1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে
  3. asyrvwvn@tacoblastmail.com : NARYTHY496NEHTYHYHTR :
  4. sumibaruasushmita@gmail.com : Sumi barua :
২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| শুক্রবার| সকাল ৬:২৫
শিরোনামঃ
কঠিন চীবর দানে অনুদান বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী স্ট্রোক প্রতিরোধে দৈনন্দিন জীবনযাপনে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলে মেসি’র পর কে হচ্ছেন অধিনায়ক বুদ্ধ দর্শনে চিন্তা বাক্য কর্ম ও দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান অনবদ্য পুণ্যকর্মের পথ বিপিএম (সাহসিকতা) পদকে ভূষিত অর্ণব বড়ুয়া মৃত্যুর সময় মানুষের মন কেমন হয় এবং মৃত্যু কত প্রকার পুনর্জন্ম আছে—বৌদ্ধ দর্শনের অবস্থান সুস্পষ্ট সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম: সংঘবদ্ধ জাতি ও আদর্শ সমাজ গঠনের বৌদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি সম্মান আয়নার মতো—আপনি যেমন দেবেন, তেমনই ফিরে পাবেন নিজের মন-চিত্তকে জানা: বুদ্ধদর্শনের আলোকে আত্ম-পর্যবেক্ষণ ও সত্য উপলব্ধি

কাউকে বড় বা ছোট করার জন্য নয়! আমি শুদু আমার মনের অনুভূতিগুলি প্রকাশ করছি

ধর্মদূত স্থবির এম ধর্মবোধি ভিক্ষু
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ সোমবার, মে ১১, ২০২৬,
  • 218 বার দেখা হয়েছে

কাউকে বড় বা ছোট করার জন্য নয়! আমি শুদু আমার মনের অনুভূতিগুলি প্রকাশ করছি


কলমে-
ধর্মদূত স্থবির এম. ধর্মবোধি ভান্তে,

অধ্যক্ষ, গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহার, হাটহাজারি,

প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ,

শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুঠির, পুরাতন চান্দগাঁও।


ভিক্ষু জীবন মানবজীবনের সর্বোচ্চ আদর্শগুলোর একটি—যেখানে ত্যাগ, সংযম, করুণা, মৈত্রী, শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞা একত্রে বিকশিত হওয়ার কথা। ভিক্ষু মানেই এমন এক সাধক, যিনি সংসারের মোহ-মায়া ত্যাগ করে সত্য, ন্যায় ও মুক্তির পথে নিজেকে নিবেদিত করেন। কিন্তু অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও সত্য—বর্তমান সময়ে এই পবিত্র জীবনের ভেতরে নানা অবক্ষয়, দ্বন্দ্ব ও অনৈতিকতার ছায়া স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

যদি ভিক্ষু হয়ে কামড়া-কামড়ি, দলাদলী, হিংসা, মানসিক আঘাত দেওয়া, নোংরা আচরণ, এমনকি হাতাহাতির মতো পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়তে হয়—তবে সেই জীবন আর সাধনার পথ থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে আরেকটি সংঘাতপূর্ণ পার্থিব জীবন। ভিক্ষুর জীবনে যেখানে থাকা উচিত ছিল সহনশীলতা, সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রতিহিংসা; যেখানে থাকা উচিত ছিল মৈত্রী, সেখানে জন্ম নিচ্ছে বিভেদ; যেখানে থাকা উচিত ছিল নীরব সাধনা, সেখানে চলছে উচ্চস্বরে বিরোধ ও ক্ষমতার লড়াই। এই বাস্তবতা শুধু দুঃখজনক নয়, বরং সদ্ধর্মের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।

আরও বড় প্রশ্ন হলো—যদি একজন ভিক্ষুকে ভণ্ড, অসাধু বা অনৈতিক ব্যক্তিদের সামনে মাথা নত করতে হয়, তাদের অন্যায় নির্দেশ মেনে চলতে হয়, কিংবা তাদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়—তবে সেই ভিক্ষু জীবনের মর্যাদা কোথায়? একজন ভিক্ষু কি সত্যের পক্ষে দাঁড়াবেন, নাকি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবেন? যদি আপসই করতে হয়, তবে ভিক্ষু ও সাধারণ গৃহীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কোথায় রইল?

