পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কর্ত্তালা-বেলখাইন সদ্ধর্মলংকার বুদ্ধ বিহারের অন্যতম ধর্মানুরাগী উপাসক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক বাবু প্রদীপ মুৎসুদ্দী পরলোকগমন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় বৌদ্ধ সমাজ, ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অনিত্য সভায় ভিক্ষু সংঘ ও দায়ক-দায়িকা বৃন্দ
প্রয়াত বাবু প্রদীপ মুৎসুদ্দী ছিলেন ধর্মপ্রাণ, সমাজসেবী ও সদ্ধর্মের প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী একজন বিশিষ্ট উপাসক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্ত্তালা-বেলখাইন সদ্ধর্মলংকার বুদ্ধ বিহারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে বুদ্ধের আদর্শ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তাঁর বিনয়ী ব্যবহার, আন্তরিকতা, পরোপকারিতা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার জন্য তিনি স্থানীয় উপাসক-উপাসিকা এবং বৌদ্ধ সমাজে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

প্রায়াাত প্রদীপ মুৎসুদ্দি
৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, সোমবার প্রয়াতের নিজ বাড়িতে তাঁর আত্মার শান্তি ও অনিত্যতার ধর্মীয় উপলব্ধিকে সামনে রেখে এক অনিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও গভীর শোকাবহ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সভায় ভিক্ষুসংঘ, দায়ক-দায়িকা, আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনিত্য সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার বর্ষীয়ান ভিক্ষু ব্যক্তিত্ব ভদন্ত শাসনমিত্র মহাথেরো। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত বসুমিত্র মহাথেরো। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত জিনরতন মহাথেরো, ভদন্ত বোধিপ্রিয় মহাথেরো, ভদন্ত জিনপ্রিয় মহাথেরো, স্থবির এম ধর্মবোধি ভিক্ষু, ভদন্ত সুমনতিষ্য মহাস্থবিরসহ অর্ধশতাধিক ভিক্ষুসংঘ।
সভায় ভিক্ষুসংঘ প্রয়াত বাবু প্রদীপ মুৎসুদ্দীর অনিত্য জীবন, ধর্মানুরাগ, সামাজিক অবদান ও মানবিক গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, মানুষের পার্থিব জীবন অনিত্য ও ক্ষণস্থায়ী। জন্মের পর মৃত্যুই জীবনের অবধারিত পরিণতি। তবে একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর রেখে যাওয়া সৎকর্ম, মানবিকতা, ধর্মীয় অনুশীলন এবং সমাজের প্রতি অবদানের মধ্যেই বেঁচে থাকে। প্রয়াত বাবু প্রদীপ মুৎসুদ্দীর জীবনও তাঁর ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দায়ক সংঘের পক্ষ থেকেও প্রয়াত বাবু প্রদীপ মুৎসুদ্দীর জীবন ও কর্মের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা তাঁর ধর্মীয় জীবনদর্শন, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সদ্ধর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, একজন ধর্মানুরাগী উপাসক হিসেবে বাবু প্রদীপ মুৎসুদ্দী শুধু নিজের ধর্মীয় জীবনের উন্নতির জন্য নয়, বরং সমাজ ও মানুষের কল্যাণেও নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন।
অনিত্য সভায় বক্তারা আরও বলেন, “জীবন অনিত্য, মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী; কিন্তু সৎকর্ম কখনো অনর্থক যায় না।” তাই প্রয়াতের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদনের অন্যতম পথ হলো তাঁর রেখে যাওয়া মানবিক ও ধর্মীয় আদর্শকে স্মরণ করা এবং নিজেদের জীবনেও কল্যাণকর কর্মের অনুশীলন করা।
অনিত্য সভায় প্রয়াতের পারোলৌকিক শান্তি কামনা করা হয় এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য কামনা করা হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত সবাইকে অনিত্যতার সত্য উপলব্ধি করে পুণ্যকর্ম, ধর্মচর্চা ও মানবকল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানানো হয়।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শ্রদ্ধাবনত পরিবেশে অনিত্য সভা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী ভিক্ষুসংঘ ও উপস্থিত দায়ক-দায়িকারা প্রয়াত বাবু প্রদীপ মুৎসুদ্দীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর প্রয়াণে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।
প্রয়াত বাবু প্রদীপ মুৎসুদ্দীর পরলোকগত জীবন শুভ ও শান্তিময় হোক।