ওয়াছো চীবর দান কি? সত্যিই কি ওয়াছো বিনয় সম্মত নাকি প্রতারনা? প্রশ্ন!
লিখছেনঃ- ধর্মদূত স্থবির এম. ধর্মবোধি ভান্তে
উদ্যোক্তা- শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির মেডিটেশন সেন্টার ও বৌদ্ধ বিহার।

ধর্মদূত স্থবির এম. ধর্মবোধি ভিক্ষু
বর্ষাসাটিকা চীবরকে ওয়াছো চীবরদান নাম করন করে ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রতে মধ্যোপথে অধিগত (অধিষ্ঠানগত) স্থান বিহীন (কমিউনিটি সেন্টারে) ভাড়া বাসায় আনুষ্ঠানিক অনুমোদন করে গ্রহন করা এবং এর নিজের তৈরি উৎসর্গ দ্বারা গৃহিদের মনোতুষ্টি কতটুকু যুক্তিসংগত বা বিনয়সম্মত ? এবং বুদ্ধ এই ওয়াছো চীবর দান সম্পর্কে কোথায় বিনয়, কথন, প্রজ্ঞাপন করেছেন তার বিস্তারিত আমার অজানা রয়েছে। দানে দূর্গতি দূর করে এই কথা যেমন চরম সত্য ঠিক একই ভাবে দানে দূর্গতি আনে। উপযুক্ত স্থানে দান না করে উপযুক্তহীন স্থানে দান দেওয়া বিনয়ন পরিপন্থির কর্ম যা দুঃখ দায়ক ও ধর্মবিরোধী কর্ম। কোন প্রকার সমোলোচনা না করে পন্ডিত বর্গের মত প্রজ্ঞজন রেফারেন্স সহ পিটকীয় কোন গ্রন্থে ওয়াছো চীবর দান সম্পর্কে আলোচনা আছে জানাবেন। সবার সুবিধের জন্য বিনয়, অভিধর্ম ও সুত্রপিটক গ্রন্থগুলি এখনে দেওয়া আছে বুদ্ধ কর্তৃক প্রবর্তন করা হয়েছে বুদ্ধ ধর্মের মূলপ্রাণ এই ত্রিপিটকের বাহিরে কোন রেফারেন্স গ্রহন করা হবে না। নিম্মে সুত্র পিটক, বিষয় পিটক ও অভিধর্ম পিটকে থেকে রেফারেন্স কোথায় আছে পিটকীয় গ্রন্থেগুলি নামও উল্লেখ করছি।
১) বিনয় পিটক,
পারাজিকা,পচিত্তিয়া, চুলবগগ্, মহাবগগ্, পরিবার পাঠো,
২) সূত্র পিটক
দীর্ঘ নিকায় (৩ খন্ডে সমাপ্ত), মজ্ ঝিম নিকায় (৩ খন্ডে সমাপ্ত), সংযুক্ত নিকায় (৩ খন্ডে সমাপ্ত),অঙ্গুত্তর নিকায় (৩ খন্ডে সমাপ্ত),খুদ্দক নিকায় (১৬ টি সতন্ত্র গ্রন্থ আছে)
খুদ্দক পাঠো,ধম্মপদ,উদান,ইতিবুত্তক,সত্তনিপাত,বিমান, বুত্থু, পেত বুত্থু, থের গাথা, থেরী গাথা, জাতক (৫ খন্ড), মহানিদ্দেশ, চুল নিদ্দেশ, পটিসম্ভিদা নিদ্দেশ, অপদান, বুদ্ধ বংসো,চরিয পিটক।
৩) অভিধর্ম পিটক
ধম্মসঙ্গণি, বিভঙ্গ,ধাতুকথা, পুগ্ গল পঞ্ঞত্তি,কথবত্থু
যমক, পটঠান।
বিনয় পিটক
বিনয় ত্রিপিটকের সর্বাগ্রে গ্রথিত বিষয়, বিনয় বুদ্ধশাসনের আয়ু স্বরুপ, বিনয়ের স্থিতিতেই বুদ্ধ শাসনের স্থিতি নির্ভরশীল।
গৌতম বুদ্ধের পরিনির্বাণের অব্যবহতি পরে এ বিষয় অনুধাবন করে বুদ্ধশিষ্যদের অগ্রজ সারির প্রাজ্ঞ- অভিজ্ঞ ধর্মধর, বিনয়ধর ও মাতিকাধর ভিক্ষুদের নিয়ে প্রথম সংগীতির মাধ্যমে বিনয় ও ধর্ম সংরক্ষ্ণণের ব্যবস্থা করা হয়।
সূত্র পিটক
সূত্র শব্দের অর্থ সত্যের প্রকাশ । সেই সত্য হলো তথাগত গৌতম বুদ্ধ সম্বোধির প্রভাবে জ্ঞাত সত্যের প্রকাশ। অন্যভাবে বলা যায় চতুরার্য সত্যের সূচনা করে বলেই সূত্র। যে কথা স্বয়ং বুদ্ধ বলেছেন ” চারি আর্য্য সত্য বর্জিত কোন ধর্ম নেই।” সুতরাং – দুঃখ , দুঃখের কারণ (সমুদয়) , দুঃখ নিরোধ ও দুঃখ নিরোধের উপায় – এই চারি সত্যের ব্যখামুলক প্রকাশ বুদ্ধ বচনের যেই অংশে নিহিত তাই সূত্র। সূত্র জাতীয় বুদ্ধ বচন সমুহ ত্রিপিটকের যে বিভাগে একত্রীকরণ করা হয়েছে তাকে সুত্ত পিটক বলে।
অভিধর্ম পিটক
ত্রিপিটকের তিন মূল ধারার অন্যতম একটি হলো অভিধর্ম পিটক। এটিকে বৌদ্ধ দর্শনের সংহত সংস্করণ বলা হয়। এখানে বৌদ্ধ দর্শনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ রয়েছে। তথাগত বুদ্ধ নানা উপদেশের মাধ্যমে যে তত্ত্বসমূহ উপস্থাপন করেছেন, যে নৈতিক আদর্শিক বিষয়সমুহ তিনি অনুসরণ, অনুকরণ ও অনুধাবন করতে উপদেশ দিয়েছেন সে তত্ত্বসমুহের বিন্যস্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে বিনয় পিটকে।
এর পর বর্ষাসাটিকা চীবর সম্পর্কে আলোচনা করবো। এখানে কাউকে বড় বা ছোট করার জন্য কেউ কোন কমেন্ট বা মন্তব্য করবেন না, সঠিক তথ্য বা জ্ঞান অর্জন করার জন্য এই লিখা। জানা ও শেখার কোন শেষ নাই।