1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে : স্থবির এম ধর্মবোধি ভান্তে
  3. sumibaruasushmita@gmail.com : Sumi barua :
২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| বসন্তকাল| শুক্রবার| বিকাল ৩:৫২

আজকের আলোচনা, পাংশুকূলিক ধুতাঙ্গ কথা

ধর্মদূত স্থবির এম ধর্মবোধি ভিক্ষু
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৮, ২০২৬,
  • 161 বার দেখা হয়েছে
- ধর্মদূত স্থবির এম ধর্মবোধি ভিক্ষু অধ্যক্ষ, গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহার, হাটহাজারি প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুঠির।
- ধর্মদূত স্থবির এম ধর্মবোধি ভিক্ষু অধ্যক্ষ, গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহার, হাটহাজারি প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুঠির।

আজকের আলোচনা, পাংশুকূলিক ধুতাঙ্গ কথা


কলমে- ধর্মদূত স্থবির এম ধর্মবোধি ভিক্ষু

অধ্যক্ষ, গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহার, হাটহাজারি

প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুঠির।


বাংলাদশে ধুতাঙ্গ কথাটি বহু প্রাচারিত শব্দ, ধুতাঙ্গ বল্লে বহু মানুষ বহুভাবে আলোচনা, সমালোচনা, পক্ষ-বিপক্ষসহ নানা প্রথা বঙ্গীয় বৌদ্ধ সমাজে চলমান রয়েছে। এই বিয়গুলি নিয়ে বিষয় হচ্ছে আজকের আলোচনা, পাংশুকূলিক ধুতাঙ্গ কথা।


এখন আমরা একটি একটি করে ধুতাঙ্গ গ্রহণ, বিধান, প্রকারভেদ, ভঙ্গ হওয়া ও সুফল বর্ণনা করব। “গৃহী লোকের দান করা চীবর প্রত্যাখ্যান করছি” অথবা “পাংশুকূলিক ধুতাঙ্গ গ্রহণ করছি,” এই দুটো কথার যেকোনো একটি বলার মাধ্যমে পাংশুকূলিক ধুতাঙ্গ গৃহীত হয়ে থাকে। এই হচ্ছে গ্রহণ।

এরূপে গৃহীত ধুতাঙ্গধারীর—শ্মশানের ও দোকানের পরিত্যক্ত বস্ত্র, রাজপথের বস্ত্র, আবর্জনাস্তূপের বস্ত্র, প্রসববস্ত্র, গোসলের বস্ত্র, ঘাটবস্ত্র, প্রত্যাগত বস্ত্র, অগ্নিদগ্ধ বস্ত্র, গরুতে খাওয়া বস্ত্র, উইপোকায় খাওয়া বস্ত্র, ইঁদুরে খাওয়া বস্ত্র, একপাশে ছেঁড়া বস্ত্র, পাড় ছিন্ন বস্ত্র, পতাকা বস্ত্র, স্তূপের চীবর, শ্রমণ বা সন্ন্যাসীর চীবর, অভিষেক বস্ত্র, অলৌকিক বস্ত্র, পথ বস্ত্র, বাতাসে উড়ে আসা বস্ত্র, দেবতার দেয়া বস্ত্র, সামুদ্রিক বস্ত্র—এগুলোর কোনো একটা বস্ত্র নিয়ে এর দুর্বল অংশগুলো কেটে ফেলে দিয়ে ভালো অংশগুলো ধুয়ে নিয়ে চীবর বানাতে হবে এবং গৃহীদের দেয়া আগেকার চীবর ত্যাগ করে সেটা পরতে হবে।

এখানে শ্মশানের পরিত্যক্ত বস্ত্র মানে হচ্ছে শ্মশানে পড়ে থাকা বস্ত্র। দোকানের পরিত্যক্ত বস্ত্র মানে হচ্ছে দোকানের দরজার সামনে পড়ে থাকা বস্ত্র। রাস্তার বস্ত্র মানে হচ্ছে পুণ্যাকাঙ্ক্ষী লোকজনের দ্বারা জানালা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়া বস্ত্র। আবর্জনাস্তূপের বস্ত্র মানে হচ্ছে আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেওয়া বস্ত্র। প্রসববস্ত্র মানে হচ্ছে গর্ভমল মুছে ফেলে দেওয়া বস্ত্র। তিষ্য মন্ত্রীর মা শতমুদ্রা মূল্যের বস্ত্র দিয়ে গর্ভমল মুছে “যারা পাংশুকূলিক তারা গ্রহণ করুক” এই ভেবে তালবেলির রাস্তায় ফেলে দিতে বলেছিলেন। ভিক্ষুরা তাদের চীবরের জীর্ণ অংশ মেরামতের উদ্দেশ্যে তা গ্রহণ করলেন। গোসলের বস্ত্র মানে হচ্ছে ভূত বৈদ্যরা লোকজনকে মাথা ধুয়ে গোসল করানোর পরে লোকজন যেটাকে “অশুভ বস্ত্র” ভেবে ফেলে দিয়ে চলে যায়।

