1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : স্থবির এম ধর্মবোধি : এম ধর্মবোধি স্থবির

প্রয়োজনীয়ঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট,সফটওয়্যার কিংবা মোবাইল এপ তৈরি করতে আজই যোগাযোগ করুনঃ ০১৯০৭৯৮৬৩৬৯ আমরা যেসব সার্ভিস দিয়ে থাকিঃ বিজনেস ওয়েবসাইট,ই-কমার্স ওয়েবসাইট,সোশ্যাল ওয়েবসাইট,অনলাইন নিউজপেপার,বেটিং ওয়েবসাইট,কেনা বেচার ওয়েবসাইট,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ইত্যাদি। আমরা আরো যেসব সেবা দিয়ে থাকিঃ সুপারশপ সফটওয়্যার,ফার্মেসি সফটওয়্যার,ক্লথিং/বুটিক ষ্টোর সফটওয়্যার,একাউন্টিং সফটওয়্যার,HRM ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার,স্কুল/কলেজ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার সহ সকল ধরনের মোবাইল এপ তৈরি করে থাকি আপনার বাজেটের মধ্যেই। তো দেরি না করে আজই যোগাযোগ করুন এবং অর্ডার করুন আপনার চাহিদা মত সেবা। ফিউচার টেক বিডি
শিরোনামঃ
জলতরঙ্গ’ বিটিভি চট্টগ্রামের পর্দায় এসেছে কুন্তল বড়ুয়া দমদমা কেন্দ্রীয় অভয়শরণ বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কার্যনিবাহী কমাটি গঠন কার্য সম্পান্ন উপসংঘরাজ সংঘরশ্মি অগ্রবংশ মহাস্থবিরের সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য ব্যারিস্টার জ্যোতিঃর্ময় বড়ুয়া’র মাতা রত্না বড়ুয়া’র পরলোকগমন ভদন্ত উপালি মহাথের পরপারগত হয়েছেন ১০ম সংঘরাজ জ‍্যোতিঃপাল মহাথের’র ১১১তম জন্মবার্ষিকী সাড়ম্বরে উদযাপিত ধার্মীক উপাসক নিরঞ্জন বড়ুয়া’র অনিত্যসভা ও সংঘদান সম্পান্ন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার চায় এনএল সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া যেসব ফল খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকে ডায়াবেটিস আঞ্চলিক সংঘপ্রধান প্রয়াত শ্রদ্ধালংকার মহাথেরো’র জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত

কঠিন চীবর দানের প্রসঙ্গকথা

  • আপডেটের সময়ঃ মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৮০ বার পঠিত

কঠিন চীবর দানের প্রসঙ্গকথা
এস.জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু

বুদ্ধের উপদেশে দান অত্যন্ত গুরুত্ববহ স্থান দখল করে আছে। সকল বোধিসত্ত্বগণও পারমি পূরণ করার ক্ষেত্রে দান পারমি পূরণ সর্বাগ্রেই আরম্ভ করেছিলেন। এবং পারমি সমূহের মধ্যে দান পারমি প্রথমেই উল্লেখ আছে। বৌদ্ধ সাহিত্যে অপরাপর দানের চাইতে কঠিন চীবর দান একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে, বৌদ্ধ ধর্মে অপরাপর দানের চাইতে এটি বিশেষ বিশেষত্বে বিরাজিত। বুদ্ধের শাসনের আয়ু হল বিনয়। আর কঠিন চীবর দান হল বিনয়ের অন্তর্গত একটি দান। তাই এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দান।