আমরা আজ এমন এক যুগে বসবাস করছি, যেখানে ধর্মের প্রকৃত চর্চার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে বাহ্যিকতা, প্রভাব, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও ক্ষমতার দখলদারিত্ব প্রাধান্য পাচ্ছে। ধর্ম যেন ধীরে ধীরে এক প্রকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে, যেখানে সেবা ও সাধনার চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারই মুখ্য হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ ধর্ম যদি তার মৌলিক চেতনাকে হারায়, তবে সমাজও তার নৈতিক ভিত্তি হারায়।

ত্রিপিটক—যা বৌদ্ধ ধর্মের মূল ভিত্তি—তার প্রতি অনাগ্রহও একটি বড় সংকটের লক্ষণ। যদি ভিক্ষু, ধর্মীয় নেতা বা বিহার কমিটির সদস্যদের কাছে ত্রিপিটকের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর নাম ও তাদের সারবস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, এবং তারা যদি তার সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হন—তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ, যারা ধর্মের পথপ্রদর্শক, তাদের মধ্যেই যদি ধর্মজ্ঞান অনুপস্থিত থাকে, তবে তারা অন্যদের কীভাবে সঠিক পথ দেখাবেন?

একইভাবে, ধ্যানচর্চা—যা বৌদ্ধ সাধনার প্রাণ—সেটিও অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত। টানা কয়েক বছর ধরে গভীর ধ্যানচর্চা করা তো দূরের কথা, নিয়মিত ধ্যান করার অভ্যাসও অনেকের মধ্যে নেই। পঞ্চশীল পালন, যা একজন বৌদ্ধের ন্যূনতম নৈতিক ভিত্তি, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে রক্ষা করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যায়। এই অবস্থায় প্রশ্ন জাগে—শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞা ছাড়া কি কখনও সদ্ধর্মকে উপলব্ধি করা সম্ভব?

যারা নিজেরাই সদ্ধর্মের চর্চা করেন না, তাদের দ্বারা সদ্ধর্মের শিক্ষা কতটা সঠিক ও কার্যকর হতে পারে—এটি আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। তারা কাদের মূল্যায়ন করছেন, কাদের সমর্থন দিচ্ছেন, এবং কাদের অবমূল্যায়ন বা ধ্বংস করছেন—এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা জরুরি। কারণ, নেতৃত্বের অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড পুরো সমাজকে প্রভাবিত করে।

আজ সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রশ্ন করতে হবে—আমি কি সত্যিই ধর্মকে ধারণ করছি, নাকি শুধু তার বাহ্যিক রূপ অনুসরণ করছি? আমি কি শীল পালন করছি? আমি কি নিয়মিত ধ্যানচর্চা করছি? আমি কি ত্রিপিটকের শিক্ষা জানার চেষ্টা করছি?

সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। যদি এখনই আমরা সচেতন না হই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি বিকৃত ও দুর্বল ধর্মীয় ভিত্তি পাবে, যা তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবে না। অতএব, এখনই জেগে ওঠার সময়।
ত্রিপিটক অধ্যয়ন করুন—কারণ সেখানেই রয়েছে সত্যের মূল উৎস।
শীলকে ধারণ করুন—কারণ সেটিই নৈতিকতার ভিত্তি।

ধ্যানচর্চা করুন—কারণ সেটিই মনকে পরিশুদ্ধ করে এবং প্রজ্ঞার দ্বার উন্মুক্ত করে।
নিজেকে সংশোধন করুন, অন্যকে নয়; সত্যকে ধারণ করুন, মিথ্যাকে নয়; সদ্ধর্মকে জীবনে বাস্তবায়ন করুন, কেবল কথায় নয়। তাহলেই ব্যক্তি, সমাজ ও ধর্ম—তিনটিই সঠিক পথে এগিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ জাতীয় আরো খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার (সকাল ৬:২৫)
  • ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল)

জ্ঞানঅন্বেষণ © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।