২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| সোমবার| বিকাল ৩:৫৬
শিরোনামঃ
শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুটিরের শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত প্রবারণা পূর্ণিমা: প্রাচীন ঐতিহ্য থেকে সমকালীন সমাজের আত্মসমালোচনা ও নৈতিক পুনর্জাগরণ নিজের মত করে বাঁচাই উত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ- তিনটিলা বনবিহারে দানবাক্সসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি সদ্ধর্মনিধি ভদন্ত বিমলানন্দ মহাথেরের মহাপ্রয়াণ লাভ করেছেন ঐতিহ্যবাহী পুণ্যতীর্থ গুমানমর্দন শান্তি বিহার- বিশিষ্ট সমাজসেবক বাবু প্রদীপ মুৎসুদ্দীর পরলোকগমন মেসির বিদায়ী ম্যাচ কবে, কখন ও কোথায়? কঠিন চীবর দানে অনুদান বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী স্ট্রোক প্রতিরোধে দৈনন্দিন জীবনযাপনে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে

শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুটিরের শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত

জ্ঞান অন্বেষণ ডেক্স
  • প্রকাশিত হয়েছেঃ রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬,
  • 150 বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রামে শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুটিরের প্রথম দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত


উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের পুরাতন চান্দগাঁওয়ের শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুটিরের প্রথম দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগরের পুরাতন চান্দগাঁওয়ের সানোয়ারা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুটির প্রাঙ্গণে এ দানোৎসবের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু, বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষ, ভিক্ষুসংঘ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিপুলসংখ্যক উপাসক-উপাসিকা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানটি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম পর্বের অতিথি ও আনুষ্ঠানিকতা

প্রথম পর্বে সভাপতিত্ব করেন পাথরঘাটা মহাবোধি বিহার কমপ্লেক্স ও আন্তর্জাতিক ভাবনা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ বিদর্শনাচার্য ভদন্ত লোকানন্দ মহাথেরো। প্রধান অতিথি ছিলেন ভদন্ত জ্ঞানরত্ন মহাথেরো। প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন ঢাকা থেকে আগত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরো। মুখ্য আলোচক হিসেবে ধর্মীয় আলোচনা করেন ভদন্ত বিনয়ালংকার মহাথেরো। বিশেষ অতিথি ছিলেন আবদুল্লাহপুর শাক্যমুনি বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সতালংকার ভিক্ষুসহ ২৪ জন ভিক্ষুসংঘের সদস্য।

প্রথম পর্বের শুভ উদ্বোধন করেন শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুটিরের প্রধান অন্তর্বাসী ভদন্ত আশিন বুদ্ধরক্ষিত স্থবির। ত্রিপিটক পাঠ করেন আবদুল্লাহপুর শাক্যমুনি বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত অরূপানন্দ ভিক্ষু।

দ্বিতীয় পর্বের অতিথি ও আনুষ্ঠানিকতা

দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন শীলঘাটা পরিনির্বাণ বিহারের অধ্যক্ষ বিদর্শনাচার্য ভদন্ত রত্নপ্রিয় মহাথেরো। মুখ্য আলোচক ছিলেন দমদমা ধর্মকীর্তি বুদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ড. ধর্মকীর্তি মহাথেরো। প্রধান অতিথি ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সম্মানিত ট্রাস্টি বাবু পার্থ প্রতিম বড়ুয়া অপু। প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সাধারণ সম্পাদক পণ্ডিত মহাস্থবির ড. এস. লোকজিৎ ভান্তে।

বিশেষ ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত শান্তবোধি স্থবির ও ভদন্ত শারিপুত্র স্থবির।

দ্বিতীয় পর্বের শুভ উদ্বোধন করেন ফটিকছড়ি উপজেলার আবদুল্লাহপুর শাক্যমুনি বিহারের নবরূপদাতা, বহু গ্রন্থের অনুবাদক, প্রকাশক ও সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম মহানগরের পুরাতন চান্দগাঁওস্থ শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুটিরের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ধর্মদূত স্থবির এম. ধর্মবোধি ভান্তে। ত্রিপিটক পাঠ করেন হাটহাজারীর গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত রত্নবংশ ভিক্ষু।

বক্তব্য, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সার্বিক আয়োজন

কঠিন চীবর দান উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু জহরলাল তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহারের সভাপতি প্রকৌশলী বাবু সঞ্জীব বড়ুয়া ও কার্যকরী সভাপতি বাবু অংশু বড়ুয়া, বিএসসি। বক্তব্য রাখেন নানুপুর গৌতম বিহারের সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক বাবু পলাশ কুসুম বড়ুয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কঠিন চীবর দান উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি বাবু লিটন বড়ুয়া, সহসভাপতি ও ব্যাংকার বাবু অমরজিৎ বড়ুয়া এবং প্রধান সমন্বয়ক বাবু আশীষ বড়ুয়া। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন চিকিৎসক বাবু সুদর্শন বড়ুয়া।

উদ্বোধনী সংগীতসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন বাবু পলাশ চৌধুরী ও তুষি বড়ুয়া। এ ছাড়া শ্রদ্ধালংকার সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। চীবর পরিক্রমায় সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী প্রিয়ঙ্কি তালুকদার।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে দানোৎসব উদযাপন

দুই পর্বের অনুষ্ঠানজুড়ে ধর্মীয় দেশনা, ত্রিপিটক পাঠ, বুদ্ধের স্মরণ, সংঘদান ও কঠিন চীবর দানের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবটি উদযাপিত হয়।

বক্তারা তাঁদের ধর্মীয় আলোচনায় বৌদ্ধধর্মের মৈত্রী, করুণা, প্রজ্ঞা, অহিংসা ও মানবকল্যাণের আদর্শ তুলে ধরেন। পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা, সংঘের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুটির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভূমি ক্রয়সহ বিহারের সার্বিক উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, শ্রদ্ধালংকার বুদ্ধ বিহার ও ভাবনা কুটিরের প্রথম দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসবের এই আয়োজন ধর্মীয় ঐতিহ্য, বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন বিহারের দায়ক-দায়িকা এবং ধর্মপ্রাণ উপাসক-উপাসিকাবৃন্দ।

সংবাদটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ জাতীয় আরো খবর..

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার (বিকাল ৩:৫৬)
  • ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল)

জ্ঞানঅন্বেষণ © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।