বঙ্গীয় অঞ্চলে বহুপূর্বে কঠিন চীবর দান প্রচলিত ছিল, কিন্তু খ্রিস্ট্রীয় ত্রয়োদশ শতকে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, ধর্মীয় প্রভৃতি কারণে ধর্মের বিপর্যয় ঘটলে অন্যান্য ধর্মীয় আচার আচরণের মতো কঠিন চীবর দান প্রথাও বিলুপ্ত হয়ে যায়। অবিভক্ত বাংলায় মহাপরিনিব্বান সুত্তং অনুবাদক রাজগুরু ধর্মরতœ মহাস্থবির, ‘প্রজ্ঞাভাবনা’, ‘ভিক্ষু প্রাতিমোক্ষ’, ‘বালাবতার’ (পালি ব্যকরণ) প্রভৃতি গ্রন্থ প্রণেতা বিনয়াচার্য বংশদীপ মহাস্থবির ও পালি প্রবেশ রচয়িতা আর্যশ্রাবক জ্ঞানীশ্বর মহাস্থবিরত্রয় শ্রীলংকা হতে শিক্ষা নিয়ে এসে ১৯১৩ ইংরেজীতে বাংলাদেশে কঠিন চীবর দানের প্রচলন করেন। এবঙ সদ্ধর্মকীর্ত্তি অভয়তিষ্য মহাস্থবির(পরবর্তীতে সপ্তম সংঘরাজ) কঠিন চীবর দানের ব্যাপক প্রসার ঘটান অন্যান্য গুণী-জ্ঞানী ভিক্ষুদের সহযোগে।

বাঙালি বৌদ্ধরা অতি সমারোহে কঠিন চীবর দানোৎসব উদ্যাপন করে থাকে। প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন হতে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত নির্দিষ্ট একমাসের মধ্যে যে কোন একটি দিন চীবর দানের জন্য ধার্য করে ভিক্ষু-সংঘ ও পার্শ্ববর্তী গ্রামবাসীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। নির্ধারিত চীবর দান সম্পাদনের জন্য বেশ কিছুদিন পূর্ব হতে শুরু হয় প্রস্তুতি; শ্রদ্ধাদান সংগ্রহ, চিঠিপত্র ছাপানো ও বিলি করা, চীবরাদি তৈরি, দানীয় সামগ্রী ক্রয় ইত্যাদি। কয়েক দিন পূর্ব হতে বিহার অঙ্গন নানা প্রকার রঙিন কাগজ দিয়ে সজ্জিত করা হয়। তখন সমগ্র গ্রামে পড়ে যায় উৎসবের সাড়া। নির্দিষ্ট দিনে প্রতিটি পরিবারে আত্মীয়-স্বজন সমবেত হয় কঠিন চীবর দানোৎসবে যোগদান করার জন্য। বিহারে আগত ভিক্ষু-সংঘ এবং অতিথিবৃন্দকে উত্তমরূপে আপ্যায়ন করা হয়। এ উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গনে নানা প্রকারের ছোটখাট ব্যবসার পসরা বসে। বিহার অঙ্গন যেন একটি মেলায় পরিণত হয়। বিকেল দেড়টা-দু’টার সময় গ্রামবাসী ও অভ্যাগতবৃন্দ নতুন ও সুন্দর কাপড় পরে বিহার প্রাঙ্গনে সমবেত হয়। যুব সম্প্রদায় বুদ্ধকীর্ত্তন গেয়ে গ্রামবাসীদের বিহারে নিয়ে আসে। মহিলারা মাথায় পুরোহিত (থারা পঁই=ধর্মপূজা) নিয়ে সারিবদ্ধভাবে বিহারে আগমন করে। কারো কারো মাথায় থাকে চীবরের থালা। বিহার আঙ্গিনায় (শহরাঞ্চলে অনেক সময় কোন কোন কমিউনিটি সেন্টার জাতীয় স্থানে) প্যা-েলের নীচে উপবেশন করে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা আর প্যা-েলের সামনে সজ্জিত মঞ্চে উপবেশন করেন আমন্ত্রিত ভিক্ষু-সংঘ। শুরু হয় কঠিন চীবর দানসভা।
কঠিন চীবর প্রবর্তনের পটভূমি:

একদা গৌতম সম্বুদ্ধ শ্রাবস্তীর(ভারতের উত্তর প্রদেশস্থ বর্তমান সাহেত-মাহেত। শ্রাবস্তী হল তৎকালীন ১৬ টি মহাজনপদের অন্যতম কোশল রাজ্যের রাজধানী) নিকটে জেতবনের অনাথপি-িক শ্রেষ্ঠী কর্তৃক নির্মিত বিহারে অবস্থানরত ছিলেন। সে সময় পাঠেয়বাসী (কোশল রাজ্যের পশ্চিম পাশের একটি অঞ্চলের নাম পাঠেয়) ত্রিশজন ভিক্ষু সকলেই অরণ্যবাসী ভিক্ষান্নভোজী, পাংশুকুল(পরিত্যক্ত বস্ত্র) চীবর এবং ত্রি-চীবরধারী(একাজিক, যা শরীরে উপরিভাগে, দোয়াজিক-দোপাট্টা ও অন্তর্বাস- শরীরের নি¤œভাগে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র) ছিলেন। তাঁরা বুদ্ধদর্শন মানসে সকলে স্ব-স্ব স্থান হতে বের হলেন। কিন্তু তাঁরা শ্রাবস্তীতে বুদ্ধ সন্নিধানে পৌঁছার আগেই বর্ষাবাস সমাগত হল এবং ভিক্ষুরা নিজেরা বুঝলেন যে, বর্ষাবাসের দিন তাঁরা শ্রাবস্তীতে পৌঁছতে পারবেন না। কিন্তু তাঁরা ছিলেন শ্রাবস্তী হতে মাত্র ছয় যোজন(১যোজন = ৭মাইল) দূরত্বে। তাঁরা নিরুপায় হয়ে পথিমধ্যে ধনকুবের মে-কপুত্র ধনঞ্জয় শ্রেষ্ঠী কর্তৃক নির্মিত সাকেত নগরে বর্ষাবাস আরম্ভ করলেন। ভিক্ষুগণ বুদ্ধ দর্শন করতে অসমর্থ হয়ে আক্ষেপ করে বললেন, “আমাদের গন্তব্য শ্রাবস্তী এ স্থান হতে মাত্র ছয় যোজন দুরত্বে এবং বুদ্ধ সেখানে অবস্থান করছেন। হায়! আমরা কতই অভাগা, এত নিকটে থাকা সত্ত্বেও বুদ্ধ দর্শন হতে বঞ্চিত হচ্ছি।” ফলতঃ তাঁরা উৎকণ্ঠিত চিত্তে বর্ষাবাস যাপন করতঃ বিনয় বিধানানুযায়ী প্রবারণা কর্ম সম্পাদন করে বর্ষার সময় কাদা ঠিকরিয়ে পড়া ভেজা চীবরে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে শ্রাবস্তীর অনাথপি-িক (প্রকৃত নাম সুদত্ত) শ্রেষ্ঠী দানকৃত জেতবন বিহারে বুদ্ধের নিকট উপস্থিত হলেন।

যথারীতি বুদ্ধকে অভিবাদন করে তাঁরা একপ্রান্তে বসলে বুদ্ধ তাঁদের কুশল জিজ্ঞেস করলে ভিক্ষুরা বললেন, “ভগবান, আমরা নিরুপদ্রবে ছিলাম, সুখে দিন যাপন করেছি। আমরা নিরাপদে নির্বিঘেœ বর্ষাবাস যাপন করেছি আর ভিক্ষান্নসংগ্রহেও আমাদের কোন ক্লেশ সহ্য করতে হয়নি।” এবং পরে তাঁরা পাঠেয় দেশ হতে বুদ্ধ দর্শনের আগমনে বিড়ম্বনার কথা বর্ণনা করে আদ্র চীবরে, কর্দম লিপ্তাবস্থায় আগমনের কারণ বললেন। তৎপর ধর্মরাজ বুদ্ধ একটি নিয়ম প্রবর্তন করার মানসে ভিক্ষুগণকে আহ্বান করলেন। ভিক্ষুগণ সমবেত হলে বুদ্ধ নিয়ম প্রজ্ঞাপ্ত করার জন্য বললেন, “হে ভিক্ষুগণ, আমি নির্দেশ প্রদান করছি বর্ষাবাস সম্পন্নকারী ভিক্ষুগণ কঠিন চীবর আস্তীর্ণ করবে।” এবং তখন হতেই কঠিন চীবরের ব্যবহার শুরু হয়।
কঠিন চীবর প্রস্তুত করার প্রণালী :

