1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে
  3. asyrvwvn@tacoblastmail.com : NARYTHY496NEHTYHYHTR :
  4. sumibaruasushmita@gmail.com : Sumi barua :
১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বুধবার| বিকাল ৫:৩০

প্রজ্ঞা কথা কি? বর্ণনা করছি- পড়ুন এবং জানুন জ্ঞান অন্বেষণ করুন

স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৭, ২০২৫,
  • 502 বার দেখা হয়েছে
Oplus_131072

প্রজ্ঞা কথা কি? বর্ণনা করছি- পড়ুন এবং জানুন জ্ঞান অন্বেষণ করুন


কলমে- স্থবির এম. ধর্মবোধি ভিক্ষু
উদ্যোক্তা- শ্রদ্ধালংকার ইন্টারন্যাশনাল বুর্ড্ডিস্ট মেডিটেশন সেন্টার,
অধ্যক্ষ- গুমানমদ্দন শান্তি বিহার।


অভিজ্ঞার ভিত্তিতে প্রাপ্ত সুফলগুলোর মাধ্যমে দৃঢ়তর সমাধি ভাবনা সমন্বিত ভিক্ষু কর্তৃক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি হন শীলে প্রতিষ্ঠিত, শমথ ও বিদর্শন ভাবনায় নিরত কথাটিতে চিত্তকে মুখ্য করে নির্দেশিত সমাধি সকল প্রকারে ভাবিত হয়েছে, এরপরে তাই তার প্রজ্ঞা ভাবনা করা উচিত। কিন্তু সেটি অত্যন্ত সংক্ষেপে দেশিত হওয়ার কারণে তা জানাও সহজ নয়, ভাবনা তো দূরের কথা। সে-কারণে তার বিস্তারিত ভাবনাপদ্ধতি দেখানোর জন্য এই প্রশ্নগুলো করা হচ্ছে।

প্রজ্ঞা কী? কোন অর্থে প্রজ্ঞা? তার লক্ষণ, কাজ, প্রকাশ, ভিত্তি কী? প্রজ্ঞা কয় প্রকার? কীভাবে ভাবনা করা উচিত? প্রজ্ঞাভাবনার সুফল কী কী?

এই প্রশ্নগুলি উত্তর সরল ভাষায় বলি
প্রজ্ঞা বহু ধরনের, নানা প্রকারের হয়, এর সবগুলোকে ব্যাখ্যা করতে গেলে ঈপ্সিত উত্তরের ক্ষেত্রে তা কোনো কাজে আসবে না, বরং আরো বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে যাবে। তাই এখানে ঈপ্সিত উত্তরকে উদ্দেশ্য করেই আমরা বলব যে, কুশলচিত্ত সংযুক্ত বিদর্শন জ্ঞানই হচ্ছে প্রজ্ঞা।

কোন অর্থে প্রজ্ঞা বলবো জানেন ? প্রকৃতভাবে জানা অর্থে প্রজ্ঞা। এই প্রকৃতভাবে জানাটা কী? এটি হচ্ছে সংক্ষিপ্তভাবে জানা এবং বিশেষভাবে জানা থেকেও বিশিষ্টভাবে নানাপ্রকারে জানা। জানার দিক দিয়ে সংজ্ঞা, বিজ্ঞান ও প্রজ্ঞা সমান হলেও সংজ্ঞা কোনো একটা বিষয়বস্তুকে কেবল “নীল হলদে” হিসেবে সংক্ষিপ্তভাবে জানে। কিন্তু এটি সেই বিষয়বস্তুর “অনিত্য দুঃখ অনাত্ম” লক্ষণগুলোকে ভেদ করতে পারে না। বিজ্ঞান তার বিষয়বস্তুকে “নীল হলদে” হিসেবে জানে, লক্ষণগুলোকেও ভেদ করতে পারে। কিন্তু উদয় ব্যয় জ্ঞানগুলোকে ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে মার্গের আবির্ভাব করাতে পারে না। প্রজ্ঞা উপরোক্ত প্রকারে বিষয়বস্তুকেও জানে, লক্ষণগুলোকেও ভেদ করে, মার্গও আবির্ভূত করায়।

