1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : স্থবির এম ধর্মবোধি : এম ধর্মবোধি স্থবির

প্রয়োজনীয়ঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট,সফটওয়্যার কিংবা মোবাইল এপ তৈরি করতে আজই যোগাযোগ করুনঃ ০১৯০৭৯৮৬৩৬৯ আমরা যেসব সার্ভিস দিয়ে থাকিঃ বিজনেস ওয়েবসাইট,ই-কমার্স ওয়েবসাইট,সোশ্যাল ওয়েবসাইট,অনলাইন নিউজপেপার,বেটিং ওয়েবসাইট,কেনা বেচার ওয়েবসাইট,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ইত্যাদি। আমরা আরো যেসব সেবা দিয়ে থাকিঃ সুপারশপ সফটওয়্যার,ফার্মেসি সফটওয়্যার,ক্লথিং/বুটিক ষ্টোর সফটওয়্যার,একাউন্টিং সফটওয়্যার,HRM ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার,স্কুল/কলেজ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার সহ সকল ধরনের মোবাইল এপ তৈরি করে থাকি আপনার বাজেটের মধ্যেই। তো দেরি না করে আজই যোগাযোগ করুন এবং অর্ডার করুন আপনার চাহিদা মত সেবা। ফিউচার টেক বিডি
শিরোনামঃ
জলতরঙ্গ’ বিটিভি চট্টগ্রামের পর্দায় এসেছে কুন্তল বড়ুয়া দমদমা কেন্দ্রীয় অভয়শরণ বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কার্যনিবাহী কমাটি গঠন কার্য সম্পান্ন উপসংঘরাজ সংঘরশ্মি অগ্রবংশ মহাস্থবিরের সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য ব্যারিস্টার জ্যোতিঃর্ময় বড়ুয়া’র মাতা রত্না বড়ুয়া’র পরলোকগমন ভদন্ত উপালি মহাথের পরপারগত হয়েছেন ১০ম সংঘরাজ জ‍্যোতিঃপাল মহাথের’র ১১১তম জন্মবার্ষিকী সাড়ম্বরে উদযাপিত ধার্মীক উপাসক নিরঞ্জন বড়ুয়া’র অনিত্যসভা ও সংঘদান সম্পান্ন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার চায় এনএল সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া যেসব ফল খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকে ডায়াবেটিস আঞ্চলিক সংঘপ্রধান প্রয়াত শ্রদ্ধালংকার মহাথেরো’র জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত

ভিক্ষুসঙ্ঘের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যশ স্থবিরের বীর্যতার পরিচয়

  • আপডেটের সময়ঃ রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১
  • ৮১ বার পঠিত

ভিক্ষুসঙ্ঘের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যশ স্থবিরের বীর্যতার পরিচয়

. বরসম্বোধি ভিক্ষু

একটি প্রচলিত কথা আছে যে, সংসারে খারাপ বা অন্যায় কখনও মন্দ লোকের দ্বারা বৃদ্ধি হয়না, বরং সৎ বা ভাল লোকদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই অন্যায় বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। ভাল লোক নিষ্ক্রিয় কেন থাকেন? কেননা সক্রিয়তায় তাঁদের দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়। যখন যখন ভাল লোক নিষ্ক্রিয় থাকেন, তখন তখন অন্যায়-অনাচার সক্রিয় হতে দেখা যায়। কিন্তু যখন যখন ভাল লোক সক্রিয় হয়ে উঠে, তখন খারাপ লোক আত্ম সমর্পণ করে থাকে। কেননা, খারাপও ভালোর মুখোশ পড়েই চলতে থাকে।

ভগবান বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের একশত বছর পরে বৈশালীতে এক এরকম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল।

এক বস্তীতে বজ্জিপুত্রক সঙ্ঘের ভিক্ষুগণের দল ঘেরা বানিয়ে অবস্থান করছিলেন। তাঁরা ঘেরার মাঝখানে রূপার এক বিশাল থালা রেখেছিলেন। থালাটি ছিল জলভর্তি। ভিক্ষুরা উপাসক-উপাসিকাদেরকে সম্বোধন করে ঘোষণা করেছিলেন-

‘আপনারা সঙ্ঘকে লবণ দান করুন, স্বর্ণ-রৌপ্য দান করুন, বিপুল ভোজন দান করুন….. আপনাদের এ দান বুদ্ধ শাসনের উপকারের জন্য হবে। এতে আপনারা প্রভূত পুণ্য অর্জন করতে পারবেন।

এরূপ শুনে শ্রদ্ধা সম্পন্ন উপাসক-উপাসিকাগণ নিজের নিজের সামর্থ্য অনুসারে দান সামগ্রী জলভর্তি থালায় ডালতে লাগলেন এবং তিনবার সঙ্ঘকে বন্দনা করতে লাগলেন। আমরা অনেক পুণ্যার্জন করেছি-এরূপ ভেবে দান দিয়ে তাঁরা আনন্দিত হয়ে ঘরে ফিরে যাচ্ছিলেন। বৈশালীতে আসা যুবক ভিক্ষু কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবির এ দৃশ্য দেখে তিনি বজ্জিপুত্র সঙ্ঘকে সম্বোধন করে বলেছিলেন-‘স্বর্ণ-রৌপ্যের দান গ্রহণ ভগবান বুদ্ধ নিষিদ্ধ করেছেন, বিকাল ভোজন হল অবিহিত……।

