1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে
  3. asyrvwvn@tacoblastmail.com : NARYTHY496NEHTYHYHTR :
  4. sumibaruasushmita@gmail.com : Sumi barua :
২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| মঙ্গলবার| রাত ১:৪৪
শিরোনামঃ
নিজের মন-চিত্তকে জানা: বুদ্ধদর্শনের আলোকে আত্ম-পর্যবেক্ষণ ও সত্য উপলব্ধি কর্মফল, কর্মনিয়তি এবং তথাগত বুদ্ধের জীবনদর্শন: ধর্মের পরিহানির মূল কারণ: না জেনে, না বুঝে পণ্ডিত হওয়ার প্রবণতা প্রাণী হত্যা ও তার চার প্রকার পাপ: বৌদ্ধধর্মের আলোকে  আলোচনাটি করলাম মা-বাবা: জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ — বৌদ্ধধর্মের আলোকে এই আলোচনা পঞ্চশীল বা পঞ্চনীতিই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারে! চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন ভদন্ত মহাস্থবির ড. এস. লোকজিৎ ভিক্ষু পাপগ্রস্ত মানুষের দুঃখ ও মৃত্যুমুখে পতন: বাংলায় থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : উৎপত্তি, বিকাশ ও পুনর্জাগরণ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উদ্‌যাপন করলেন বৌদ্ধ যুব পরিষদ, রাংগুনিয়া শাখা

নিজের মন-চিত্তকে জানা: বুদ্ধদর্শনের আলোকে আত্ম-পর্যবেক্ষণ ও সত্য উপলব্ধি

ধর্মদূত স্থবির এম ধর্মবোধি ভিক্ষু
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ সোমবার, জুন ২২, ২০২৬,
  • 95 বার দেখা হয়েছে

নিজের মন-চিত্তকে জানা: বুদ্ধদর্শনের আলোকে আত্ম-পর্যবেক্ষণ ও সত্য উপলব্ধি


কলমে— ধর্মদূত স্থবির এম. ধর্মবোধি ভান্তে

প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ,

শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুঠির,

পুরাতন চান্দগাঁও।

অধ্যক্ষ, গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহার, হাটহাজারী।

প্রকাশক ও সম্পাদক, জ্ঞান অন্বেষণ নিউজ


মানবজীবনের গভীরতম অনুসন্ধান হলো—“আমি কে, আমার ভিতরে কী ঘটছে, এবং আমি কেন এভাবে ভাবি ও অনুভব করি?” বৌদ্ধদর্শনে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার জন্য বাহ্যিক জগতের দিকে নয়, বরং নিজের অন্তর্জগতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা অনুযায়ী, নিজের মন-চিত্তে যা ঘটছে তা না জানা মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য, কারণ অজ্ঞতা (অবিদ্যা) থেকেই সকল দুঃখের উৎপত্তি।

ত্রিপিটকের বহু স্থানে দেখা যায়, বুদ্ধ শিষ্যদের বারবার উপদেশ দিয়েছেন—অন্যের দোষ-গুণ বিচার না করে নিজের মনকে পর্যবেক্ষণ করতে। ধম্মপদের একটি সুপরিচিত বাণীতে বলা হয়েছে: “অপরের দোষ দেখা সহজ, নিজের দোষ দেখা কঠিন।” (ধম্মপদ, পদ্য ২৫২)। এই উক্তি স্পষ্ট করে যে, অন্যের সমালোচনা করা মানুষের স্বভাব হলেও, প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি নিজের অন্তরের ত্রুটি অনুসন্ধান করে।

সতিপট্ঠান সূত্রে বুদ্ধ “চিত্তানুপসনা” বা মন-পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেছেন। এখানে বলা হয়েছে, ভিক্ষু বা সাধককে তার মনকে এমনভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে—“চিত্ত লোভপূর্ণ কিনা, লোভমুক্ত কিনা; ক্রোধপূর্ণ কিনা, ক্রোধমুক্ত কিনা; বিভ্রান্ত কিনা, স্পষ্ট কিনা”—এইভাবে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করতে হবে। এই প্রক্রিয়াই হচ্ছে mindfulness বা সঠিক মনোযোগ, যা আত্মজ্ঞান অর্জনের মূল পথ।