কঠিন চীবর প্রস্তুত করার চার প্রকার প্রণালী বিদ্যমান। যথা: (১) যে দিন কঠিন চীবর দান করা হবে সে দিনের হতে তৎপর দিনের সূর্যোদয়ের পূর্বের মুহুর্ত পর্যন্ত এই চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই সুতা কাটা হতে আরম্ভ করে কাপড় বুনা, সেলাই করা ইত্যাদি চীবর প্রস্তুতের যাবতীয় কার্য সম্পাদন করতে হবে। এই প্রণালীতে দান করলে কায়িক, বাচনিক ও মানসিক পুণ্য অধিকতর লাভ হয়।
(২) প্রমাণমত শ্বেত বস্ত্রে চীবর সেলাই ও রঙ করে দান দিতে হয়। এতে প্রথমোক্ত কঠিন চীবর প্রস্তুতির পরিশ্রম হতে কম পরিশ্রম বিধায় কায়িকাদি পুণ্য কম হবে।
(৩)পূর্বের সেলাই ও রং করা চীবর দ্বারা কঠিন চীবর দান দেওয়া যায়। এতে চীবর প্রস্তুত জনিত কায়িক শ্রম হয় না, সেহেতু কায়িকাদি পুণ্য লাভ করা যায় না।
(৪)সেলাই না করে শ্বেতবস্ত্র কঠিন চীবর দান দেওয়া যায়। তবে সে বস্ত্রটি চীবরে পরিণত করে পরদিন সূর্যোদয়ের পূবেই কঠিন চীবর করে নিতে হয়।
চীবর রঞ্জিত করিবার রঙ: ১) বৃক্ষের শিকড়ের রঙ, ২) বৃক্ষের গুড়ির রঙ, ৩) বৃক্ষ ত্বকের রঙ, ৪) বৃক্ষ পাতার রঙ, ৫) পুষ্পের রঙ ও ৬) ফলের রঙ। কঠিন চীবর দানের বিধি:

ভিক্ষু-শ্রামণের, দায়ক-দায়িকা, উপাসক ও উপাসিকাদের মধ্যে যে কেউ কঠিন চীবর দান করতে পারেন। কঠিন চীবর দান করতে হলে প্রথমে কমপক্ষে পাঁচজন ভিক্ষু সংঘের সন্মুখে চীবর উপস্থিত করে যথানিয়মে দান করতে হয়। ত্রি-চীবর(দোয়াজিক, একাজিক ও অন্তর্বাস) অথবা ত্রি-চীবরের মধ্যে যেকোন একটি চীবর দ্বারা কঠিন চীবর দান করা যেতে পারে। কঠিন চীবর দান নি¤œলিখিত প্রণালী হল, দাতাকে দানের সময় তিনবার “নমো তস্স ভগবতো অরহতো সম্মা সম্বুদ্ধসস” বলে “ইমং কঠিন চীবরং ভিক্খু সঙ্ঘস্স দেম, কঠিনং অত্থরিতুং।” অর্থাৎ এই কঠিন চীবরখানি ভিক্ষুসঙ্ঘকে দান দিচ্ছি কঠিনে পরিণত করবার জন্য এই বাক্য তিনবার বলে দান করতে হয়।

কঠিনে পরিণত করার বিধি :

দাতাদের দানকৃত চীবরকে কিন্তু কঠিন চীবর বলা হয় না। তা বিনয়ানুগ পদ্ধতিতে ভিক্ষুসংঘের দ্বারা কঠিনে রুপান্তরের আবশ্যকতা আছে। যেমন, চীবর সংঘের উদ্দেশ্য উৎসর্গিত হবার পর মাননীয় ভিক্ষুগণ তা ভিক্ষু সীমায় নিয়ে যাবেন। অতঃপর আপত্তি দেশনা করার পর সংঘের অনুমোদন ক্রমে দক্ষ ও সমর্থ ভিক্ষু বলবেন “মাননীয় সঙ্ঘ, আমার প্রস্তাব শ্রবণ করুন। এই সঙ্ঘের জন্য কঠিন চীবর উৎপন্ন হয়েছে। যদি সঙ্ঘ উচিত মনে করেন তাহলে সঙ্ঘ এই কঠিন চীবর কঠিনে পরিণত করার জন্য (বিহারে) অবস্থানরত ভিক্ষুকে(ভিক্ষুর নামোল্লেখ হবে) প্রদান করতে পারেন; ইহা জ্ঞপ্তি বা অনুমতি প্রার্থনা করছি।”