তিনি এরূপ বলার পরও সঙ্ঘ চুপ থাকলেন এবং উপাসক-উপাসিকাগণ দান করতেই লাগলেন। দ্বিতীয় দিন বজ্জিপুত্র ভিক্ষুগণ দানে প্রাপ্ত বস্তু সামগ্রী বন্টন করে নিলেন। সেখান হতে এক ভাগ কাকণ্ডপুত্র যশ ভিক্ষুকেও প্রদান করলেন। তিনি দান প্রত্যাখ্যান করলেন। এজন্য বজ্জিপুত্র ভিক্ষুগণ সভা করে কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবিরের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনলেন। তাঁরা আরোপ লাগিয়েছেন যে, তিনি শ্রদ্ধাবান উপাসক-উপাসিকাদের ভাবনাকে আহত করেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার আঘাত করেছেন।

বৌদ্ধ সঙ্ঘের মধ্যে তখন এরূপ পরম্পরা ছিল যে, যে ভিক্ষুর বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনা হত তাঁর সাথে এক অনুদূত প্রেরণ করা হত। সে প্রেরিত অনুদূত বস্তিতে বস্তিতে গিয়ে সকল উপাসক-উপাসক উপাসিকাদেরকে জানিয়ে দিতেন যে, এ ভিক্ষুর বিরুদ্ধে সঙ্ঘ কর্তৃক নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁকে এ কারণে সঙ্ঘ কর্তৃক দণ্ডিত করা হয়েছে।’

কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবির বজ্জিপুত্র সঙ্ঘের নিকট হতে অনুদূত প্রেরণ হোক তা চেয়েছিলেন। সঙ্ঘ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদূত যশ স্থবিরের সাথে বস্তিতে পিণ্ডাহরণ করতে গিয়েছিলেন। অনুদূত ভিক্ষুটি উপাসক-উপাসিকাদেরকে জানিয়েছিলেন যে, ভদন্ত যশ স্থবিরের বিরুদ্ধে সঙ্ঘ নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। উপাসক-উপাসিকাগণ জিজ্ঞাসা করলেন-‘নিন্দা প্রস্তাবের কারণ কি?’ যশ স্থবির নির্বিকতা সহকারে বলেছিলেন-‘আমার দোষ হল আমি ধর্মকে ধর্ম বলছি, এবং অধর্মকে অধর্ম বলছি।বিনয়কে বিনয় বলছি এবং অবিনয়কে অবিনয় বলছি। বিহিতকে বিহিত বলছি এবং অবিহিতকে অবিহিত বলছি।’

যশ স্থবির আরও বলেছেন-‘ ভগবান বুদ্ধ একবার শ্রাবস্তীতে জেতবন বিহারে ভিক্ষু সঙ্ঘকে একত্রিত করে করে বলেছিলেন- ‘ভিক্ষুগণ! চন্দ্র-সূর্যের চার মল রয়েছে। যেগুলি দ্বারা আবৃত হলে তারা উজ্জ্বলতা হারায়, প্রকাশিত হয়না। সে চার মল কি কি? সেগুলি হল- কুয়াশা, ধূল, মেঘ এবং গ্রহণ। এ চার মলের দ্বারা আবৃত হলে চন্দ্র-সূর্য উজ্জ্বলতা হারাত এবং প্রকাশিত হয়না।

এরূপই ভিক্ষুগণ! ভিক্ষু-শ্রামণেরও চার মল রয়েছে। যেগুলিতে আবৃত হলে শ্রামণ্যতার ঔজ্জ্বল্যতা হারায় এবং প্রকাশমান হয়না। সে চার মল কি কি? মদ্যপান, মৈথুন সেবন, স্বর্ণ-রৌপ্য গ্রহণ এবং মিথ্যা আজীবিকারূপ চুরিতে যুক্ত থাকা। এ চার প্রকার মল দ্বারা গ্রসিত দূষিত হলে ভিক্ষু-শ্রামণ ঔজ্জ্বল্যতা হারায় এবং প্রকাশমান থাকেনা।

যশ স্থবির উপাসক-উপাসিকাদের বলেছিলেন-‘আমি এরূপ বললে বজ্জিপুত্র সঙ্ঘ আমাকে দণ্ড প্রদান করে আমার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব এনেছেন। কেননা, আমি ধর্মকে ধর্ম বলছি এবং অধর্মকে অধর্ম বলছি।’

কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবির নগরবাসী উপাসক-উপাসিকাদেরকে দ্বিতীয় আরও এক প্রসঙ্গ বলেছিলেন-‘এক সময় ভগবান বুদ্ধ রাজগৃহের কলন্দক নিবাপে বেণুবন বিহারে অবস্থান করছিলেন। সে সময় রাজ দরবারে এরূপ চর্চা হচ্ছিল যে, শাক্যপুত্রীয় শ্রমণগণ জাতরূপ-রজত, স্বর্ণ-রৌপ্য গ্রহণ করছেন। তখন পরিষদের উপস্থিত মণিচুলক গ্রামণী নামক এক বৃদ্ধ ভক্ত প্রতিবাদ করে বলেছিলেন যে-‘আপনারা এরূপ মিথ্যা আরোপ লাগাবেননা। শাক্যপুত্রীয় শ্রমণগণ অর্থাৎ বুদ্ধপুত্রগণ জাত-রূপ-রজত গ্রহণ করতেই পারেননা।’

মণিচুলক গ্রামণীর প্রবল প্রতিবাদের দ্বারা তাঁরা মান্যতা দিয়েছিলেন যে, আরোপ সত্য নয়। পরিষদকে বুঝিয়ে তিনি বেণুবন বিহারে ভগবান বুদ্ধের নিকট পৌঁছলেন। ভগবানকে অভিবাদন করে একপাশে উপবেশন করলেন। অত:পর তিনি পরিষদের চর্চা সম্পর্কে ভগবানকে অবগত করালেন এবং ইহাও বললেন যে, আমি ভগবান ও ভিক্ষু সঙ্ঘের পক্ষ নিয়ে সে মিথ্যা আরোপের প্রতিবাদ করেছি। এবার তিনি বিনম্রভাবে ভগবানকে জিজ্ঞাসা করলেন-‘ভগবান! এরূপ বলে আমি মিথ্যা বলিনি তো? ভগবানের ভাষিত মতেই তো বলেছি, অন্যথা বলি নাই তো?’