ঘাটবস্ত্র মানে হচ্ছে স্নানঘাটে ফেলে দেয়া বস্ত্র। প্রত্যাগত বস্ত্র মানে হচ্ছে যা মানুষেরা শ্মশানে গিয়ে সেখান থেকে ফিরে এসে গোসল করার পরে ফেলে দেয়। অগ্নিদগ্ধ মানে হচ্ছে আগুনে আংশিক পুড়ে গেছে এমন। সেটাও মানুষেরা ফেলে দেয়। গরুতে খাওয়া বস্ত্র ইত্যাদি এমনিতেই বুঝা যায়। এধরনের কাপড়গুলোও মানুষেরা ফেলে দেয়। পতাকা বস্ত্র মানে হচ্ছে নৌকায় ওঠার সময় লোকজন পতাকা উত্তোলন করে নৌকায় ওঠে। তারা দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে গেলে তখন সেটা গ্রহণ করা উপযুক্ত। যুদ্ধক্ষেত্রে যে পতাকা উত্তোলন করা হয়, তা দুইপক্ষের সেনা চলে গেলে গ্রহণ করা উপযুক্ত।

স্তূপ চীবর মানে হচ্ছে উইয়ের ঢিবিকে ঘিরে পূজোকৃত বস্ত্র। শ্রমণ চীবর মানে হচ্ছে ভিক্ষুর অধিকারে থাকা চীবর। অভিষেক বস্ত্র মানে হচ্ছে রাজার অভিষেকের স্থানে পড়ে থাকা বস্ত্র। অলৌকিক বস্ত্র মানে হচ্ছে “এসো, ভিক্ষু” বলে উপসম্পদাপ্রাপ্ত ভিক্ষুর চীবর। পথের বস্ত্র মানে হচ্ছে পথের মধ্যে পড়ে যাওয়া বস্ত্র। তবে মালিকের স্মৃতিবিভ্রমের কারণে পড়ে গেছে এমন বস্ত্র হলে কিছু সময় অপেক্ষা করে তবেই সেটিকে গ্রহণ করা উচিত। বাতাসে উড়ে আসা বস্ত্র মানে হচ্ছে বাতাসের তোড়ে অনেক দূরে উড়ে যাওয়া বস্ত্র। সেটাও মালিককে দেখা না গেলে তখন গ্রহণ করা যায়। দেবতা প্রদত্ত বস্ত্র মানে হচ্ছে অনুরুদ্ধ স্থবিরের মতো দেবতাদের দেয়া বস্ত্র। সামুদ্রিক বস্ত্র মানে হচ্ছে সাগরের ঢেউয়ের মাধ্যমে তীরে উঠে আসা বস্ত্র।

