1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : dharmobodi :

মোট আক্রান্ত

সুস্থ

মৃত্যু

  • জেলা সমূহের তথ্য
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর |
তৈরি করেছেন - মুন্না বড়ুয়া
প্রয়োজনীয়ঃ
আপনার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট,সফটওয়্যার কিংবা মোবাইল এপ তৈরি করতে আজই যোগাযোগ করুনঃ ০১৯০৭৯৮৬৩৬৯ আমরা যেসব সার্ভিস দিয়ে থাকিঃ বিজনেস ওয়েবসাইট,ই-কমার্স ওয়েবসাইট,সোশ্যাল ওয়েবসাইট,অনলাইন নিউজপেপার,বেটিং ওয়েবসাইট,কেনা বেচার ওয়েবসাইট,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ইত্যাদি। আমরা আরো যেসব সেবা দিয়ে থাকিঃ সুপারশপ সফটওয়্যার,ফার্মেসি সফটওয়্যার,ক্লথিং/বুটিক ষ্টোর সফটওয়্যার,একাউন্টিং সফটওয়্যার,HRM ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার,স্কুল/কলেজ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার সহ সকল ধরনের মোবাইল এপ তৈরি করে থাকি আপনার বাজেটের মধ্যেই। তো দেরি না করে আজই যোগাযোগ করুন এবং অর্ডার করুন আপনার চাহিদা মত সেবা। ফিউচার টেক বিডি
শিরোনামঃ
বরণ্য পুণ্যপুরুষ ভদন্ত বুদ্ধপিয় মহাথেরো’র সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত সংঘরাজ ভিক্ষু মহামন্ডল এলাকায় সকাল বেলায় কঠিন চীবর দান শেষ করার নির্দেশ বোধিতরুর কথা আনন্দবোধির কথা সাতবাড়ীয়া শান্তি বিহারের নতুন ভবনে প্রবেশ ও ১০৯ তম কঠিন চীবরদান ২৯ ও ৩০শে অক্টোবর কান্তা বড়ুয়াকে হত্যা করা হয়েছিল – জ্ঞান অন্বেষণ নিউজ ৬ দিনেও খোঁজ মেলেনি দুলাল বড়ুয়ার ডক্টর অরুনজ্যোতি মহাস্থবির মহোদয় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ফটিকছড়ির আঞ্চলিক সংঘরাজ ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির মেক্স হাসপাতালে সি সি ইউতে ত্রিপিটকের বিশুদ্ধিতা রক্ষায় পালি শিক্ষা প্রয়োজন চট্টগ্রাম বিভাগ আ’লীগের সাংগঠনিক দায়িত্বে ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া অনোমা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’র মহাসচিব বাবু আশীষ বড়ুয়া পরপাড়ে – জ্ঞান অন্বেষণ অনলাইন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন

বরণ্য পুণ্যপুরুষ ভদন্ত বুদ্ধপিয় মহাথেরো’র সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত

  • আপডেটের সময়ঃ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১১৫ বার পঠিত

বর্তমান বাঙ্গালি বৌদ্ধদের ভিক্ষুকূল গৌরব মাননীয় বুদ্ধপিয় মহাথেরো’র সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত:

উপক্রমণিকা :তথাগত মহাকারুনিক বুদ্ধের জীবদদ্দশায় ভারতীয় ভূখন্ডে বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও প্রসারতা লাভ করেছে। এ ভারতর্বষ থেকে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে বৌদ্ধধর্মের দেদ্দীপ্পমান হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে তা এখনো দৃশ্যমান বিশ্বের মধ্যে । সেই ধারাবাহিকতায় আজকের বাংলাদেশও সেই প্রাচীন ভারত থেকে বেশি দূরে ছিল না। ভারতবষের ষোলটি জনপদের মধ্যে বঙ্গও একটি জনপদ। তাই এদেশে বৌদ্ধধর্মের বিস্তার ও প্রসারতা লাভ করেছে নিঃসন্দেহে; পরবর্তীতে সম্রাট অশোক কর্তৃক প্রেরিত শোন ও উত্তর নামে দুইজন বৌদ্ধ ভিক্ষু বৌদ্ধধর্ম প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ র্পযন্ত বৌদ্ধ ভিক্ষু সমন্বিত নিকায়কে ‘মহাথের সমাগম’ নামে অভিহিত করা হয়। কিন্তু ইতিহাস পাতায় বাংলায় পালরাজাদের রাজত্ব থাকলেও বার্মাদেশ যেহেতু চট্টগ্রাম (আরাকান রাজ্যর অধীন ছিলো) তাই বাংলাদেশের থেববাদ বৌদ্ধধমের উৎকৃষ্ট চর্চা বিদ্যামান ছিল চট্টগ্রাম তথা বর্তমান বাংলাদেশে অত্যন্ত সুগভীরভাবে।