“মাননীয় সঙ্ঘ। আমার প্রস্তাব শ্রবণ করুন। এই সঙ্ঘের জন্য কঠিন চীবর উৎপন্ন হয়েছে। সঙ্ঘ এই কঠিন চীবর কঠিনে পরিণত করার জন্য (বিহারে) অবস্থানরত ভিক্ষুকে(ভিক্ষুর নামোল্লেখ হবে) দিচ্ছেন। যেই আয়ুষ্মান এই কঠিন চীবর কঠিনে পরিণত করার জন্য (বিহারে) অবস্থানরত ভিক্ষুকে(ভিক্ষুর নামোল্লেখ হবে) দেওয়া উচিত মনে না করেন তিনি তাঁর বক্তব্য ভাষায় প্রকাশ করুন।” কোন ভিক্ষু যদি আপত্তি না করেন তবে সেই সঙ্ঘ নির্বাচিত ভিক্ষু আবার বলবেন, “সঙ্ঘ কর্তৃক এই চীবর ‘কঠিন’-এ পরিণত করার জন্য (বিহারে) অবস্থানরত ভিক্ষুকে(ভিক্ষুর নামোল্লেখ হবে) দিলেন। সঙ্ঘ এ প্রস্তাব উচিত মনে করে মৌন রয়েছেন আমি এরূপ ধারণা করছি।”

অতঃপর বিহারে অবস্থানরত যাঁর নাম উল্লেখ করে কর্মবাক্য(বিনয়ানুগ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্য) পাঠ করা হয়েছে তিনি নিজের চীবরে হাত বুলাতে বুলাতে “ইমং চীবরং পচ্চুদ্ধরমি” তিনবার বলবেন। তারপর কঠিন চীবরের যেকোন এক কোণে উভয় পাশের হানা হতে চার আঙ্গুল দূরে কালির দ্বারা ময়ূরের চোখ প্রমাণ একটি কপ্পবিন্দু দিতে হবে। তা দেবার সময় “ইমং চীবরং কপ্পবিন্দুং করোমি” তিনবার বলবেন এবং তিনবারই উপর্যুপরি বিন্দু অঙ্কিত করবেন। কপ্পবিন্দু করার পর চীবরটিতে হাতে বুলাতে বুলাতে “ইমায় চীবরং কঠিনং অত্থরামি” এবাক্য তিনবার উচ্চারণ করবেন। তৎপর বিহারে প্রথম বর্ষাবাসিক অন্য ভিক্ষু থাকলে কঠিন চীবর লাভী ভিক্ষু তাঁকে তিনবার বলবেন “অত্থতং আবুসো, সঙ্ঘস্স কঠিনং ধাম্মিকো কঠিনত্থরো অনুমোদাহি।” তৎপর ঐ ভিক্ষুকে “অত্থতং ভন্তে, সঙ্ঘস্স কঠিনং ধাম্মিকো কঠিনত্থারো অনুমাদামি” এবাক্য তিনবার বলতে হবে। সেই বিহারে প্রথম বর্ষাবাসিক যতজন ভিক্ষু থাকবেন প্রত্যেককে উক্তরুপে অনুমোদন করাতে হবে। জ্ঞাতব্য যে, উভয় বাক্য বলার ক্ষেত্রে ছোট ভিক্ষু ‘ভন্তে’ এবং বড় ভিক্ষু ‘আবুসো’ বলবেন ।

কঠিন চীবর লাভী ভিক্ষুর পাঁচ দোষ মুক্তি ও পাঁচ প্রকার ফল :

