1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে
  3. asyrvwvn@tacoblastmail.com : NARYTHY496NEHTYHYHTR :
  4. sumibaruasushmita@gmail.com : Sumi barua :
১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বুধবার| বিকাল ৫:২৮

মহামান্য সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির ভান্তেকে সব বির্তকে’র উর্দ্ধে রাখুন

জ্ঞান অন্বেষণ ডেক্স
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ শনিবার, মে ৪, ২০২৪,
  • 611 বার দেখা হয়েছে

মহামান্য ১৩তম সংঘরাজ, শাসনশোভন অগ্রমহাপন্ডিত এবং পরিশুদ্ধ বিনয়শীল ব্যক্তিত্ব পরম পূজ্য ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির ভান্তেকে সকল বির্তকের উর্দ্ধে রাখুন। মনে রাখুন ভান্তে সর্বজন শ্রদ্ধেয় পূজনীয় ব্যক্তি।


কলমে- সত্যসারথি, স্থবির এম. ধর্মবোধি ভান্তে
উদ্যেক্তা- সংঘনায়ক শ্রদ্ধালংকার মেডিটেশন সেন্টার ও বৌদ্ধ বিহার।


মাননীয় ভিক্ষু সংঘ ও দায়ক দায়িকা সংঘ আপনারা সবাই অবগত আছেন বর্তমান সময় সন্ধিক্ষনে বাংলাদেশে ০.৬১% বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অবস্থান। এই অপ্ল বৌদ্ধ জনগৌষ্ঠী নানা সমস্যা ও জঠিলতা নিয়ে জর্জরিত এই বিষয়ে আমি আতংকৃত।

২০২২ সালে গনশুমারি গননা অনুয়ারি বাংলাদেশে ০.৬১% বর্তমান বৌদ্ধ ধর্মালম্বী রয়েছে। বড়ুয়া, উপজাতি, আদিবাসি, ক্ষুত্রনিগৌষ্ঠীসহ বৌদ্ধ ধর্ম আচরনকারীর সংখ্যা প্রায় ১০লক্ষ ৫০ হাজারের মত তার মধ্য বাঙ্গালী বড়ুয়া বৌদ্ধরা রয়েছে ৫ লক্ষ থেকেও কম। তাহলে চিন্তা করুন এই দেশে বৌদ্ধদের অস্তিত্ব আছে কিনা? প্রায় বিলোপ্ত হতে চলছে ৯২% মুসলিম দেশের বৌদ্ধ সম্পাদায়। যেই দেশে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম।

বর্তমান বৌদ্ধ সমাজ সন্ধিক্ষনে প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি বিহার ও সমাজ ব্যবস্থায় বিভাজন রয়েছে, খন্ড খন্ড ভাবে বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্তি রয়েছে বৌদ্ধ জনপদগুলি। সঠিক নিতি-নিধারকের অভাব রয়েছে, এমন কোন সমাজ নাই ধন্ধ, বিভাজন নাই, হিংসা নাই, বিদ্ধেষ নাই, প্রতিটি বৌদ্ধ জনপদ কমবেশি রেশারেসি, মারামারি, মামলা হামলা ইত্যাদি নানা সমস্যায় জর্জরিত। দুই একটি ভালো থাকলেও অধিকাংশ খারাবের কারনে ভালোগুলি কতদিন ভালো থাকবে সন্দেহ রয়েছে! আরো বিচার বিশ্লেষন করে দেখলাম বৌদ্ধদের জাতীয় স্বার্থে কঠোরভাবে হস্তক্ষেপ করবে, জাতীর কঠিন সময়ে জাতীকে ঐক্যবদ্ধ রাখবে এমন ত্যাগি, নিস্বার্থ, বুদ্ধিমান ব্যক্তি খুজে বের করা কঠিন, বলতে গেলে এমন ব্যক্তি নাই বল্লেই চলে।

আমি এম. ধর্মবোধি ভিক্ষু গতকিছু দিন ধরে নানা বিষয়ে বিভিন্ন ভাবে নানা সমিকরন এবং বৌদ্ধদের অতিত, বর্তমান ঘটনাগুলি নানা ভাবে বিশ্লেষন ও চিন্তা করে দেখেছি, ভিক্ষু সমাজ ও গৃহি সমাজ কঠিন সময় পার করছে এবং আমরা গভীর অন্ধকারে পদায়ন করছি।