“সংঘকে দিচ্ছি” বলে যে বস্ত্র দেয়া হয়েছে, অথবা পিণ্ড ও ভিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে যে বস্ত্র দেয়া হয়েছে, তা পাংশুকূল নয়। ভিক্ষুর দেয়া চীবরের বেলায় সেটা যদি জ্যেষ্ঠতা অনুসারে প্রাপ্ত চীবর হয়, অথবা কোনো বিহার বা কুটিরে বসবাসকারীকে দেয়া চীবর হয়, সেটাও পাংশুকূল নয়। এগুলো বাদে অন্য কোনোভাবে প্রাপ্ত চীবর যদি কোনো ভিক্ষু দেয়, সেটাই হচ্ছে পাংশুকূল। এখানেও কোনো দায়ক যদি চীবর নিয়ে কোনো ভিক্ষুর পায়ের কাছে রেখে দেয়, আর সেই ভিক্ষু সেটা পাংশুকূলিক ভিক্ষুর হাতে দিয়ে দেয়, তখন সেটা একদিক দিয়ে বিশুদ্ধ হয়। যা কোনো ভিক্ষুর হাতে দেয়া হয়েছে, আর সেই ভিক্ষু তা পাংশুকূলিক ভিক্ষুর পায়ের কাছে রেখে দিয়েছে, সেটাও একদিক দিয়ে বিশুদ্ধ হয়। যা কোনো ভিক্ষুর পায়ের কাছে রেখে দেয়া হয়েছে, আর সেই ভিক্ষুও সেটা পাংশুকূলিক ভিক্ষুর পায়ের কাছে রেখে দিয়েছে, তখন সেটা হয় উভয়দিক দিয়ে বিশুদ্ধ। যা হাতে হাতে পাওয়া গেছে, আবার পাংশুকূলিক ভিক্ষুকেও হাতে হাতে দেয়া হয়েছে, তা হীন চীবর। এভাবে পাংশুকূল চীবরের প্রকারভেদ জেনে তবেই পাংশুকূলিক ভিক্ষু কর্তৃক চীবর ব্যবহার করা উচিত। এই হচ্ছে তার বিধান।

প্রকারভেদের বেলায়, পাংশুকূলিক ভিক্ষু হচ্ছে তিন প্রকার : উৎকৃষ্ট, মধ্যম, মৃদু। এখানে যে কেবল শ্মশানের পরিত্যক্ত বস্ত্র গ্রহণ করে, সে হয় উৎকৃষ্ট। “প্রব্রজিতরা গ্রহণ করবেন” এই ভেবে ফেলে দেওয়া বস্ত্র গ্রহণ করলে সে হয় মধ্যম। পায়ের কাছে রেখে দেয়া বস্ত্র গ্রহণ করলে সে হয় মৃদু।

এই তিন শ্রেণির পাংশুকূলিক ভিক্ষুর মধ্যে কেউ যদি স্বেচ্ছায় অথবা অনুরোধের খাতিরে গৃহীদের দেয়া বস্ত্র গ্রহণে সম্মতি দেয়, তাহলে সম্মতির মুহূর্তেই তার ধুতাঙ্গ ভঙ্গ হয়। এই হচ্ছে তার ভঙ্গ হওয়া।

পাংশুকূলিক ধুতাঙ্গের সুফল হচ্ছে : “পাংশুকূল বা পরিত্যক্ত চীবরের উপর নির্ভর করে এই প্রব্রজ্যা” (মহাৰ.১২৮) এই নির্ভরতার (নিস্সয) অনুরূপ আচরণ হয়, প্রথম আর্য ঐতিহ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়, চীবরের সুরক্ষাজনিত ঝামেলা থাকে না, পরনির্ভরশীল হয়ে থাকে না, চোরের ভয় থাকে না, চীবর ব্যবহারজনিত তৃষ্ণা থাকে না, ভিক্ষুর জন্য উপযুক্ত দ্রব্য হয়, এটি “অল্পদামী, সুলভ এবং অনিন্দনীয়” (অ.নি.৪.২৭; ইতিৰু.১০১) হিসেবে ভগবান কর্তৃক প্রশংসিত, এটি আনন্দদায়ক, এটি অল্পেচ্ছুতা প্রভৃতি ফলের জন্ম দেয়, এতে সম্যক আচরণের উৎকর্ষতা সাধিত হয়, এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত রেখে যাওয়া হয়।

মারের সৈন্যদের ধ্বংস করতে পরিত্যক্ত বস্ত্রধারী মুনি,

যুদ্ধে সুদৃঢ় বর্মে সজ্জিত ক্ষত্রিয়ের মতো শোভিত হন।

কাশীর সুকোমল শ্রেষ্ঠ বস্ত্র ত্যাগ করে,

লোকগুরু যা পরিধান করেছেন, কে সেই পাংশুকূল বস্ত্র পরবে না?

সে-কারণে হে ভিক্ষু, নিজের প্রতিজ্ঞা স্মরণ করে,

যোগ সাধনার অনুকূল এই পরিত্যক্ত পাংশুকূল বস্ত্রে রমিত হও।

এতদূর পর্যন্ত পাংশুকূলিক ধুতাঙ্গ গ্রহণ, বিধান, প্রকারভেদ, ভঙ্গ হওয়া, ও সুফল বর্ণনা করা হলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ জাতীয় আরো খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার (বিকাল ৩:৫২)
  • ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)

জ্ঞানঅন্বেষণ © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।