জাতীয়

আজ শ্রদ্ধেয় পন্ডিত প্রজ্ঞাবংশ মহাস্থবির এর ৭০তম জম্ম দিবস

আজ এই মহাপন্ডিত, ক্ষনজম্ম পুণ্যপুরুষ, এশিয়ার সুবর্ণ সম্পত শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞাবংশ মহাস্থবির মহোদয়ের ৭০তম'জম্ম দিবস এমন দিনে শ্রদ্ধেয় ভান্তের সুস্থ আরগ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করছি।

সংবাদ শিরোনাম

  • আজ শ্রদ্ধেয় পন্ডিত প্রজ্ঞাবংশ মহাস্থবির এর ৭০তম জম্ম দিবস
Night mode
মহান এই সংঘপুরুধা ত্রিপিটক অনুবাদ, বহুগুনের অধিকারি শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞাবংশ মহাস্থাবির মহোদয়ে’র সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা চেষ্টা করছি।

প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :
বাংলা ও ইংরেজীতে বেশ কিছু গ্রন্থের লেখক ও অনুবাদক ভদন্ত-প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরো বাংলাদেশের বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিতি সৃজনশীল প্রতিভার এক উজ্জল সাংঘিক ব্যক্তিত্ব। তিনি অতিস্বল্পতম সময়ে বৌদ্ধদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ মহান এিপিটকের বিভিন্ন খন্ডের বঙ্গানুবাদ সহ বিভিন্ন সাময়িকী স্মরণিকায় বহু মূল্যবান প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখে বিদগ্ধ পন্ডিত মন্ডলী ও সুধী সমাজে ইতিমধ্যে সমাদৃত হয়েছেন। জাপানের নাগোয়া মহানগরীর প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ আই চি গাকুইন বিশ্ববিদ্যালয়,দক্ষিণ কোরিয়ার ওন-গাং বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মানির শতবর্ষীয় হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বুদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধ বিষয়ক ভাষণ দান সহ ১৯৯০খৃস্টাব্দ হতে বর্তমান পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ ও বৌদ্ধ ধর্ম বিষয়ক আন্তজাতিক সভা সম্মেলনে তিনি এযাবত সক্রিয় অংশগ্রহন করে আসছেন। ১৯৫০ খৃষ্টাব্দে ২০শে আগষ্ট,বৃহস্পতিবারে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা বৌদ্ধ পল্লীতে এই পুন্যময় প্রতিভার জম্ম। পিতা যতীন্দ্র বড়ুয়া এবং মাতা রাজলক্ষ্ণী বড়ুয়ার ৯ সন্তান মধ্যে তিনি সপ্তম সন্তান। গৃহী নাম সুব্রত বড়ুয়া। গৃহী জীবনে তিনি চট্রগ্রামে পলিটেকনিক কলেজে অধ্যয়ন কালে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে কক্সবাজার রাংকুট (রামকোট) বনাশ্রমের তৎকালীন অধক্ষ্য বিদর্শনাচার্য ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথেরো’র প্রেরণায় প্রব্রজ্যা জীবন গ্রহন করেন।

তাঁরই শিক্ষা ও দীক্ষার ১৯৭৩ খৃষ্টাব্দের ২৩শে ফেব্রুয়ারী বৃহ্স্পতিবারের বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘে পবিত্র উপসম্পদা গ্রহন করেন। ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরার জীবনে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব ও কীর্তি সমূহ: তিনি ১৯৮১ খৃষ্টাব্দে বাংলা সাহিত্যে বি,এ(অনার্স)সহ এম,এ দ্বিতীয় শ্রেণীতে উওীর্ণ হন।

১৯৯৪খৃস্টাব্দে পালি সাহিত্যে এম,এ-প্রথম স্থান অধিকার করেন।১৯৮১ হতে ৮৫ খৃষ্টাব্দে শ্রীলক্ষার বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ মহরাগমা ভিক্খু ট্রেনিং সেন্টারে সাফল্যের সাথে চার বছরের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৬ খৃস্টাব্দে তিনি ভদন্ত জ্ঞানশ্রী মহাথেরো প্রমূখ হিতৈষীদের নিয়ে মহামণ্ডল ধর্মীয় শিক্ষা পরিষদ গঠন করেন। ১৯৮৭ হতে ২০০৭ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত এ সময় কালে তিনি রাউজান থানার কদলপুরে বাংলাদেশ ভিক্খু প্রশিক্ষণ ও সাধনা কেন্দ্র, শাসন সেবক পালি কলেজ, প্যারীমোহন -সুমনতিষ্য শিশু সদন, চট্রগ্রাম মহানগরীর নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মবংশ ইনিষ্টিটিউট, কক্সবাজার রাংকুটে জগতজ্যেতি শিশু সদন, বিশ্বশান্তি প্যাগোডায় গোবিন্দ -গুণালঙ্কার বৌদ্ধ ছাত্রাবাস, চট্রগ্রাম মহানগরীর মোগলটুলী শাক্যমুণি বুদ্ধ বিহার ও প্রজ্ঞাজ্যোতি ধ্যান কেন্দ্র, রাঙ্গামাটি বেতবুনিয়ায় অভয়ারণ্য ধ্যান কেন্দ্র ও বাংলাদেশ -জাপান মৈত্রী কে, জি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোবরা M, W, O, & WON BUDDHISM, সম্মেলন কেন্দ্র, মহামণ্ডল কল্যাণ সংস্থা, ও প্রজ্ঞাবংশ-জ্ঞানরত্ন ফাউন্ডেশন সহ বুদ্ধজ্যোতি আন্তর্জাতিক সংস্থ -বাংলাদেশ শাখা, এবং ‘শরণ’ নামে আন্তর্জাতিক মানের বেশ কিছু সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার ভূমিকা পালন করেন।

অসেবনা চ বালানং, পন্ডিতানঞ্চ সেবনাং,
পূজা চ পূজনীয্যানং এতং মঙ্গল মুত্তমং।

বুদ্ধ বলেন অজ্ঞানি লোকের সেবা করো না,
পন্ডিত ও জ্ঞানি ব্যক্তির সেবা করো।

আজ এই মহাপন্ডিত, ক্ষনজম্ম পুণ্যপুরুষ, এশিয়ার সুবর্ণ সম্পত শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞাবংশ মহাস্থবির মহোদয়ের ৭০তম’জম্ম দিবস এমন দিনে শ্রদ্ধেয় ভান্তের সুস্থ আরগ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করছি।

বিস্তারিত দেখুন

সম্পর্কিত খবর গুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close