যাই হোক উক্ত বিষয়গুলি আমার একান্তই মতামত মাত্র। দায়ক-দায়িকাগন নিজস্ব চিন্তা চেতনা, জ্ঞান গরিমায় উপরোক্ত কথাগুলি প্রয়োজন হলে চিন্তা করবেন। তবে আমি গভীর ভাবে চিন্তিত ও হতাশ হচ্ছি।

আমার বিষয় ছিলো পরম শ্রদ্ধেয় সংঘরাজ ভান্তে ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির মহোদয়কে নিয়ে বির্তক কেন করা হচ্ছে? শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে সকল বির্তকের উর্দ্ধে রাখা হোক।

শ্রদ্ধেয় জ্ঞানশ্রী ভান্তে মহান ভিক্ষু সংঘের রাজা, তিনি সঙ্ঘসভার সর্বাধীনায়ক, তিনি সংঘের মূকুট পরিহীত সংঘের রাজা। শ্রদ্ধেয় সংঘরাজ ভান্তে তার আপন মহিমায় একুশে পদক থেকে শুরু করে জাতীয় ও আন্তর্জীতিক ভাবে সর্বোচ্চ সম্মানে সর্বনিকায়ের, সর্বসঙ্ঘের সর্বাধীনায়কের সর্বচ্চো সম্মানে স্ব মহিমায় বিরাজমান রয়েছেন এবং একজন পরিশুদ্ধ ব্রতধারী বুদ্ধপুত্ররুপে শুদ্ধ জীবনাচারে অব্ভাস্ত এক অনন্য পুন্যপুরুধা বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সর্বচ্চো ধর্মীয়গুরু এবং ধর্মাধীরাজ সুতরাং পুজনীয় ভান্তে প্রাপ্তির কোন তুলনা হয় না এবং এমন পুণ্যপুরুষ অনন্তকাল সুস্থ ও নিরোগ জীবন লাভ করে আমাদের আর্শিবাদক হয়ে অবস্থান দীর্ঘকাল করুন।

চট্টগ্রাম নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহার চট্টগ্রাম শহরের একটি সু-প্রাচীন প্রতিষ্ঠিত বৌদ্ধ স্থাপনা, এখানে অবস্থান করেছেন বহুপুণ্য মনিষা এবং বর্তমানেও বহু অভিজ্ঞ,পন্ডিত গুণত্তোম ভিক্ষু সংঘের অবস্থান রয়েছে এই বিহারে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে একটি বিহার কখন পরিপূর্ণ্য বিহারের রুপ নেয় এবং ভিক্ষুআরাম হিসাবে প্রতিষ্ঠা হয়?

বিনয় পিটকের বিহার উৎসর্গে বলা রয়েছে
“এই বিহার চতুরদিক থেকে আগত অনাগত ভিক্ষু সংঘের উদ্দ্যশো দান করছি, মহান ভিক্ষু সংঘ এই বিহারে সুখে অবস্থান করুন”।

আমিও অন্তর থেকে চাই শ্রদ্ধেয় সংঘরাজ ভান্তে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে সর্বোচ্চো সম্মান নিয়ে রাজার সর্বচ্চো রাজ শক্তি প্রয়োগে চট্টগ্রাম নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে সর্বসম্মানে ফিরে আসুক এবং সর্বসুখে সর্ব ক্ষতায় অবস্থান করুক।

এখন কথা হচ্ছে চট্টগ্রাম নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে দীর্ঘদিন প্রর্যন্ত যে সমস্যা চলমান রয়েছে, যে সমস্যার কারনে সমগ্র বৌদ্ধ সমাজ ১৩খন্ডে বিভক্ত হয়ে রয়েছে, মামলা হামলা, মারামারি, ভিক্ষুদের লাঞ্চিত করা, ভিক্ষুদের গায়ে আঘাত করা, ভিক্ষুদের চীবর খোলে নিতে চেষ্টা করা, ভিক্ষুদের অসম্মান করা, ভিক্ষুদের চৌকিদারের মত আচরন করা ইত্যাদি ইত্যাদি নানা বির্তকে জরিয়ে আছে নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহার, এখন সেই বির্তকিত নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে সংঘের রাজা কতটুকু নিরাপদ? সংঘের রাজা কতটুকু সম্মান পাবেন? সংঘরাজ বির্তকিত হবেন নাতো? কেউ কেউ আবার সংঘরাজার মুকুট নিয়ে টানাটানি করবে নাতো? অষ্টম-নবম সংঘরাজ বির্তক আবার সৃষ্টি হবে নাতো? এই রকম শত প্রশ্ন আমার জিজ্ঞসা রয়েছে?