উত্তরে ভগবান বুদ্ধ বলেছেন-‘গ্রামণী! তুমি হলে আমার কথিত বিষয়ই ভাষণকারী।গৌতমের শ্রামণদের জন্য জাত-রূপ-রজত বিহিত নয়। যারা জাত-রূপ-রজত গ্রহণ করে থাকে, তারা শ্রমণ নয়, তারা ভিক্ষু নয়।’

কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবির বললেন-‘আমি এরূপ বললে বজ্জিপুত্র ভিক্ষুসঙ্ঘেরা আমার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব নিয়েছেন। কেননা আমি ধর্মকে ধর্ম বলেছি, অধর্মকে অধর্ম বলেছি। বিনয়কে বিনয় বলেছি, এবং অবিনয়কে অবিনয় বলেছি। বিহিতকে বিহিত এবং অবিহিতকে অবিহিত করে বর্ণনা করেছি।

উপাসক-উপাসিকাদেরকে সম্বোধন করে যশ স্থবির আরও এক বিষয়ের উল্লেখ করেছিলেন-‘রাজগৃহেই ভগবান বুদ্ধ আয়ুস্মান উপানন্দকে জাত-রূপ-রজত গ্রহণের নিষেধ করেছিলেন এবং এ নিষেধকে বিনয়ের অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন।’ এ প্রসঙ্গের বর্ণনা শুনে বজ্জিপুত্রক সঙ্ঘ আমার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব নিয়েছেন। কেননা আমি ধর্মকে ধর্ম এবং অধর্মকে অধর্ম বলেছি।

যশ স্থবিরের কথা শুনে নগরের উপাসক-উপাসিকাগণ সকলেই একবাক্যে বলেছিলেন-‘যশ স্থবিরইই হলেন একমাত্র বাস্তবিক শ্রমণ এবং সত্যিকারের ভিক্ষু। হে পূজ্য ভদন্ত! আপনি বৈশালীতে বসবাস করুন। আমরা আপনাকে পিণ্ডপাত, বাসস্থান, চীবর ও ভৈষজ্যাদি দানের ব্যবস্থা করব। আমরা জেনেছি যে, বজ্জিপুত্রক ভিক্ষুসঙ্ঘেরা অধর্মকে ধর্মে পরিণত করছেন এবং অবিনয়কে বিনয়ে পরিণত করছেন। এখন হতে তাঁরা আমাদের পূজা-উপাসনা-দান-মানের অধিকারী হবেননা।

কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবির যখন অনুদূতের সাথে বিহারে প্রত্যাগমণ করলেন, তখন বজ্জিপুত্র সঙ্ঘের ভিক্ষুরা অনুদূতের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন-যশ স্থবিরবৈশালীর উপাসক-উপাসিকাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন কি?’ অনুদূত জানালেন-‘বৈশালীর উপাসক-উপাসিকারা আমাদের নিন্দা করেছেন। আমাদেরকেই বরং অশ্রমণ, অশাক্যপুত্র বলে তিরস্কার করতে লাগলেন। তাঁরা আমাদেরকে পূজা, উপাসনা, দান ও মান না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তখন বজ্জিপুত্র সঙ্ঘ নিজেরা আবার সভায় মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, চলুন, আমরা কাকণ্ডপুত্র যশ ভিক্ষুকে সঙ্ঘ হতে বহিস্কার করি। তাঁকে উৎক্ষেপনীয় কর্মের বিধান আরোপ করে দেওয়া উচিত। কেননা, তিনি আমাদের আভ্যন্তরীণ অধর্মবাদী বিষয় সমূহ উপাসক-উপাসিকাদের মধ্যে গিয়ে প্রচার করেছেন।’

কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবির ইহা ভালমতে উপলব্দি করলেন যে, বজ্জিপুত্র ভিক্ষু সঙ্ঘেরা হলেন সংখ্যাধিক অর্থাৎ বহুমত। তাঁরা অধর্মকে ধর্ম প্রমাণ করতে সক্ষম। এজন্য আমাকেও ধর্মবাদীর সংখ্যা অনুসন্ধান করতে হবে। বজ্জিপুত্র সঙ্ঘ কোন সামগ্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বেই কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবির বৈশালী ত্যাগ করলেন। ধর্মবাদী ভিক্ষুর অনুসন্ধানে তিনি কোসম্বী পৌঁছলেন।

সেখান হতে তিনি পাবাবাসী এবং অবন্তী দক্ষিণাপথবাসী ভিক্ষুদের নিকট দূত দ্বারা বার্তা প্রেরণ করেছিলেন যে-‘ভদন্তগণ! আপনারা আসুন, এ সঙ্কটের মিমাংসা করুন। অধর্ম প্রকট হচ্ছে। বুদ্ধের সদ্ধর্মকে দূষিত করা হচ্ছে। অধর্মকে ধর্ম এবং ধর্মকে অধর্ম বলে প্রচার করা হচ্ছে।’