তাই বাংলাদেশের বৌদ্ধধর্মের থেরবাদী ধর্ম আবহমানকাল থেকে প্রচার করে আসছেন সেই ভিক্ষুসংঘ বা মহাথেরো দল নামে পরিচিতি হয়ে আছেন তা হলো বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভা। এতে সন্দেহের কোনা অবকাশ নেই। এ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ত্যাগ মহিমায় বিলুপ্তি হয়ে যাওয়া বৌদ্ধধর্ম বাঙ্গালি বৌদ্ধদেরকে জাগিয়ে রাখার অবদান অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তাই নমস্য এ মহান মাননীয় ভিক্ষুসংঘকে। এ থের বা মহাথেরো সমন্বয়ে গঠিত মহাস্থবির নিকায় বা মাথের দল(মহাথেরো’র দল) শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, সমগ্র উপমহাদেশে থেরবাদী বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও প্রসারে ভিক্ষুদের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিপুল অবদান যুগিয়ে আসছে এবং সে ধারা এখনও অব্যাহত রেখে চলেছে।

রাউজান থানার অর্ন্তগত র্পুবগুজরা হোয়ারাপাড়া গ্রামে অনেক গুণী সাংঘিক বৌদ্ধ ব্যক্তিত্বের জন্মভূমি। এ ভূমিতে জন্মগ্রহণকারী সংঘনায়কবৃন্দের উত্তরসুরী বুদ্ধপ্রিয় মহাথের: সপ্তদশ শতাব্দীর সংঘনায়ক অভয়চান (অঙচান) মহাস্থবির, সংঘনায়ক কঙলা মহাস্থবির, সংঘনায়ক অঙথা মহাস্থবির, সংঘনায়ক লোহান মহাস্থবির, সংঘনায়ক ঝালা মহাস্থবির, সৌগতর্সূয আগ্রসার মহাস্থবির, মহাসংঘনায়ক বিশুদ্ধানন্দ মহাস্থবির, সংঘনায়ক দর্শণসাগর প্রিয়ানন্দ মহাস্থিবর, অনুনায়ক সুগতানন্দ মহাস্থবির, ভদন্ত অমৃতানন্দ মহাস্থবির আরো বহুগুানীগুণী ভিক্ষুসংঘের সার্থক উত্তরসুরী হচ্ছেন বুদ্ধপ্রিয় মহাথের। মূলত : পূবগুজরা হোয়ারাপাড়া সাংঘিক ব্যক্তি মণীষার র্তীথ ভূমি ।

বৃহত্তর হোয়ারাপাড়া এতগুলো সংঘানায়কের জন্ম বাঙ্গালী বৌদ্ধদের আর কোনো এলাকায় পরিলক্ষিত হয়না। তাই এসব মহান সাংঘিক ব্যক্তিবর্গের উত্তরসুরী হিসেবে মাননীয় বুদ্ধপ্রিয় মহাথের এক গৌরভের অধিকারী নিঃসন্দেহে।