যেমন এক অবোধ বালক, একজন গ্রাম্য ব্যক্তি এবং একজন স্বর্ণকার এই তিনজন কোনো স্বর্ণপাতের উপরে রাখা স্বর্ণমুদ্রার স্তূপকে দেখে। তাদের মধ্যে অবোধ বালকটি সেই স্বর্ণমুদ্রাগুলোর কেবল চিত্রবিচিত্র ভাব, লম্বা, চারকোণা, গোলাকার ভাব জানে, কিন্তু “এটি মানুষদের উপভোগ ও পরিভোগের জন্য মূল্যবান” বলে জানে না। গ্রাম্য ব্যক্তি সেগুলোর চিত্রবিচিত্রভাব ইত্যাদিকে জানে, “এটি মানুষদের উপভোগ ও পরিভোগের জন্য মূল্যবান” বলেও জানে, কিন্তু “এটি খাঁটি স্বর্ণমুদ্রা, এটি নকল, এটি অর্ধেক মূল্যমানের” এভাবে বিভিন্ন প্রকারে জানে না। স্বর্ণকার এগুলোকে সকল প্রকারে জানে, জানার সময়ও স্বর্ণমুদ্রাকে দেখে জানে, তাদের পরস্পর আঘাতের শব্দ শুনে জানে, গন্ধ নিয়ে জানে, স্বাদ অনুভব করে জানে, হাত দিয়ে ধরেও জানে যে এটা অমুক নামক গ্রামে, মফস্বলে, শহরে, পর্বতে বা নদীতীরে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং অমুক আচার্যের দ্বারা করা হয়েছে।

এই উপমাটাকে নিম্নোক্তভাবে বুঝতে হবে- সংজ্ঞা হচ্ছে অবোধ বালকের স্বর্ণমুদ্রা দেখার মতো, যা কেবল নীল ইত্যাদির ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর বাহ্যিক ভাবটাকে গ্রহণ করে। বিজ্ঞান হচ্ছে গ্রাম্য ব্যক্তির স্বর্ণমুদ্রা দেখার মতো, যা নীল ইত্যাদির ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর বাহ্যিক ভাবটাকে গ্রহণ করে এবং তদুপরি অনিত্যাদি লক্ষণকেও ভেদ করে। প্রজ্ঞা হচ্ছে স্বর্ণকারের স্বর্ণমুদ্রা দেখার মতো, যা নীল ইত্যাদির ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর বাহ্যিক ভাবটাকে গ্রহণ করে, এর অনিত্যাদি লক্ষণকে ভেদ করে, তদুপরি মার্গ আবির্ভূত করায়। সে-কারণে এটি হচ্ছে সংক্ষিপ্তভাবে জানা এবং বিশেষভাবে জানার থেকেও বিশিষ্টভাবে নানাপ্রকারে জানা। এটিই প্রকৃতভাবে জানা বলে বুঝতে হবে। একে উদ্দেশ্য করেই বলা হয়েছে, “প্রকৃতভাবে জানা অর্থে প্রজ্ঞা।”

তবে যেখানে সংজ্ঞা ও বিজ্ঞান থাকে, সেখানেই প্রজ্ঞা থাকবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু যখন থাকে, তখন সেটি সেই বিষয়গুলো থেকে আলাদা হয়ে থাকে না। সেখানে “এটি সংজ্ঞা, এটি বিজ্ঞান, এটি প্রজ্ঞা” এভাবে আলাদা করে না থাকার কারণে এটি বড়ই সূক্ষ্ম, দেখা কঠিন। তাই নাগসেন ভন্তে বলেছিলেন, “ভগবান বড়ই কঠিন কাজ করেছেন।” – ভন্তে নাগসেন, ভগবান কী কঠিন কাজ করেছেন? “মহারাজ, ভগবান বড়ই কঠিন কাজ করেছেন, কারণ তিনি একটি বিষয়বস্তুতে চলতে থাকা অরূপী চিত্ত ও চৈতসিক বিষয়গুলোকে বিশ্লেষণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, এটি স্পর্শ, এটি বেদনা, এটি সংজ্ঞা, এটি চেতনা, এটি চিত্ত।” (মি.প্র.২.৭.১৬)

তার লক্ষণ, কাজ, প্রকাশ, ভিত্তি কী? এখানে প্রজ্ঞার লক্ষণ হচ্ছে ধর্ম বা বিষয়ের স্বভাবকে ভেদ করা। প্রজ্ঞার কাজ হচ্ছে ধর্ম বা বিষয়গুলোর স্বভাবকে ঢেকে রাখা মোহান্ধকারকে ধ্বংস করা। অসম্মোহ বা অবিমূঢ় ভাবে প্রজ্ঞা প্রকাশ পায়। “সমাহিত ব্যক্তি যথাযথভাবে জানে, দেখে” (অ.নি. ১০.২) এই কথাটি থেকে সমাধি হচ্ছে প্রজ্ঞার ভিত্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ জাতীয় আরো খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (বিকাল ৫:৩০)
  • ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)

জ্ঞানঅন্বেষণ © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।