যশ স্থবির জ্ঞাত হলেন যে, সাণবাসী মহান ধর্মজ্ঞ সম্ভূত স্থবির অহোগঙ্গা পর্বতে ধ্যানরত আছেন। যশ স্থবির সেখানে দূত প্রেরণ করেননি। নিজেই সেখানে গেলেন। সাণবাসী সম্ভূত স্থবিরকে অভিবাদন করে একান্তে উপবেশন করে নিবেদন করলেন য-

‘ভন্তে! বৈশালীর বজ্জিপুত্রক ভিক্ষুসঙ্ঘ নিম্নের দশ বস্তু ( দসবত্থু) প্রচার করছেন।

১) শৃঙ্গে লবণ সঞ্চয় করে রাখা হল বিহিত।
২) দ্বি-আঙ্গুল কপ্প হল বিহিত।
৩) গ্রামান্তর কপ্প হল বিহিত।
৪) আবাস কপ্প হল বিহিত।
৫) অনুমতি কপ্প হল বিহিত।
৬) আচীণ্ণ কপ্প হল বিহিত।
৭) অমথিত কপ্প হল বিহিত।
৮) জলোগীক কপ্প হল বিহিত।
৯) অদসক হল বিহিত।
১০) জাত-রূপ-রজত হল বিহিত।

ভন্তে! অধর্মকে ধর্ম বলা হচ্ছে, ধর্মকে অধর্ম বলা হচ্ছে। বিহিতকে অবিহিত বলা হচ্ছে এবং অবিহিতকে বিহিত বলা হচ্ছে। ভগবানের ধর্মের উপর সঙ্কট ভারী হচ্ছে। এ অধিকরণকে শান্ত করুন। ব্যাকুল যশ স্থবিরকে বয়োবৃদ্ধ সাণবাসী সম্ভূত স্থবির সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন-‘ভালই বলেছ, আবুসো।’

সেখানে অহোগঙ্গা পর্বতোপরি পাবা এবং অবন্তীর ভিক্ষুদের নিয়ে সম্মেলন হল। সে সম্মেলনে পাবা হতে ৬০জন এবং অবন্তী হতে ৮৮ জন ভিক্ষু সম্মিলিত হয়েছিলেন।

সম্মেলনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, সোরেয়্য নিবাসী মহান ধর্মধর আয়ুস্মান রেবত স্থবিরকেও তাঁদের পক্ষে নেওয়া হলে ধর্মবাদীদের সংখ্যা আরও অধিকতর বলশালী হবে। আয়ুস্মান রেবত স্থবির অভিজ্ঞা বলে দিব্য শ্রোত দ্বারা ভিক্ষুদের এ আলোচনা শুনেছিলেন এবং ভাবতে লাগলেন যে-‘এ অধিকরণ বা বিবাদ হল খুব ভারী। শান্তভাবে বসে থাকা আমার উচিত হবেনা। আমাকে আহ্বান করতে কোন দূত আসার পূর্বে আমাকেই তথায় গিয়ে উপস্থিত হওয়া অধিকতর সমীচীন হবে। ভাল কাজের জন্য ভাল লোকদের সক্রিয় হওয়া ইহা হল এক অনেক বড় দৃষ্টান্ত।

কোথায় কোসম্বী, কোথায় বৈশালী এবং কোথায় অহোগঙ্গা পর্বত। তৎকালীন সময়ে যাতায়াতের সুগমতাও ছিলনা। ভিক্ষুগণ তখন পায়ে হেঁটেই চলাচল করতেন। বৈশালী হল বিহারে এবং কোসম্বী হল উত্তর প্রদেশ জনপদের এলাহাবাদের নিকটে। পাবাও উত্তর প্রদেশের কুশীনগরের নিকট এবং অবন্তী হল মধ্য প্রদেশে। সোরেয়্য এখন হল সোরোঁ জনপদ, উত্তর প্রদেশের কাসগঞ্জের পাশে। অনুমান করা যেতে পারে যে, অধর্মবাদের প্রতিকারের জন্য ধর্মবাদীরা কতই না শ্রম দিয়ে কষ্ট স্বীকার করেছেন। সত্যিকার অর্থেই তাঁরা শ্রম দিয়ে শ্রমণ হওয়ার সার্থকতা দেখিয়েছেন।

পূজ্য ভদন্ত রেবত স্থবির সোরেয়্য হতে যাত্রা করলেন। তিনি সাংকিশ্যা পৌঁছলেন। ভদন্ত রেবতকে আমন্ত্রণ কারী দূত ভিক্ষুগণ সোরেয়্য এসে জানতে পারলেন যে, মান্যবর রেবত স্থবির পূর্বেই যাত্রা করে এখন সাংকিশ্যাতে এসে পৌঁছেছেন। দূত ভিক্ষুগণ সাংকিশ্যা এসে জানতে পারলেন যে, ভদন্ত রেবত তখন কান্যকুজ্জ বা কন্নৌজ এসে পৌঁছেছেন। তাঁরা এভাবেই তাঁকে অনুসরণ করে করে আসছিলেন। ভদন্ত রেবত স্থবির কন্নৌজ হতে উদুম্বর, উগ্গলপুর হয়ে এখন এলাহাবাদের নিকট সহজাতিতে সকল ভিক্ষু সঙ্ঘের সাথে একত্রিত হয়েছিলেন।

সাণবাসী সম্ভূত স্থবির কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবিরকে বললেন-‘ আয়ুস্মান রেবত স্থবির আমার চেয়েও বয়োজেষ্ঠ্য। তিনি এতই বিদ্বান যে, একটি প্রশ্নের উত্তর দিতেই রাত্রি অতিক্রম করতে সক্ষম। এখন তাঁর নিকট বিনয় পূর্বক বজ্জীপুত্রক সঙ্ঘের দশ বস্তুর প্রচার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো।’