জন্ম : রাউজান থানার অর্ন্তগত র্পুবগুজরা হোয়ারাপাড়া গ্রামের বাবু কামিনী মাস্টার একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি। শিক্ষকতার জীবনে অভাবনীয় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তিনি অনেক/ছাত্রীকে শিক্ষিত করেছেন বলে এলাকাটি কামিনী মাস্টারের বাড়ী নামে সুপরিচিতি। এই এলাকারই একজন ছেলে ‘মিলন বড়ুয়া’,৷ পিতা : যোগেন্দ্র লাল বড়ুয়া, স্বল্প মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম মিলন বড়ুয়ার । সাতবোনের এক ভাই মিলন বড়ুয়া। পিতা-মাতার স্নেহ ছাড়াও বোনদের স্নেহ-মমতার কি যে আতিশয্য হতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । ১৯৫৭ সালের আগস্ট মাসে জন্মের পর শিশু মিলন সাত বোনের একমাত্র ভাই হিসেবে পিতামাতার অনাবিল স্নেহে মমতায় বেড়ে উঠতে লাগলো মিলন বড়ুয়া।

পিতৃবিয়োগ : জন্মের পর শিশু মিলন বড়ুয়ার ভাগ্যে পিতৃস্নেহে বেশিদিন স্থায়ী হলো না। মিলন বড়ুয়া চার বছর বয়সে হঠাৎ পিতা যোগেন্দ্র লাল বড়ুয়ার মৃত্যুতে পরিবারকে সাবিকভাবে সংকটে পড়ে যায়। পরিবার অবিভাবকের প্রয়াণে পারিবারিক অবস্থা ও আর্থিক সংকটের আবর্তে পতন এবং পারিবারিক অবস্থা সংকাটাপন্ন হওয়ায় পরিবারকে ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রাকে থেমে দেয়।

শিক্ষা জীবনের শুরু : পিতৃহারা পরিবারের একমাত্র সন্তানকে শিক্ষার আলোকে প্রদীপ্ত করার প্রত্যায়ে নিজ গ্রামে হোয়ারাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়ে শিক্ষার হাতেখড়ি দেয়া হয়। তখন সুর্দশন বিহারের ভিক্ষুসংঘ ও হোয়াড়াপাড়ার প্রতিথযশা ভিক্ষু সংঘকে র্দশন করে শৈশবের বালক মিলন বড়ুয়ার মন ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। বালক মিলনের হোয়াড়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চশ শ্রেণী পযন্ত পড়ালেখা শেষ করলে তাকে হোয়ারাপাড়া জুনিয়ন হাইস্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়। সেই জুনিয়র হাইস্কুলে ষষ্ট শ্রেণীর পড়ালেখা শেষ করে বেতাগী বনাশ্রমে চলে যান।

বেতাগী গমন : যখন বালক মিলনের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র তখন মাতার অনুমতি নিয়ে বেতাগী বনাশ্রমে চলে যায়। সেখানে ১৯৬৫ সালে ভদন্ত দেবমিত্র মহাস্থবিরের নিকট শ্রামনের প্রব্রজ্জা গ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষাগুরু ছিলেন ভদন্ত বিবেকানন্দ মহাস্থির যার গৃহীনাম ছিল লোকেন্দ্র লাল বড়ুয়া। পাহাড়তলী মহামুনি অধিবাসী লোকেন্দ্র বড়ুয়া পালিত দক্ষ একজন শিক্ষক ছিলেন এবং ‘পালি পাঠমালা’ একটি মূল্যবান বই লিখেছিলেন। তারঁ শ্রমানের নাম রাখা হয় বুদ্ধপ্রিয় শ্রমন। এই বনাশ্রমে বুদ্ধপ্রিয় শ্রামন সাত বৎসর অতিবাহিত করেন। এ বিহারে থাকাকালীন অনেক পরিশ্রম করেছেন।

বেতাগী হাইস্কুলে ভর্তি: বেতাগী বনাশ্রমে থেকে বেতাগী হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে সেই স্কুল থেকেই বুদ্ধপ্রিয় শ্রামন ১৯৭২ সালে এস. এস. সি পাশ করেন। মাঝে মাঝে পড়ালেখার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি মাঝেমধ্যে পড়াশোনা বিঘ্ন ঘটেছে। অপরদিক ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটার কারনে পড়ালখা বন্ধ থাকে।

