জ্ঞানতাপস ডঃ জিনবোধি মহাথের যুক্তরাজ্যে সফর ও বাংলাদেশী বৌদ্ধদের কিছু অর্জনঃ
যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ বিহার থাকলেও বাংলাদেশী বৌদ্ধদের কোন বিহার ছিলনা। বিহার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শক্তিশালী সংগঠন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে Bangladesh Buddhist Council UK নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। Bangladesh Buddhist Council UK এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম বিহার “বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহার ও ধ্যান কেন্দ্র ইউকে”।
২৩শে জুন ২০২৩সালে , Bangladesh Buddhist Council UK এর আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্য সফরে আসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যভাষা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান জ্ঞানতাপস অধ্যাপক ডঃ জিনবোধি মহাথের এবং ডঃ জিনবোধি মহাথের বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহার ও ধ্যান কেন্দ্র ইউকে’তে অবস্হান করেছিলেন।
যুক্তরাজ্যে অবস্থান কালে অনেক ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। ২০২৩ সালের ১লা জুলাই , যুক্তরাজ্যে শ্রীলংকান সংঘরাজবরণ অনুষ্ঠানে “বিশেষ আন্তর্জাতিক অতিথি” হিসাবে আমন্ত্রন করেন নব্য সংঘরাজ ডঃ হেমরত্ন থের। ডঃ জিনবোধি ভিক্ষু আন্তর্জাতিক সাংঘিক ব্যক্তিবর্গের সাথে বাংলাদেশকে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিনিধিত্ব করেন।
৬ই জুলাই ২০২৩, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম এর আমন্ত্রণে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহন করেন এবং ডঃ জিনবোধি মহাথের এর নেতৃত্বে Bangladesh Buddhist Council UK এর প্রতিনিধি দল। মাননীয় হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনীম থাইল্যান্ডে নিযুক্ত থাকার সময় হতেই বৌদ্ধ ধর্ম সম্মন্ধে অনুরক্ত ছিলেন। প্রায় ঘন্টা খানেক আলাপচরিতায় বাংলায় বৌদ্ধদের গৌরবপূর্ণ অতীত, বৌদ্ধ মনিষীদের জীবনকাহিনী অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেন। এই সময় শ্রদ্ধেয় ডক্টর জিনবোধি মহাথের হাই কমিশনার মহোদয়াকে তাঁর লিখিত বই উপহার প্রদান করেন। মাননীয়া হাই কমিশনার পূজনীয় ভন্তের পুস্তক বৃটিশ লাইব্রেরিতে রাখার প্রস্তাব পেশ করেন। যা শুধু বৌদ্ধদের নয়, সমগ্র বাংলাদেশীদের জন্য একটি মূল্যবান দলিল হিসাবে কাজ করবে।
৮ই জুলাই ২০২৩, ডঃ জিনবোধি ভান্তের ৬৩তম জন্মদিন পালন করা হয় বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহারে। এই শুভক্ষণে Bangladesh Buddhist Council UK দ্বারা ডঃ জিনবোধি ভান্তেকে সমাজে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘জ্ঞানতাপস’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে পূজনীয় ভন্তে দীর্ঘসময় ধর্মালোচনা করেন। বাংলাদেশ বৌদ্ধ বিহার ও ধ্যান কেন্দ্র ইউকে‘র দায়ক দায়িকারা ভন্তের জন্মদিন উপলক্ষ্যে অষ্ঠপরিষ্কার সহ সংঘদান করেন।
১৫ই জুলাই ২০২৩, লন্ডনের সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা স্যাটেলাইট চ্যানেল NTV এর সরাসরি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানানো হয় ডঃ জিনবোধি মহাথের ভান্তেকে, এই সময় ডক্টর জিনবোধি ভিক্ষুর সাথে উপস্হিত ছিলেন Bangladesh Buddhist Council UK এর সাধারন সম্পাদক সুমন বড়ুয়া চৌধুরী। আলোচ্য বিষয় ছিলঃ বিশ্বায়নের যুগে ধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্ব। উপস্থাপক ছিলেনঃ আদনান পাভেল। ঘন্টাখানেক লাইভ অনুষ্ঠান ভান্তে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে বৌদ্ধ ধর্মের অনুশীলন কতটুকু বিজ্ঞানমুখী তা বর্ণনা করেন। উল্লেখ্য, পশ্চিমা বিশ্বে বৌদ্ধ ধর্মের জনপ্রিয়তা ও পালন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, বিদর্শন ধ্যানধারীর সংখ্যা যুক্তরাজ্যে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১৬ই জুলাই ২০২৩, উত্তর ইংল্যান্ডের বৌদ্ধ পল্লী মিডলসবরার বাসিন্দাদের আমন্ত্রণে পুজনীয় ভিক্ষু সেখান ভ্রমন করেন। উল্লেখ্য, বৃহত্তর ইয়র্কশায়ার এলাকায় প্রায় ৫০ পরিবারের মতো বাংলাদেশী বৌদ্ধ পরিবার রয়েছে।
১৮ই জুলাই ২০২৩, বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জনাব মশিউর রহমান নেতৃত্বে একটি দল ওয়েস্ট মিনিষ্টার বৃটিশ পার্লামেন্টের হাউস অফ লর্ডসে একটি আলোচনা সভায় অংশগ্রহন করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্হিত ছিলেন ডঃ জিনবোধি মহাথের। এই আলোচনা সভায় আরো উপস্হিত ছিলেন, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম, আওয়ামীলীগ নেত্রী তারানা হালিম , আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার প্রশান্ত ভূষন বড়ুয়া ও Bangladesh Buddhist Council UK এর নেতৃবৃন্দ।
২০ শে জুলাই ২০২৩, সদ্ধর্মপ্রচারে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেরিয়েছেন ডঃ জিনবোধি ভিক্ষু। এসেক্স, কেন্ট কাউন্টিগুলোতে অবস্হানরত বৌদ্ধ পরিবারগুলো ডক্টর ভন্তের সান্নিধ্য পেয়ে ধন্য হয়েছে।
লন্ডনে টাওয়ার, বাকিংহাম প্যালেস, বৃটিশ লাইব্রেরী, হাইড পার্ক , বৃটিশ হিস্ট্রি লাইব্রেরী, বৃটিশ হিস্ট্রি জাদুঘর।
২২-২৪শে জুলাই ভান্তে ইংল্যান্ডের গিলিংহ্যামে ২ দিনের সফরে যান, সেখানে ইংলিশ প্রাথমিক স্কুল সফরে যান। ইংলিশ ছাত্র ছাত্রীরা পুজনীয় ভান্তেকে পেয়ে বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
২৭ জুলাই ২০২৩, যু্ক্তরাজ্যে শিশু কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তারলাভের জন্য ভান্তে $১০০০ ডলার শ্রদ্ধাদান প্রদান করেন এবং উক্তদিন মাসখানেক সদ্ধর্ম প্রচার করে পুজনীয় ভন্তে মাতৃভূমি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেন।
লেখকঃ সুমন বড়ুয়া চৌধুরী
মানবাধিকার কর্মী
একটিভ মেম্বার এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে
কমিউনিটি লিডার
বৃটিশ লেবার পার্টি
লন্ডন, ইউকে।
ও
সাধারন সম্পাদক
বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট কাউন্সিল ইউকে।