ভদন্ত যশ স্থবির আয়ুস্মান রেবত স্থবিরের নিকট সবিনয়ে অভিবাদন পূর্বক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেন-

১) ভন্তে! ভিক্ষুদের শৃঙ্গে বা শিংয়ে লবণ সঞ্চয় করে রাখা কি বিনয় সম্মত? আবুসো শিঙ্গিলোণ কপ্প বা শৃঙ্গি-লবণ মানে কি? ভন্তে! শিংয়ের মধ্যে লবণ এ উদ্দেশ্যে নিজের পাশে রাখা হয় যে, যেখানে লবণ পাওয়া যাবেনা, সেখানে লবণ মিশিয়ে খাওয়া যাবে। এভাবে লবণ জমা করে খাওয়া কি ভিক্ষু-শ্রামণের জন্য বিহিত?’ আবুসো! তা একেবারেই অবিহিত, অধর্ম।

২) ভন্তে! দ্বাঙ্গুল কপ্প বিহিত কি? আবুসো, দ্বাঙ্গুল কপ্প কি? ভন্তে! সূর্যের ছায়া দ্বিপ্রহরের পর দু’আঙ্গুল পূর্বদিকে হেলে যাওয়ার পরে খেতে থাকলে কি বিকাল ভোজন হবে?’

আবুসো! তা অবশ্যই বিকাল ভোজন হবে। পূর্বাহ্নে ভোজন শুরু করে সুর্য হেলে যাওয়ার পূর্বেই ভোজন শেষ করতে হবে।’

৩) ভন্তে গ্রামান্তর কপ্প কি বিহিত? আবুসো, গামান্তর কপ্প কি? ভন্তে! ভোজনের সময় অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরও ভোজন লাভের উদ্দেশ্যে গ্রামে যাওয়া। আবুসো! তা অবিহিত অর্থাৎ অধর্ম।

৪) ভন্তে! আবাস কপ্প বিহিত কি? আবুসো! আবাস কপ্প কি? ভন্তে! একই সীমার অন্তর্গত করে কয়েক বিহারে উপোসথ করা আবুসো! তাও অবিহিত বা অধর্ম।

৫) ভন্তে! অনুমতি কপ্প বিহিত কি? আবুসো! অনুমতি কপ্প কি? ভন্তে! সঙ্ঘ বিনয় কর্ম এ ভেবে শুরু করা যে, যারা পরে আসবে তাঁদেরও প্রবেশের অনুমতি প্রদান করব। আবুসো! তা অবিহিত। অর্থাৎ অধর্ম।

৬) ‘ভন্তে! আচীণ্ণ কপ্প বিহিত কি?’ আবুসো, আচীণ্ণ কপ্প কি? ভন্তে! আমার উপাধ্যায় এরূপ করতেন আমিও এরূপ করব, আমার আচার্য এরূপ করতেন, আমিও তদনুরূপ করব, আমার গুরু এরূপ করতেন, আমিও এরূপ আচরণ করব। এরূপ করা কি বিহিত?

আবুসো! এখানে কোন কোন আচীণ্ণ কর্ম বিহিত এবং কোন কোন আচীণ্ণ কর্ম অবিহিত বা অধর্ম।

৭) ‘ভন্তে! অমথিত কপ্প কি বিহিত?’ আবুসো, অমথিত কপ্প কি?’ ভন্তে! দুধ যা বর্তমানে দুগ্ধত্ব অতিক্রম করেছে কিন্তু এখনও দধিতে পরিণত হয়নি, তা ঘোলকরে (লচ্ছী বা মাঠা) বিকালে পান করা কি বিহিত? আবুসো! তা অবিহিত বা অধর্ম।

৮) ভন্তে! জলোগী-পান কি বিহিত? আবুসো! জলোগী পান কি?’ ভন্তে! সুরা যা এখনও পরিপক্ক হয়নি, অর্থাৎ এখনও সুরাত্ব প্রাপ্ত হয়নি বা কাঁচা মদ তা কি পান করা যাবে? আবুসো! তাও অবিহিত বা অধর্ম।

৯) ভন্তে! অদসক নিসীদন বিহিত কি? আবুসো, অদসক নিসীদন কি?’ ভন্তে! আসন বা চাদরে ঝুল থাকতে পারবে কি? আবুসো! তাও অবিহিত।

১০) ‘ভন্তে! জাত-রূপ-রজত কপ্প বিহিত কি’ আবুসো! জাত-রূপ-রজত কপ্প কি?’ ভন্তে! স্বর্ণ-রৌপ্য গ্রহণ কি বিহিত?’ আবুসো! তাও অবিহিত বা অধর্ম।’

যশ স্থবির বললেন-‘ভন্তে! বৈশালীর বজ্জিপুত্র সঙ্ঘের ভিক্ষুরা এ সমস্ত দশ অবিহিত ধর্মকে ধর্ম বলে প্রচার করছেন, শ্রদ্ধা সম্পন্ন উপাসক-উপাসিকাগণের শ্রদ্ধাকে দোহন করে চলেছেন। এ অধিকরণ বিবাদকে মিমাংসা করা অতীব আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

ভদন্ত রেবত স্থবির সকল ভিক্ষুদেরকে সম্বোধন করে বলেছিলেন-‘এ বিবাদকে এখানে সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত হবেনা। বিবাদ যেখানে উঠেছে, সেখানেই ইহার সমাপ্ত করা উচিত হবে। আমরা সবাই বৈশালী যাব। সকল ভিক্ষুগণ ভদন্ত রেবত স্থবিরের সে প্রস্তাব অনুমোদন করলেন এবং তাঁকে অনুগমণ করলেন।

