1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে
  3. asyrvwvn@tacoblastmail.com : NARYTHY496NEHTYHYHTR :
  4. sumibaruasushmita@gmail.com : Sumi barua :
১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| রবিবার| রাত ৪:১১
শিরোনামঃ
মা-বাবা: জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ — বৌদ্ধধর্মের আলোকে এই আলোচনা পঞ্চশীল বা পঞ্চনীতিই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারে! চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন ভদন্ত মহাস্থবির ড. এস. লোকজিৎ ভিক্ষু পাপগ্রস্ত মানুষের দুঃখ ও মৃত্যুমুখে পতন: বাংলায় থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : উৎপত্তি, বিকাশ ও পুনর্জাগরণ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উদ্‌যাপন করলেন বৌদ্ধ যুব পরিষদ, রাংগুনিয়া শাখা গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহারে ৮ দিনব্যাপী ফ্রি বিদর্শন ভাবনা অনুশীলন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন পাট্ঠান পাঠের উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা আদর্শবান নীতিপরায়ণ সন্তানই মহাসম্পদ এবং পিতামাতার উত্তম আশীর্বাদ বৌদ্ধ বিহারের মালিকানা ও পরিচালনা: বিনয় সম্মত আলোচনা

মা-বাবা: জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ — বৌদ্ধধর্মের আলোকে এই আলোচনা

ধর্মদূত স্থবির এম ধর্মবোধি ভিক্ষু
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬,
  • 3 বার দেখা হয়েছে

মা-বাবা: জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ — বৌদ্ধধর্মের আলোকে এই আলোচনা


কলমে— ধর্মদূত স্থবির এম. ধর্মবোধি ভান্তে

প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুঠির, পুরাতন চান্দগাঁও।

অধ্যক্ষ, গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহার, হাটহাজারী,

প্রকাশক ও সম্পাদক, জ্ঞান অন্বেষণ নিউজ


মানুষের জীবনে সম্পদের সংজ্ঞা বহুমাত্রিক। কেউ ধন-সম্পদকে সর্বোচ্চ মনে করে, কেউ জ্ঞানকে, কেউবা ক্ষমতা ও খ্যাতিকে। কিন্তু এই সমস্ত পার্থিব অর্জনের ঊর্ধ্বে যে সম্পদটি সর্বাধিক মূল্যবান, সর্বাধিক পবিত্র এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় পূর্ণ—তা হলো মা ও বাবা। বৌদ্ধধর্মের দৃষ্টিতে মা-বাবা শুধু পারিবারিক সম্পর্কের অংশ নন; তারা সন্তানের জীবনের মূল ভিত্তি, কল্যাণের পথপ্রদর্শক এবং এক প্রকার জীবন্ত আশীর্বাদ।

গৌতম বুদ্ধ তাঁর বাণীতে মা-বাবার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চাসনে প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেছেন, “মাতা-পিতা সন্তানের জন্য ব্রহ্মা সদৃশ।” এই উক্তির গভীর তাৎপর্য রয়েছে। ব্রহ্মা এখানে সৃষ্টিকর্তা অর্থে নয়, বরং সীমাহীন মৈত্রী (মেত্তা) ও করুণার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। মা-বাবা সন্তানের জন্য যে ভালোবাসা ও ত্যাগ স্বীকার করেন, তা নিঃস্বার্থ, শর্তহীন এবং অনন্ত।

