২০২৪ সনে কঠিন চীবর ও প্রবারণা নিয়ে তর্ক ও বিতর্ক

স্থবির এম. ধর্মবোধি ভান্তে, প্রকাশক, অনুবাদ ও সম্পাদক
কঠিন চীবর দান একটি আনন্দঘন জ্ঞাতী সম্মেলন ও দানময় পুণ্যনুষ্ঠা। থেরবাদ বাঙ্গালী বৌদ্ধদের একটি সংস্কতি মাত্র। ইহা করলে দানপারমী পুরন হয়।
না করলেও কোন পাপ বা অপরাধ হয় না ।
কঠিন চীবর দান না করলেও আমাদের ক্ষতি হবে, সম্মান নষ্ট হবে এমন কথাগুলি অজ্ঞানী মাত্র বলে থাকে, ধর্ম দর্শনের সাথে এই কথাগুলির কোন সম্পর্ক নাই। শুদু মাত্র কঠিন চীবর দান করে বৌদ্ধরা পুণ্যসাগরে ভেসে নির্বাণ চলে যাবেন এমন কোন কথা কোনগ্রন্থে লিপিবদ্ধ নাই! পৃথিবীর বহু বৌদ্ধ প্রধান দেশে কঠিন চীবর দানকে এতগুরুত্ব দেয় না এবং কঠিন চীবর দানের কোন নামগন্ধও নাই। কঠিন চীবর দান কি সেইটিও তারা জানে না।
কঠিন চীবর দানে ভিক্ষু ও দায়কদের যে ৫টি ফল লাভ হয় বলে উল্লেখ আছে সেই ৫টি পুণ্যফল প্রয়োজন আছে তবে বিনয় বিধান ও ভিক্ষু পাতিমোক্ষ শীলের থেকে ৫ফল গুরুত্ববহ নয়।
বুদ্ধ, আর্দশবান ও নিতিবান এবং প্রজ্ঞাবান হয়ে বিনয় সম্মত জীবন গঠন করতে বলেছে এবং লোভ, দেষ, মোহ ক্ষয় করতে বলেছেন। ভিক্ষুদের শীল, সমাধী ও প্রজ্ঞার অনুশীল তথা দায়ক-দায়িকাদের দান, শীল ও ভাবনার কথা বলেছেন সুতরাং ভিক্ষু গৃহীদের এই পদ অবলম্বন করলে কঠিন চীবর দানের কোন প্রয়োজন হয় না।
আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে কঠিন চীবর দান করতে হবে এমন কোন রিতি নিতি বা বাধ্যবাদকতা ত্রিপিটকে উল্লেখ নাই। ইহা খুবই সংক্ষপে কোন ডাকঢোল না বাজিয়ে ৬-৮জন ভিক্ষু ফাং করে সংঘের উপস্থিত করে সীমা ঘরে কঠিন চীবর কাঠিনা করে বিনয় কর্ম শেষ করেও ঘরোয়া পরিবেশে কঠিন চীবরদান করা যায় এবং এইটি শতভাগ সঠিক হবে।
সুতরাং এই বিষয়ে জ্ঞানী মাত্রই বিচার করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, কঠিন চীবর দান করবেন কিংবা করবেন না।
বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি বা গোলযোগ চলছে, শতভাগ সংখ্যাগুরুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আঘাত করছে তারা, আবার তারা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না সেইখানে কি ভাবে সংখ্যালুগুদের নিরাপত্তা দিবে? সারাদেশে হিন্দু বৌদ্ধদের নিধন করছে গণহারে, দেশ ত্যাগ করতে হুমকি দিচ্ছে দিন দুপুরে, ঘর বাড়ি পুড়ে দিচ্ছে, সম্পদ লুন্টন করছে দিবালোকে, ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিচ্ছে ঠিক এই কঠিন সময়ে কিছু কিছু সিদ্ধান্ত চিন্তা ভাবনা করেই নেওয়া উচিত।
কঠিন চীবর দান করবেন কি করবেন না, প্রবারনায় ফাঁনুস উরাবেন কি উরাবেন না সেইটি একান্ত আপনাদের বিষয় তবে মনে রাখুন কঠিন চীবর দান বা প্রবারণার ফাঁনুস এই জাতীগুষ্ঠিকে রক্ষা করতে পারবে না।
বাঙ্গালী বৌদ্ধদের মাঝে ঐক্যহীনতা, দূরদর্শীতার অভাব, অযোগ্যতা, দুরশীলতা, প্রতিহিংসা, পরশ্রীকাতরতা, নিজ দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদি ইত্যাদি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে সুতরাং নানাবিধ বড় বড় সমস্যা রেখে কঠিন চীবর দান করা আর প্রবারণা’র ফাঁনুস উরিয়ে ধর্ম ও জাতী রক্ষা করা সম্ভব নয়।