দ্ব ও অসন্তোষ অনেকাংশে কমে যেতে পারে।
– বর্তমানে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠন যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয় এবং সকলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও হিংসা এড়ানো সম্ভব। অন্যদিকে স্বেচ্ছাচারী বা একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ঐক্য নষ্ট হয় এবং সংগঠনের কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

– রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন সৎ ও কর্তব্যপরায়ণ নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি ও সামাজিক শৃঙ্খলা মেনে চলা সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে সামষ্টিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিলে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
– সমাজে প্রবীণ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সম্মান প্রদর্শন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব। পরিবারে বড়দের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ভিক্ষুসংঘের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সমাজের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মর্যাদা প্রদান করলে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। এর মাধ্যমে সমাজে শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়।
– নারীর মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় বুদ্ধের শিক্ষাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সমাজের অগ্রগতি অনেকাংশে নারীর শিক্ষা ও অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে। তাই নারীর শিক্ষা, সামাজিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নারী নির্যাতন, যৌতুক, পাচার ও সহিংসতার মতো সমস্যা দূর করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। নারীকে সম্মান ও নিরাপত্তা প্রদান একটি সুস্থ সমাজ গঠনের মৌলিক শর্ত।

– বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির বিকাশে বিহার ও ধর্মীয় কেন্দ্রগুলোর ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নালন্দা, তক্ষশীলা, বিক্রমশীলা প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। তাই এসব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সংরক্ষণ, সংস্কার এবং ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া ভিক্ষু ও ধর্মীয় শিক্ষকগণ সমাজে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা ব্যক্তিগতভাবে সংযম ও শুদ্ধ জীবনযাপন করে সমাজকে নৈতিক দিকনির্দেশনা দেন। তাই তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা, সহায়তা ও সহযোগিতামূলক মনোভাব রাখা সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সর্বোপরি বলা যায়, সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মের মূল শিক্ষা হলো ঐক্য, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা। এগুলোর যথাযথ প্রয়োগ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম।

শেষকথা:
বাংলার দার্শনিক গোবিন্দ চন্দ্র দেব বুদ্ধের মানবিক দর্শনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন—
“Buddha claimed that he was a human being struggling for peace, not a God. He reveals himself as a humanist in our sense of the world.” (Dev, G.C 1969)

বুদ্ধের নীতিসমূহ কোনো বিশেষ সম্প্রদায়, গোষ্ঠী বা জাতির জন্য সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর সমাজদর্শন সমগ্র মানবজাতির কল্যাণকেই লক্ষ্য করে গড়ে উঠেছে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—প্রতিটি স্তরে শান্তি, সংহতি, ন্যায় ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠায় সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
বর্তমান বিশ্বে বিভেদ, হিংসা, অনৈতিকতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে বুদ্ধপ্রদত্ত এই নীতিগুলো মানবসমাজের জন্য এক অনন্য দিকনির্দেশনা হতে পারে। ঐক্য, গণতান্ত্রিক চেতনা, নারীসম্মান, প্রবীণদের মর্যাদা, সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং গুণীজনের সমাদর—এসব মূল্যবোধের বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমেই একটি সুসংহত, প্রগতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সুতরাং, সপ্ত অপরিহানীয় ধর্মকে কেবল ধর্মীয় অনুশাসন হিসেবে নয়, বরং একটি মানবিক, নৈতিক ও সুসংগঠিত সমাজব্যবস্থা নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ দর্শন হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র:

১. ধর্মরত্ন, রাজগুরু। (১৯৪১)। মহাপরিনিব্বান সুত্তং (পৃ. ৯–১১)। চট্টগ্রাম: শ্রীঅন্নপূর্ণা বড়ুয়া।
২. ধর্মরত্ন, রাজগুরু। (১৯৬২)। দীর্ঘনিকায় (১ম খণ্ড)। চট্টগ্রাম: সুধাংশু বিমল বড়ুয়া।
৩. বড়ুয়া, সলিল বিহারী। (১৯৯৯)। প্রবন্ধ সম্ভার (১ম খণ্ড, পৃ. ১৮)। চট্টগ্রাম: অনিমা রাণী বড়ুয়া ও বাদল বড়ুয়া।
৪. Dev, G. C. (1969). Buddha, the humanist. Dhaka: Paramount Publishers.

সংবাদটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ জাতীয় আরো খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • বৃহস্পতিবার (রাত ১১:৪৩)
  • ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)

জ্ঞানঅন্বেষণ © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।