বৌদ্ধ গ্রন্থ অঙ্গুত্তর নিকায়-এ উল্লেখ রয়েছে যে, মা-বাবা সন্তানের “প্রথম গুরু”। তারা সন্তানকে শুধু ভাষা বা আচরণ শেখান না; তারা তাকে মানবিকতা, নৈতিকতা এবং জীবনের মৌলিক মূল্যবোধ শেখান। শিশুর প্রথম হাসি, প্রথম শব্দ, প্রথম পদক্ষেপ—সবকিছুর পেছনে থাকে মা-বাবার অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস যত্ন। এই কারণে বৌদ্ধধর্মে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকে একটি মহান ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে কোমল ও গভীর অনুভূতি। তিনি নিজের দুঃখ-কষ্ট ভুলে গিয়ে সন্তানের সুখে হাসেন, সন্তানের কষ্টে কাঁদেন। অন্যদিকে, বাবা নীরবে সংগ্রাম করেন, নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়েন। বৌদ্ধধর্ম এই ত্যাগকে “অপরিমেয় ঋণ” হিসেবে বিবেচনা করে। এমনকি গৌতম বুদ্ধ বলেছেন—যদি কেউ সারাজীবন কাঁধে করে মা-বাবাকে বহন করে, তবুও তাদের ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়। এই উক্তি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব সীমাহীন এবং গভীর।

বৌদ্ধধর্মে গৃহস্থ জীবনের নৈতিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিগালোভাদ সুত্র-এ সন্তানের কর্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—সন্তানকে মা-বাবার ভরণপোষণ করতে হবে, তাদের সম্মান করতে হবে, তাদের কাজকর্মে সাহায্য করতে হবে এবং তাদের মৃত্যুর পর পুণ্য উৎসর্গ করতে হবে। এই নির্দেশনাগুলো শুধু ধর্মীয় উপদেশ নয়; এগুলো মানবিকতার সর্বোচ্চ প্রকাশ।

অন্যদিকে, যে ব্যক্তি মা-বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় তাদের অবহেলা করে, সে প্রকৃত অর্থেই দুর্ভাগা। বৌদ্ধ দর্শনের অন্যতম মূলনীতি হলো কর্ম (কর্মফল)। মানুষ তার কর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ করে। মা-বাবার প্রতি অবজ্ঞা ও অবহেলা ভবিষ্যতে দুঃখ, অনুশোচনা এবং মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক মানুষ জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে উপলব্ধি করে—যে ভালোবাসা তারা অবহেলা করেছে, সেটিই ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

বৌদ্ধধর্মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো অনিত্য—এই পৃথিবীর সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী। মা-বাবাও এর ব্যতিক্রম নন। একদিন তারা আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, আর তখন তাদের শূন্যতা আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অনুভূত হবে। সেই শূন্যতা কোনো সম্পদ, কোনো সম্পর্ক বা কোনো অর্জন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই বুদ্ধের শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—যতদিন তারা আমাদের মাঝে আছেন, ততদিন তাদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও যত্ন প্রদর্শন করা আমাদের সর্বোচ্চ কর্তব্য।

প্রকৃত কৃতজ্ঞতা শুধু কথায় নয়, কাজে প্রকাশ পায়। বৌদ্ধধর্মে বলা হয়, মা-বাবার প্রতি সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপায় হলো নিজেকে সৎ, নৈতিক ও ধর্মপরায়ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। যখন সন্তান সৎ পথে চলে, অন্যের উপকার করে এবং ধর্মমতে জীবনযাপন করে, তখন সেটিই মা-বাবার জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দ ও গর্বের কারণ হয়ে ওঠে।

পরিশেষে বলা যায়, মা-বাবা শুধু আমাদের জীবনের একটি অংশ নন; তারা আমাদের অস্তিত্বের মূল। তাদের সেবা করা, তাদের ভালোবাসা দেওয়া এবং তাদের সন্তুষ্ট রাখা—এটাই আমাদের জীবনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ। তাদের আশীর্বাদই আমাদের জীবনে শান্তি, সফলতা এবং প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনে। তাই আমাদের উচিত, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তাদের মূল্য উপলব্ধি করা এবং তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। কারণ, মা-বাবার সন্তুষ্টির মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের প্রকৃত সফলতা ও পরম শান্তির চাবিকাঠি।

সংবাদটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ জাতীয় আরো খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার (রাত ৪:১১)
  • ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)

জ্ঞানঅন্বেষণ © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।