(১) না বলে গমন করা। অর্থাৎ পূর্বাহ্নের জন্য নিমন্ত্রিত ভিক্ষু নিমন্ত্রণকর্তার গৃহ হতে সঙ্গী ভিক্ষুকে জিজ্ঞেস না করে অন্য গৃহে গমন।
(২) বিনা ত্রি-চীবরে বিচরণ করা। অর্থাৎ অধিষ্ঠানকৃত ত্রি-চীবর রাত্রিকে নিজের হস্তপাশে বা দেড় হাতের মধ্যে না রেখে সূর্যোদয় করা।
(৩) গণভোজন করা। অর্থাৎ চারজনের অনধিক ভিক্ষু নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে ভোজন করা।
(৪) যথেচ্ছা চীবর ব্যহার করা। অর্থাৎ, অতিরিক্ত চীবর যত ইচ্ছা তত অধিষ্ঠান কিংবা বেনামা করে নিজের অধিকারে রাখা।
(৫) যে স্থানে যত চীবর পাওয়া যাবে সমস্তই তাঁদের হওয়া। অর্থাৎ যে বিহারে যাঁরা কঠিন চীবর লাভ করেন সে বিহারে ভিক্ষু সংঘের উদ্দেশ্য যত চীবর প্রদত্ত হয় তৎসমুদয় তাঁদের অধিকারে থাকা। তাতে কোন আগন্তুক ভিক্ষুর অধিকার থাকে না।

উল্লেখ্য, যেদিন হতে ভিক্ষু কঠিন চীবর লাভ করেন সেদিন থেকে ফাল্গুনী পূর্ণিমা পর্যন্ত উপরোক্ত পাঁচ প্রকার দোষ হতে মুক্ত থেকে পাঁচ প্রকার বিশেষ ফল লাভ করে থাকেন।

অন্যান্য দানের চেয়ে কঠিন চীবর দানের পার্থক্য:
অপরাপর দানের চেয়ে কঠিন চীবর দানের অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। অন্য যে কোন দান বছরে যে কোন সময় করা যায়। কিন্তু কঠিন চীবর দান শুধু আশ্বিনী পূর্ণিমা হতে কার্তিকী পূর্ণিমা এই এক মাসেই করা যাবে। আষাঢ়ী পূর্ণিমা হতে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত ১ম বর্ষাবাস সমাপনকারী ভিক্ষুই কঠিন চীবর লাভ করতে পারে। শ্রাবণী পূর্ণিমা হতে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত ২য় বর্ষবাস সমাপনকারী ভিক্ষু কঠিন চীবর লাভ করতে পারেন না। একজন ভিক্ষু বছরে একটি মাত্র কঠিন চীবর লাভ করতে পারে। যে বিহারে ভিক্ষু বর্ষাবাস করে যে বিহার ব্যতীত অন্যস্থানে এ দান করা যায় না এবং একটি বিহারে একবার মাত্র এ দান করা যাবে।

চীবর ‘কঠিন’ হবার কারণ: ভিক্ষু পাঁচ প্রকার ফল লাভ করার সামর্থ্যে স্থির থাকায় ‘কঠিন’ বিশেষণ দিয়ে চীবরকে কঠিন চীবর নামে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়া এটি বিনয়ান্তুর্গত বলে। বছরে একবার একবিহারে একজন ভিক্ষুকে দান করা যায় বলে, আশ্বিনী পূর্ণিমা হতে কার্তিকী পূর্ণিমার বাইরের সময়ে দান করা যায় না বলে, ১ম বর্ষাবাস ব্যতীত ২য় বর্ষাবাসকারী এবং বর্ষবাস অধিষ্ঠান বিহীন ভিক্ষু কঠিন চীবর লাভ করতে পারে না বলে, সংঘের অনুমোদন লাগে বলে ইত্যাদি কারণে ‘কঠিন’ চীবর বলা হয়।