অনাপানসতি সূত্রে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রতি মনোযোগের মাধ্যমে মনকে স্থির ও সচেতন করার পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। এই অনুশীলনের মাধ্যমে ব্যক্তি তার মনের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো উপলব্ধি করতে পারে। যখন মনকে এভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়, তখন ব্যক্তি বুঝতে পারে—সব অনুভূতি, চিন্তা ও আবেগ অনিত্য (অনিচ্চ), দুঃখজনক (দুঃখ), এবং অনাত্ম (অনত্তা)।

বৌদ্ধ দর্শনের মূল ভিত্তি হচ্ছে চার আর্যসত্য, যার প্রথমটিই দুঃখের সত্য। কিন্তু এই দুঃখের কারণ বাহ্যিক নয়, বরং অন্তর্গত তৃষ্ণা ও অজ্ঞানতা। নিজের মনকে না জানার কারণে মানুষ লোভ, ক্রোধ ও মোহ দ্বারা পরিচালিত হয়। ফলে সে অন্যকে বিচার করে, দোষারোপ করে এবং নিজের অজ্ঞানতাকে আরও গভীর করে তোলে।

অন্যদিকে, যে ব্যক্তি নিজের মনকে পর্যবেক্ষণ করে, সে ধীরে ধীরে আত্ম-উপলব্ধির দিকে অগ্রসর হয়। সে বুঝতে শেখে—তার রাগ, হিংসা, অহংকার—সবই ক্ষণস্থায়ী মানসিক অবস্থা, যা আসবে এবং চলে যাবে। এই উপলব্ধি তাকে সমবেদনা, সহনশীলতা এবং প্রজ্ঞার দিকে নিয়ে যায়।

ত্রিপিটকের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—“অত্তা হি অত্তানো নাথো” (নিজেই নিজের আশ্রয়)। এর অর্থ, নিজের মুক্তির পথ নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে। অন্য কেউ আমাদের মনকে শুদ্ধ করতে পারবে না, যদি আমরা নিজেরাই সচেতন না হই।

অন্যের মন-চিত্ত বিচার করার প্রবণতা মানুষের অহংবোধকে শক্তিশালী করে, কিন্তু নিজের মন পর্যবেক্ষণ অহংকে ক্ষয় করে। এই কারণেই বুদ্ধ বলেছেন, “যে নিজেকে জয় করেছে, সে হাজার যুদ্ধ জয়ীর চেয়েও শ্রেষ্ঠ।” (ধম্মপদ, পদ্য ১০৩)।

অতএব, নিজের মন-চিত্তকে না জানা শুধু অজ্ঞতাই নয়, এটি আধ্যাত্মিক অগ্রগতির প্রধান বাধা। যে ব্যক্তি নিজের অন্তর্জগত সম্পর্কে অচেতন, সে কখনো প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে পারে না। অন্যদিকে, যে ব্যক্তি নিজের মনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে, সে ধীরে ধীরে দুঃখের কারণকে চিনতে পারে এবং মুক্তির পথে এগিয়ে যায়।

পরিশেষে বলা যায়, বুদ্ধদর্শনের মূল শিক্ষা হলো—নিজেকে জানো, নিজের মনকে দেখো, নিজের ভেতরের সত্যকে উপলব্ধি করো। অন্যকে বিচার না করে নিজের চিত্তকে শুদ্ধ করার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত কল্যাণ। এই আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই ব্যক্তি নির্বাণের পথে অগ্রসর হতে পারে।

সকল প্রাণীর কল্যাণ হোক, সকলেই সুখী হোক, সকলেই দুঃখ থেকে মুক্ত হোক।

সংবাদটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ জাতীয় আরো খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (রাত ১:৪৪)
  • ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল)

জ্ঞানঅন্বেষণ © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।