তবে তার আগে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারকে সঠিক বিনয় সম্মত বৌদ্ধ বিহার হিসাবে সঙ্ঘরাম হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা হোক। তথাগত বুদ্ধ বিহারকে বিনয় চর্চার উত্তম স্থান হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারসহ প্রতিটি বিহার সঠিক ভাবে সংঘের বিনয় সম্মতো আরাম তথা সংঘসম্পর্তি ঘোষনা করা হোক শর্তহীন ভাবে।

বুদ্ধ বিনয় মতে সকল প্রকার শর্ত ত্যাগ পৃর্বক আগত অনাগত ভিক্ষু সংঘের উদ্যেশে দাতাগন সংঘের হিত কল্যানে বিহার দান করেন ভিক্ষুসংঘ গহিতারুপে দান গ্রহন করেন, দান দেওয়ার পর দানীয় সম্পতির কোন দাবী করতে পারেন না দাতাগন। দাতাগন বিহার দানকরে অশেষ পুণ্যসম্পদ অর্জন করেছেন এবং দানকৃত এই মহাপুণ্য সম্পদের মালিকানায় থাকেন এবং এই মহাপুণ্যদ্বারা ব্রতি সুখী হন, দান করার পর দানীয় সম্পতির কোন মালিকানা দাবী করতে পারেন না তাদাগন, মালিকানা দাবী করলে সেই দানেরর ফল লাভ করা যায় না।

বুদ্ধ বলেন যে বিহার বা সংঘরাম শর্তযুক্ত ভাবে কেউ দাবী করে তাহলে সেই আর বিহার বা সংঘরাম থাকে না সেইটি গোয়াল ঘর হয়ে যায়।

বুদ্ধের এই বিনয় থেকে পরিস্কার ভাবে ধারনা গ্রহন করা যায় শর্তযুক্ত বির্তকীত বিহারে সর্বজন শ্রদ্ধেয় সংঘরাজ ভান্তেকে চলমান বির্তকে নিয়ে এসে সংঘরাজকে অসম্মান করা হবে নাতো?

শ্রদ্ধেয় সংঘরাজ ভান্তে প্রাচীন বৌদ্ধ জনবহুল পুণ্যভূমি শত বছরের ঐতিহাসিক বিনাজুরি শ্নাশান বিহারের আজীবন বিহারাধ্যক্ষ, সমগ্র বৌদ্ধ সমাজ যে ভাবে শ্রদ্ধেয় সংঘরাজ ভান্তেকে শ্রদ্ধা করেন, পুজা করেন তার থেকেও অধিক বিনাজুরি গ্রামবাসি শ্রদ্ধেয় সংঘরাজ ভান্তেকে শ্রদ্ধা ও পূজা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে ভান্তে সুস্থ আছেন, ভালো আছেন, নিরোগী আছেন এবং সম্মানে আছেন। শ্রদ্ধেয় সংঘরাজ ভান্তেকে আমার জম্মান্তরের পুণ্যরাশি দান করছি, ভান্তে অনন্তকাল সুস্থ দেহে সুন্দর মনে আমাদের আর্শিবাদক হয়ে অবস্থান করুন।
আমার মূল ব্যক্তব্য হচ্ছে চট্টগ্রাম নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ হিসাবে সংঘরাজ ভান্তে অবস্থান করুক তবে মামলা হামলা, বিতর্ক সহ নানা সমস্যা সমাধান না হওয়ার আগপ্রর্যন্ত ভান্তে বিনাজুরিতেই অবস্থান করুক এবং সমস্যার সমাধান হলে আলোচনা পৃর্বক সর্বসম্মানে সংঘরাজ ভান্তেকে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে নিয়ে আসা হোক।
জয়তু বুদ্ধের শাসনাম, বুদ্ধের শাসনের হয় হোক।

সংবাদটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ জাতীয় আরো খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (বিকাল ৫:২৮)
  • ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)

জ্ঞানঅন্বেষণ © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।