কঠিন চীবর দানের ফল:
একদা ভগবান পাঁচশত ষড়াভিজ্ঞা অরহৎ ভিক্ষুসহ আকাশ পথে গিয়ে হিমালয়ের অনোবতপ্ত(বর্তমান মানস সরোবর) মহা সরোবরে উপস্থিত হন। তথায় বুদ্ধ ও পঞ্চশত ভিক্ষুসংঘ সহস্রদল পদ্মে উপবেশন করলেন। সেই সময় বুদ্ধ নক্ষত্র শোভিত দিবাকর সদৃশ শোভমান হচ্ছিলেন। তখন বুদ্ধ কত্তৃক আদিষ্ট হয়ে নাগিত স্থবির কঠিন চীবর দানের মাহাত্ম্য সম্পর্কে কঠিন চীবর দানের অসীম-অপ্রমেয় ফল সম্পর্কে বললেন। অতঃপর বুদ্ধ নিজেও তাঁর অতীত জীবনে কঠিন চীবর দানের ফল বর্ণনা করলেন। উল্লেখ্য, গৌতম সম্যক সম্বুদ্ধের পূর্বতন পঞ্চম এবং অষ্টবিংশতি বুদ্ধের ২৩তম সিখী সম্যক সম্বুদ্ধও কঠিন চীবর দানের তাৎপর্যপূর্ণ মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছিলেন। কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে কঠিন চীবর দানের ফল এখানে লিপিবদ্ধ না করে শ্রদ্ধেয় উপসংঘরাজ জিনবংশ মহাস্থবির প্রণীত “সদ্ধর্ম রতœ চৈত্য’ও আমার রচিত “পূর্ণিমা সন্দর্শন” বই হতে পাঠ করার জন্য মাননীয় পাঠকগণকে অনুরোধ করছি। তবে কঠিন চীবর দানের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য শুধু মাত্র তিনটি উপদেশ এখানে উল্লেখ করছি –
(১) ছোট বড় যত প্রকারের দান আছে একখানা কঠিন চীবর দানের ফলের তুলনায় ঐ দান ষোল ভাগের এক ভাগও হয় না।
(২) ভিক্ষু সঙ্ঘের যাবতীয় ব্যবহার্য বস্তু সর্বদা সঙ্ঘকে দান করলেও একখানা কঠিন চীবর দানের পুণ্যের ষোলভাগের একভাগ হয় না।
(৩) সুমেরু পর্বত প্রমাণ রাশি করে সঙ্ঘমধ্যে ত্রি-চীবর দান করলেও একখানা কঠিন চীবর দানের পুণ্যের ষোল ভাগের একভাগও হয় না।

যাঁরা প-িত, যুক্তিবাদী, ভবিতব্য সচেতন, প্রাজ্ঞজন ও ধর্মপরায়ণ হিসেবে সমাজে পরিচিত তাঁদের উচিত এই মহান দানোত্তম কঠিন চীবর দানের ফলের কথা ও গুণের কথা চিন্তা করে এই মহত্তর দান কার্য সম্পাদন করা এবং সমাজের অপরাপর জনগণকে উৎসাহিত করা, যাতে তাঁরাও এরকম উৎকৃষ্ট দান কর্ম সম্পাদনের দ্বারা ইহ এবং পরজীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারেন।

তথ্যঋণ:
১) মহাবর্গÑ প-িত প্রজ্ঞানন্দ স্থবির
২) বুদ্ধ বন্দনা ও সাধনা পদ্ধতিÑ ড.বরসম্বোধি ভিক্ষু
৩) সদ্ধর্ম রতœচৈত্যÑ শ্রী জিনবংশ মহাস্থবির
৪)পূর্ণিমা সন্দর্শনÑ এস.জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু
৫) বাঙালি বৌদ্ধদের ইতিহাস ধর্ম ও সংস্কৃতিÑ ড.দীপংকর শ্রীজ্ঞান বড়–য়া

পরিচিতি : এস.জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু, বি.এস. এস অনার্স, এম.এস.এস(রাষ্ট্রবিজ্ঞান), এম.এ ইন বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ(শেষ বর্ষ), ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কলেজ, থাইল্যান্ড।

এই খবরটি সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
১,৭৪৭,৩৩১
সুস্থ
১,৫৬১,০৪৩
মৃত্যু
২৮,২৮৮
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
১৫,৮০৭
সুস্থ
১,০৩৭
মৃত্যু
১৫
স্পন্সর: একতা হোস্ট
জ্ঞানঅন্বেষণ কর্তৃক সকল অধিকার সংরক্ষিত © ২০২০
Developed By: Future Tech BD