1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে
  3. asyrvwvn@tacoblastmail.com : NARYTHY496NEHTYHYHTR :
  4. sumibaruasushmita@gmail.com : Sumi barua :
১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শনিবার| দুপুর ২:০৫
শিরোনামঃ
পঞ্চশীল বা পঞ্চনীতিই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারে! চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন ভদন্ত মহাস্থবির ড. এস. লোকজিৎ ভিক্ষু পাপগ্রস্ত মানুষের দুঃখ ও মৃত্যুমুখে পতন: বাংলায় থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : উৎপত্তি, বিকাশ ও পুনর্জাগরণ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উদ্‌যাপন করলেন বৌদ্ধ যুব পরিষদ, রাংগুনিয়া শাখা গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহারে ৮ দিনব্যাপী ফ্রি বিদর্শন ভাবনা অনুশীলন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন পাট্ঠান পাঠের উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা আদর্শবান নীতিপরায়ণ সন্তানই মহাসম্পদ এবং পিতামাতার উত্তম আশীর্বাদ বৌদ্ধ বিহারের মালিকানা ও পরিচালনা: বিনয় সম্মত আলোচনা বৌদ্ধ দর্শনে অরহৎ চিনার উপায়

পঞ্চশীল বা পঞ্চনীতিই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারে!

ধর্মদূত স্থবির এম ধর্মবোধি ভিক্ষু
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬,
  • 44 বার দেখা হয়েছে

পঞ্চশীল বা পঞ্চনীতিই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারে!


কলমে-  ধর্মদূত স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে

প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ,

শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুঠির,

পুরাতন চান্দগাঁও।

অধ্যক্ষ, গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহার, হাটহাজারী


বৌদ্ধধর্মের মূল ভিত্তি হচ্ছে নৈতিকতা, সংযম এবং প্রজ্ঞা। এই নৈতিক জীবনের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে গৌতম বুদ্ধ মানবজাতির জন্য যে মহান দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন, তার মধ্যে পঞ্চশীল বা পঞ্চনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পঞ্চশীল কেবল ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং এটি মানব সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সহাবস্থানের এক সার্বজনীন নৈতিক বিধান। বর্তমান বিশ্বে যখন হিংসা, বিদ্বেষ, অসত্য, লোভ ও নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন পঞ্চশীলের শিক্ষা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এক অনন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।

পঞ্চশীলের প্রথম নীতি হলো প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকা। অর্থাৎ কোন জীবের প্রতি হিংসা বা আঘাত না করা। এই নীতির চর্চা মানুষের মধ্যে করুণা ও মৈত্রীর বিকাশ ঘটায়। যদি ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্র এই নীতিকে গ্রহণ করে, তবে যুদ্ধ, সন্ত্রাস, হত্যা এবং নির্যাতনের মতো ভয়াবহ কর্মকাণ্ড হ্রাস পাবে। মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা বৃদ্ধি পেলে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি হবে, যা বিশ্বশান্তির অন্যতম ভিত্তি।

দ্বিতীয় নীতি হলো চুরি বা অন্যের সম্পদ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। এই নীতি সমাজে ন্যায়পরায়ণতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে। যখন মানুষ অন্যের অধিকারকে সম্মান করে, তখন সমাজে বৈষম্য, দুর্নীতি ও শোষণ কমে যায়। বিশ্বে অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং লোভের কারণে যে সংঘাত সৃষ্টি হয়, পঞ্চশীলের এই নীতি তা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তৃতীয় নীতি হলো কু-কাম বা অবৈধ যৌনাচার থেকে বিরত থাকা। এটি ব্যক্তি ও সমাজে শৃঙ্খলা, মর্যাদা এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে সাহায্য করে। পরিবার ও সামাজিক কাঠামো সুদৃঢ় হলে সমাজে স্থিতিশীলতা আসে, যা বৃহত্তর শান্তির জন্য অপরিহার্য। এই নীতির মাধ্যমে নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক ভাঙন এবং সামাজিক অস্থিরতা হ্রাস পায়।

চতুর্থ নীতি হলো মিথ্যা কথা বলা থেকে বিরত থাকা। সত্যবাদিতা একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি। যখন মানুষ সত্য কথা বলে এবং প্রতারণা থেকে দূরে থাকে, তখন পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে ওঠে। রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক—সবক্ষেত্রে সত্যের চর্চা হলে সংঘাত কমে এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বশান্তির জন্য সত্য ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

পঞ্চম নীতি হলো মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে বিরত থাকা। মাদক মানুষের বিবেক, বিচারবুদ্ধি এবং আত্মনিয়ন্ত্রণকে ধ্বংস করে। এর ফলে সহিংসতা, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পায়। যদি ব্যক্তি নেশামুক্ত জীবনযাপন করে, তবে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। এই নীতি মানসিক সুস্থতা ও নৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করে, যা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য অপরিহার্য।

পঞ্চশীলের এই পাঁচটি নীতি মূলত ব্যক্তির আত্মশুদ্ধি থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত প্রভাব ফেলে। যখন একজন ব্যক্তি এই নীতিগুলো অনুসরণ করে, তখন তার চরিত্র উন্নত হয়। অনেক ব্যক্তি মিলে একটি নৈতিক সমাজ গড়ে ওঠে, আর নৈতিক সমাজই শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র ও বিশ্ব গঠনের ভিত্তি। তাই পঞ্চশীল কেবল ব্যক্তিগত আচার নয়, বরং এটি একটি সার্বজনীন নৈতিক দর্শন, যা মানবজাতিকে সংঘাত থেকে সহযোগিতার পথে নিয়ে যেতে সক্ষম।

বর্তমান বিশ্বে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জাতিগত বিভেদের কারণে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে পঞ্চশীল একটি নিরপেক্ষ ও মানবিক সমাধান প্রদান করে। এটি কোন নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য এক সার্বজনীন নৈতিক বিধান। যদি বিশ্ববাসী এই নীতিগুলোকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে, তবে সহিংসতা, অসত্য, লোভ ও নৈতিক অবক্ষয় দূর হয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

অতএব, বলা যায় যে, পঞ্চশীল কেবল ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং এটি বিশ্বশান্তির এক কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পথ। ব্যক্তি থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র, এবং রাষ্ট্র থেকে বিশ্ব—সকল স্তরে এই নীতির চর্চা বিশ্বকে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার পথে এগিয়ে নিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ জাতীয় আরো খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার (দুপুর ২:০৫)
  • ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)

জ্ঞানঅন্বেষণ © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।