ইতিমধ্যে বৈশালীর বজ্জিপুত্র ভিক্ষুসঙ্ঘ জানতে পারলেন যে, কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবির এ অধিকরণকে মিমাংসা করার জন্য নিজের পক্ষ তৈরী করে নিয়েছেন। তাঁরা ইহাও জেনে নিয়েছেন যে, তাঁর পক্ষের নেতৃত্বদান করছেন আয়ুস্মান রেবত স্থবির। তখন বজ্জিপুত্র ভিক্ষুসঙ্ঘ ভদন্ত রেবত স্থবিরকে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার জন্য তাঁর সেবক বা উপস্থায়ক সচিব ভদন্ত উত্তরাকে পর্যাপ্ত চীবর, পাত্র, ঔষধি সহ নানা উপঢৌকন প্রদান করে তাঁকে নিজেদের চেয়ে বড় মেনে তাঁকে তাঁদের সঙ্ঘের আচার্য বা গুরু বলে মান্যতা দিলেন এবং তাঁর মাধ্যমে ভদন্ত রেবত স্থবিরের কাছে সংবাদ প্রেরণ করলেন যে, অধিকরণ বা বিচারের সময় রেবত স্থবিরকে কেবল এতটুকু বলতে হবে যে-‘বুদ্ধের জন্ম পূর্বাঞ্চলে হয়েছে, বজ্জিপুত্র ভিক্ষু সঙ্ঘেরাও পূর্বাঞ্চলের। তাঁরাই হলেন ধর্মবাদী। পাবেয়্যকবাসী ভিক্ষুগণ হলেন অধর্মবাদী……। আয়ুস্মান উত্তরের কাছে এ সংবাদ শুনে ভদন্ত রেবত স্থবির তাঁকে উপস্থায়ক বা সচিবের পদ হতেও হটিয়ে দিয়ে তাঁকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

এ সমগ্র প্রকরণ হতে ইহাই আমরা জ্ঞাত হই যে, কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবির ছিলেন পাবার এবং ধর্মবাদী ভিক্ষুদের মধ্যে পাবার ভিক্ষুরা ছিলেন সংখ্যাধিক্য।বৈশালীর ভিক্ষুরা কেবল অধর্মবাদী ছিলেননা, তাঁরা ছিলেন আঞ্চলিকতাবাদীও। তাঁরা বুদ্ধকে আঞ্চলিকতার সীমায় আবদ্ধ রাখতে প্রয়াস করেছেন।

কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবির, আয়ুস্মান রেবত স্থবির, আয়ুস্মান সাণবাসী সম্ভূত স্থবিরের নেতৃত্বে সকল ভিক্ষুসঙ্ঘ বৈশালীতে পদার্পণ করলেন। সমগ্র বৈশালীতে চর্চা শুরু হয়েছিল যে, আয়ুস্মান যশ স্থবির ধর্মের মর্মজ্ঞদের সবাইকে বৈশালীতে একত্রিত করেছেন। এখন নির্ণয় হবে যে, কারা ধর্মবাদী এবং কারা অধর্মবাদী? ভদন্ত রেবত, সম্ভূত, যশ প্রমুখ ভিক্ষুগণ বৈশালীর জেষ্ঠ ভিক্ষুর সাথে যোগাযোগ করলেন। তিনি ছিলেন ভদন্ত সব্বকামী, যাঁর আয়ুস্কাল ছিল তখন একশত বিশ বছর এবং তিনি ছিলেন ভগবান বুদ্ধের উপস্থায়ক অরহত ভদন্ত আনন্দ স্থবিরের শিষ্য এবং তাঁর নিকট হতে প্রত্যক্ষ উপসম্পদা গ্রহণ করেছিলেন।

ভদন্ত রেবত স্থবির ভদন্ত সম্ভূত স্থবিরকে বললেন-‘আবুসো! আমি ভদন্ত সব্বকামী স্থবিরকে দর্শনের জন্য যাচ্ছি। তাঁর নিকট গিয়ে আমি বজ্জিপুত্র ভিক্ষু সঙ্ঘের দশ বস্তু প্রচারের সম্পর্কে ক্রমশ: জিজ্ঞাসা করব। আয়ুস্মান সব্বকামী স্থবিরের কাছে সংবাদ পৌঁছেছিল যে, তাঁর কাছে ভদন্ত রেবত স্থবির সাক্ষাতের জন্য আসছেন। এজন্য তিনি ভদন্ত রেবত স্থবিরের জন্য আসন প্রস্তুত করে রাখিয়েছিলেন।

ভদন্ত সব্বকামীকে আয়ুস্মান রেবত স্থবির অভিবাদন করে একপাশে দাঁড়ালেন এবং অনুমতি দিলে পরে বসে পড়লেন। অনেক বিলম্ব হওয়ার পর ভদন্ত রেবত ভাবলেন-মান্যবর সব্বকামী স্থবির এত বয়সাধিক্য হওয়ার পরও শুয়ে পড়ছেননা, তাহলে আমি কিভাবে বিশ্রাম নিতে পারি? তখন রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে উভয়ের মধ্যে বাক্যালাপ আরম্ভ হল। প্রথমে একে অন্যের কাছ হতে সাধনা বিষয়ক কুশলক্ষেম জিজ্ঞাসা হল। যেমন- তুমি এ সময় কোন ধ্যানে রমিত আছো? রেবত ভন্তেও জানতে চাইলেন এসময় আপনিও কোন ধ্যানে রত আছেন ইত্যাদি।

