চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার এবং কিছু কথা
লেখক: স্থপতি বিজয় তালুকদার।
নন্দনকাননস্থ চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে নববর্ষের মঙ্গলকামী উপস্থিতির সুন্দর পরিসেবার জন্য গত পরশু ১৩ এপ্রিল রাতে ড. জিনবোধি ভন্তে ও ভিক্ষুসংঘ নিজ হাতে পরিচ্ছনতা ও টেবিল সাঁজানোর কাজ করেছেন। উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবকরাও সহায়তা করেছেন।
আমি মুগ্ধ হয়ে মুঠোফোনে স্মৃতি ধারন করে রেখেছি। সংঘ পরিচালিত বিহারে তো প্রাচ্য দেশে এভাবেই ভিক্ষু ও দায়ক মিলে স্বেচ্ছাসেবী হয়ে কাজ করে।
নন্দনকাননস্থ বিহারে এখন গৃহীদের কোন পরিচালনা কমিটি নেই, কোন স্টিয়ারিং কমিটি নেই। কোন নেতাগিরি নেই। ভিক্ষু ও গৃহী সবাই এখানে কর্মি। ভিক্ষু সংঘ ও দায়ক দায়িকাবৃন্দ যার যার দায়িত্ব স্বেচ্ছায় পালন করে ড. জিনবোধি ভন্তের সুসমন্বয়ে গতকাল নববর্ষের দিনব্যাপী মাংগলিক ধর্মাচরণ সকলে প্রশান্ত চিত্তে সুসম্পন্ন করলেন।
সকালে দায়ক দায়িকাবৃন্দ মংগল শোভাযাত্রা করলেন। বিহার প্রাংগন থেকে যাত্রা করে চেরাগী পাহাড় ঘুরে আবার বিহারে আসলেন।
সুবিশাল উপস্থিতির সবার অন্তরে জাগ্রত হয়েছিল নব আনন্দের ছাপ, বাধভাঁগার ছাপ, স্বাধীনতার ছাপ।
বয়স্ক মানুষজন দেখি ভন্তে ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ দিচ্ছেন এই বলে যে, ” আগে ত কষ্ট করে দোতলায় উঠতে হতো পঞ্চশীল মিতে ও বুদ্ধ প্রতিবিম্ব দর্শন করতে, এবার তো নীচ তলাতেই পঞ্চশীল নিতে পারলাম, বুদ্ধবিম্ব দর্শন করলাম। ”
আমার মা হার্টের পেশেন্ট। মাও গতকাল বিহার গিয়ে নীচতলায় পঞ্চশীল নিতে পারায় বাসায় এসে আমাকে বললেন, ” ভন্তেকে ধন্যবাদ, তোদেরও ধন্যবাদ। কষ্ট করে উপরে উঠতে হলো না। নীচেই পঞ্চশীল নিতে পেরেছি।”
নন্দনকাননস্থ চট্টগ্রাম বিহারে গতকাল জাতি ধর্ম নির্বিশেষে উপস্থিতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। আমার আগ্রাবাদস্থ ক্লায়েন্ট আকরাম ভাইয়ের সাথে দেখা বিহার প্রাংগনে গতকাল।
ডিসি হিলের অনুষ্ঠান দেখতে এসে তিনি বিহারে ঢুকলেন, বোধিবৃক্ষ ও রিচুয়াল দেখে মুগ্ধ হলেন।
এরকম অনেকেই এসেছেন, এসে মুগ্ধ হলেন।
পাশে ডিসি হিল ও মহিলা কলেজে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান মালা আর বিহারের রিচুয়াল সবমিলিয়ে পুরো প্রতিবেশে ছিল এক অনন্য বর্ণিল আনন্দঘন উদযাপন।
এভাবেই সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে এগিয়ে যাক আমাদের মাতৃভুমি বাংলাদেশ।
“আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। ”
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।