ভদন্ত রেবত স্থবির বলেছিলেন-‘এ সময় আমি মৈত্রী ভাবনার ধ্যানে রত আছি। ভদন্ত সব্বকামী জানালেন-‘এসময় আমি শূণ্যতার ধ্যানে অতিবাহিত করছি। অত:পর প্রসঙ্গানুসারে বৈশালীর বজ্জিপুত্র সঙ্ঘের দশ বস্তু প্রচারের বিষয়েও চর্চা আরম্ভ করলেন। ভদন্ত রেবত স্থবির জিজ্ঞাসা করলেন-‘আপনি আপনার উপাধ্যায় ভদন্ত আনন্দ স্থবিরের শ্রী চরণে বসে ধর্ম এবং বিনয় অধ্যয়ন করেছেন। আপনার কি মনে হয় যে, পাবেয়্যক ভিক্ষুগণ কি ধর্মবাদী, না বজ্জিপুত্রক ভিক্ষুসঙ্ঘ ধর্মবাদী? জেষ্ঠ্য ভিক্ষু ভদন্ত সব্বকামী বললেন-‘আবুসো! তুমিও তোমার উপাধ্যায়ের শ্রীচরণে বসে ধর্ম-বিনয় শিখেছ। তোমার স্বয়ং কি মনে হয় যে, কে ধর্মবাদী এবং কে অধর্মবাদী? পাবেয়্যক, না বজ্জিপুত্রক সঙ্ঘ? ভদন্ত রেবত স্থবির বললেন যে-‘ধর্ম এবং বিনয়ের আলোকে আমার এরকম মনে হয় যে, বজ্জিপুত্রক সঙ্ঘ হলেন অধর্মবাদী এবং পাবেয়্যক ভিক্ষু সঙ্ঘ হলেন ধর্মবাদী। মান্যবর সব্বকামী স্থবির অনুমোদন দিলেন যে-‘ধর্মের আলোকে এবং বিনয়ের অনুসারে আমারও সেরকমই দৃষ্টিগোচর হয়। আবার সিদ্ধান্ত হয় যে, এ অধিকরণের শান্ত করার জন্য পরিষদ বা সম্মেলন আহ্বান করা উচিত হবে। সম্মেলনের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বালুকারাম বিহার, যা বৈশালীতেই অবস্থিত। পরিষদের কার্য নির্বাহের জন্য আট সদস্য বিশিষ্ট এক কার্যকরী কমিটি গঠন করা হল, সেখানে চার সদস্য ছিলেন বৈশালীক- তাঁরা হলেন- ভদন্ত সব্বকামী, ভদন্ত সার, ভদন্ত ক্ষুদ্র শোভিত এবং ভদন্ত বার্ষব গ্রামিক। অন্যপক্ষের অর্থাৎ পাবেয়্যক ভিক্ষু সঙ্ঘের চার সদস্য হলেন ভদন্ত রেবত, ভদন্ত সম্ভূত, ভদন্ত যশ এবং ভদন্ত সুমন। আয়ুস্মান যশ স্থবির ছিলেন প্রধান আহ্বায়ক এবং সম্মেলনের কার্য নির্বাহ পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন আয়ুস্মান রেবত স্থবির এবং অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচন করা হল বয়োজেষ্ঠ্য ভদন্ত সব্বকামী স্থবিরকে।

সঙ্গীতি বা সম্মেলন শুরু হল। আয়ুস্মান রেবত স্থবির বললেন-‘সঙ্ঘ অনুমতি দিলে আমি ভদন্ত সব্বকামী স্থবিরের কাছে দশবস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারি কি? আয়ুস্মান সব্বকামী তখন বললেন-‘সঙ্ঘ অনুমতি দিলে আয়ুস্মান রেবত স্থবিরই দশ বস্তুর প্রশ্ন উত্থাপন করুন। তখন সঙ্ঘ মৌনতা সহকারে স্বীকৃতি দিলেন।

আয়ুস্মান রেবত স্থবির তখন জানতে চাইলেন-

১) ভন্তে! শৃঙ্গি-লবণ রাখা কি বিহিত? সব্বকামী ভন্তে বললেন-‘আবুসো! বিহিত নয়।ভগবান ইহা কোথায় নিষিদ্ধ করেছিলেন? শ্রাবস্তীতে, সুত্ত বিভঙ্গে। শৃঙ্গে লবণ রাখলে কি দোষ হয়? প্রায়শ্চিত্ত বা পাচিত্তিয দোষ হয়ে থাকে।

ভদন্ত সঙ্ঘ! আমাকে শ্রবণ করুন। প্রথম বস্তুর নির্ণয় হয়ে গিয়েছে। শৃঙ্গে লবণ রাখা হল অবিহিত ও অধর্ম। তা হল ধর্ম বিরুদ্ধ। শাস্তা শাসনের তা হল বাহিরে।ইহা প্রথম শলাকা নিক্ষেপ করলাম।’

২) ভন্তে! দ্বাঙ্গুল কপ্প কি বিহিত? আবুসো! তা অবিহিত। তা কোথায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে? রাজগৃহে, তা সুত্ত বিভঙ্গে উল্লিখিত হয়েছে। তাতে কোন আপত্তি হয়? বিকাল-ভোজনে পাচিত্তিয় আপত্তি হয়।

ভন্তে, সঙ্ঘ! আমাকে শ্রবণ করুন। দ্বিতীয় বস্তুর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, দ্বাঙ্গুল কপ্প হল অবিহিত ও ধর্ম-বিনয় বিরুদ্ধ। তা শাস্তা শাসনের বাহিরে। ইহা দ্বিতীয় শলাকা নিক্ষেপ হল। ৩) ভন্তে! গ্রামান্তর কল্প কি বিহিত? আবুসো! তা অবিহিত। কোথায় তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে? শ্রাবস্তীতে, তা সুত্ত বিভঙ্গে উল্লিখিত হয়েছে। তাতে কোন দোষ হয়ে থাকে? তা হল অতিরিক্ত ভোজন সম্বন্ধিত পাচিত্তিয।

এভাবে তৃতীয় শলাকা নিক্ষেপ করছি যে, গ্রামান্তর কল্প হল অবিহিত ও অধর্ম।

৪) ভন্তে! আবাস কল্প কি বিহিত? আবুসো! তা হল অবিহিত। কোথায় তা নিষেধ করা হয়েছে? রাজগৃহে, তা উপোসথ সংযুক্তে বর্ণিত হয়েছে। তাতে কোন আপত্তি হয়ে থাকে? বিনয় অতিক্রমণে তাতে ‘দুক্কট’ বা দুষ্কৃত আপত্তি হয়ে থাকে। ভদন্তগণ! সিদ্ধান্ত হল যে, আবাস কল্প হল অবিহিত।

৫) ভন্তে! অনুমতি কল্প কি বিহিত? আবুসো! তা হল অবিহিত। তা কোথায় নিষেধ করা হয়েছে? চাম্পেয্যক, বিনয় বস্তুতে। তাতে কোন আপত্তি হয়ে থাকে? বিনয় অতিক্রমণে ‘দুক্কট’ বা দুষ্কৃত আপত্তি হয়ে থাকে। ভদন্তগণ! নির্ণয় হল যে, অনুমতি কল্প হল অবিহিত ও অধর্ম।

৬) ভদন্ত! আচিণ্ণ কল্প কি বিহিত? আবুসো! তা হল কিছু বিহিত এবং কিছু অবিহিত। নির্ণয় হল যে তা বিহিতও এবং অবিহিতও।

৭) ভন্তে! অমথিত কপ্প বিহিত কি? আবুসো! তা অবিহিত। কোথায় নিষেধ করা হয়েছে? শ্রাবস্তীতে, সুত্র বিভঙ্গে উল্লিখিত হয়েছে। কোন আপত্তি হয়ে থাকে? অতিরিক্ত ভোজনে পাচিত্তিয়। নির্ণয় হল তা অবিহিত ও অধর্ম।

৮) ভন্তে! জলোগী-পান বিহিত কি? আবুসো! তা বিহিত নয়। কোথায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে? কোসম্বীতে, সুত্র বিভঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। কোন আপত্তি হয়? সুরা-মেরেয্য পানে পাচিত্তিয। নির্ণয়, জলোগী-পান অবিহিত ও অধর্ম।

৯) ভন্তে! অদসক নিসীদন বিহিত কি? আবুসো! তা বিহিত নয়। কোথায় নিষেধ আছে? শ্রাবস্তীতে, সুত্র বিভঙ্গে উল্লেখ আছে। কি আপত্তি হয়? পাচিত্তিয আপত্তি হয়। ভদন্তগণ, নির্ণয় হল যে, অদসক নিসীদন অবিহিত ও অধর্ম।

১০) ভন্তে! জাত-রূপ-রজত কপ্প বিহিত কি? আবুসো! তা বিহিত নয়। কোথায় নিষিদ্ধ হয়েছে? রাজগৃহে।সুত্র বিভঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। জাত-রূপ-রজত গ্রহণ বিষয়ক নিস্সগ্গিয পাচিত্তিয। ভদন্তগণ! নির্ণয় হল যে, জাত-রূপ-রজত গ্রহণ হল অবিহিত ও অধর্ম।

এ সঙ্গীতে সাত শত ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন। এজন্য এ সঙ্গীতিকে সপ্ত শতিকা সঙ্গীতি বলা হয়। প্রকরণ শান্ত হয়েছিল। দশবস্তু প্রচার হল অবিহিত-ইহাই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ধর্মের পুন: স্থাপনা হয়েছিল।

অধর্মবাদী ভিক্ষুদেরকে সঙ্ঘ হতে বহিস্কার করা হল।

সম্পূর্ণ এ ঘটনাক্রমের নায়ক গলেন কাকণ্ডপুত্র ভদন্ত যশ স্থবির।ধর্মের স্থাপনার জন্য তিনি কতই না প্রযত্ন করেছেন। বৈশালী হতে কোসম্বী, কোসম্বী হতে অহোগঙ্গা পর্বত অর্থাৎ বর্তমানের হরিদ্বার। সেখান হতে পুন: সহজাতপুর, ইলাহাবাদের নিকট আসা এবং সেখান হতে সবাইকে নিয়ে বৈশালী আসা….. ধর্মের জন্য ইহার চেয়ে উৎসাহপূর্ণ বীর্য আর কি আছে?

কাকণ্ডপুত্র যশ স্থবির বাস্তবে অতীব বীর্যবান ভিক্ষু ছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টায় ভাল লোকেরা সক্রিয় হয়েছিলেন। খারাপ বা অন্যায় তখনই প্রবল হয়, যখন ভাল লোকেরা নিষ্ক্রিয় থাকেন। ন্যায় পরায়ন ও ভাল লোকেরা সক্রিয় হলে অন্যায় পরাজিত হতে বাধ্য হয়। ইহাই হল ধর্ম।

এই খবরটি সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
১,৭৪৭,৩৩১
সুস্থ
১,৫৬১,০৪৩
মৃত্যু
২৮,২৮৮
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
১৫,৮০৭
সুস্থ
১,০৩৭
মৃত্যু
১৫
স্পন্সর: একতা হোস্ট
জ্ঞানঅন্বেষণ কর্তৃক সকল অধিকার সংরক্ষিত © ২০২০
Developed By: Future Tech BD