ঢাকা গমন :১৯৭২ সালে শ্রামন বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো মহাসংঘনায়ক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের’র প্রতিষ্ঠিত ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে চলে আসেন্ অনেকটা মহাসংঘনায়কের প্রতি আর্কষণ বশত । বুদ্ধপ্রিয় শ্রমন ঢাকা চলে আসলে ঢাকা ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে অবস্থান করে আরো উচ্চ শিক্ষার অভিলাষ ব্যক্ত করেন। যেহেতু মহামান্য মহাসংঘনায়ক হোয়ারাপাড়া জন্মজাত সন্তান, শ্রামন বুদ্ধপ্রিয়ও হোযারাপাড়া জন্মজাত সন্তান সেহেতু ঢাকায় অবস্থানে অসুবিধা না হলেও আর্থিক সংকটে দিনাতিপাত করতে হয়। তারপরও অনেক কষ্ট করর ঢাকাস্থ এ.কে ফজলুল হক কলেজ থেকে ১৯৭৫ এইচ এস. সি পাশ করেন। এতে সংঘানায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথেরর বুদ্ধপ্রিয় শ্রমণকে বিভিন্ন উৎসাহ ও উদ্দীপনা প্রদান করেন ভবিষ্যতের আলোকিত মানুষের হওয়ার জন্য।

বিএ ডিগ্রী পাস : বুদ্ধপ্রিয় শ্রামনের বয়স তখন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবার জন্য তাঁর মন অনুরাগ তৈরি হয়। নানাবিধ সংকটের মাঝে শেষ পর্যন্ত দিনাজপুরের কে.বি এম ডিগ্রী কলেজ থেকে ১৯৮৮ সালে বুদ্ধপ্রিঢ বিএ ডিগ্রী পাশ করেন। তখন ঐ কলেজটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল।

উপসম্পাদা লাভ: ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথেরো’র উপদ্বায়েত্ব শ্রদ্ধেয় বুদ্ধপ্রিয় শ্রমনকে উপসম্পাদা প্রদান করা হয় ১৯৮৫ সালে।

বৃত্তি লাভ : বিএ ডিগ্রি সময় দেরী হওয়ার হবার কারন হলো ইতোমধ্যে দি স্কুল অব জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ স্কুলে জাপানি ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। সেইসাথে ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত সাফল্যজনকভাবে জাপানি ভাষার পারদর্শী হয়ে উঠেন। জাপানে থাকাকালীন সময়ে জাপানের বহু এলাকা পরিদর্শন করেন। জাপানি সংস্কৃতিতে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা ভান্ডার পূর্ণ করতে সক্ষম হন।

জাপানের বিভিন্ন তথ্য মাধ্যমে স্বাক্ষাৎকার :
জাপানী ভাষায় অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের পর বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করার লক্ষ্য বিভিন্ন বিষয়ের জাপানের বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকদের সম্মুখীন হন। তন্মধ্যে টোকিওর মাইনাচি শিম্বন দৈনিক পত্রিকা, টোকিও, ওসাকায় মাইনাচি ব্রডকাস্টিং সিস্টেম এমবিএস, টোকিও নিপ্পন টেলিভিশন এনটিভি, সানকেই শিম্বন ইত্যাদি অন্যতম। বাংলাদেশ শিশু ও অনাথ নিউজপেপার, কিঢোতো শিম্বুন নিউজ পেপার, জাপান টাইস ইত্যাদি অন্যতম। কিয়োতো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কুলের ছাত্র/ ছাত্রীদের বিষয়ে বক্তৃতা দেবার সুযোগ হয়। বাংলাদেশের শিশু ও অনাথ শিশু স্কুল সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যগুলি পত্র পত্রিকায় ও তথ্য মাধ্যমে ফলাও করে ছাপানো হয়।

জাপানে থাকাকালীন সময়ে জাপানি ভাষার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ও মাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জ্বল করেছেন তেমনি স্বদেশের কথা তুলে ধরে অামাদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

জাপানে থাকাকালীন বিভিন্ন সম্মেলনে যোগদান: জাপানে অবস্থানকালীন সময়ে ১৯৭৮ বিশ্ব বৌদ্ধ সৌভ্রাতুত্ব সংঘের সম্মেলনে যোগদান করেন বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি মহামান্য মহাসংঘনায়ক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের ঐ সম্মেলনে বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের প্রতিনিধিবৃন্দের নেতৃত্বে দেন।

বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সফরসঙ্গী : ১৯৭৯ সালের শেষের দিকে বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো জাপান থেকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। সেই সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্ধুপ্রতিম শ্রীলংকা সফর করেন। মহামান্য মহাসংঘনায়ক বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরোও রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমানের সফরসঙ্গী ছিলেন। মহামান্য মহাসংঘনায়কের সেবক হিসেবে বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো শ্রীলংকা গমন করেন। এটি বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো জন্য স্মরণীয় ভ্রমণ।

বিভিন্ন সম্মেলনে যোগদান : জাপানের নাগানোতে ১৯৮১ সালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত প্যাসিফিক এলাকায় যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের অবদানের উপর অনুষ্ঠিত সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। এই সেমিনারটি ওসাকার আন্তর্জাতিক হোটেল ও টোকিও এর সাটেম্পলে অনুষ্ঠিত হয়।

মহাথের উপাধি : বিগত ১৪ জানুয়ারী ২০১২ ইং তারিখে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার প্রাঙ্গনে তাঁর গুরুদেব মাননীয় শুদ্ধানন্দ মহাথের’র ৮০ তম জন্মদিবস প্লাটিনাম জুবিলী পালনের অনুষ্ঠান কালে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বুদ্ধপ্রিয় ভিক্ষু ‘ মহাথের’ উপাধিতে বরিত হন। তাঁর সঙ্গে অন্যান্য ভিক্ষু যারা মহাথের পদে বরিত হয়েছেন তাঁরা হলো ড.করুণানন্দ ভিক্ষু,ভদন্ত ধর্মানন্দ ভিক্ষু ও অধ্যাপক উপানন্দ ভিক্ষু। বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরর বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা : বুদ্ধপ্রিয় মহাথের সাংগঠনিকভাবে বিভিন্ন সংস্থার সাথে জড়িত থেকে সদ্ধর্ম, সমাজ,কৃষ্টি, সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে বুদ্ধপ্রিয় মহাথের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের অধ্যক্ষ। এর আগে বহু বছর বুদ্ধপ্রিয় ঐ বিহারের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ধর্মরাজিক অনাথালয়ের সহ সভাপতি, এশীয় ধর্ম ও শান্তি সম্মেলন বাংলাদেশ চাপ্টারের সদস্য। আমেরিকা নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। মুখ্যত ১৯৭২ সাল থেকে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ, ধর্মরাজিক অনাথালয়ের কর্মকাণ্ডের সংঘে সক্রিয়ভাবে জড়িত। বর্তমানে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি।

অামেরিকায় বৌদ্ধ বিহারে নির্মানে অবদান : শ্রদ্ধেয় বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো’র অামেরিকায় থাকাকালীন সমাজ ও সদ্ধর্ম উন্নয়নে ক্যালিফোর্ণিয়া, নিউইয়র্ক বিভিন্ন জায়গায় বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন।

বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ: বুদ্ধপ্রিয় মহাথের পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, র্জামানী, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, থাইল্যন্ড, ইতালি, নরওয়ে, শ্রীলংকা, বেলজিয়াম, সুইডেন, ডেনর্মাক, নেদাল্যান্ডস, ফ্রান্স, কানাডা, সিংগাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, মেক্নিকো, হংকং, নেপালসহ প্রভৃতি দেশে ভ্রমণ করেন।

বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি হিসেবে মনোনীত : বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি মহামান্য সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথের’র মহাপ্রয়ান হলে গত ৮ মাচ, ২০২০ সালে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন।

পরিশেষে ঐতিহ্যেবাহী বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ও মহাধ্যক্ষ পদে থেকে বাংলাদেশের সমাজ ও সদ্ধর্ম উন্নয়নে অবদান রাখবেন এ প্রত্যাশা হয়ে অাছে দেশ ও বিদেশের অনেক সমাজ ও সদ্ধর্ম ভক্তপ্রানগণ। জয় হোক মাননীয় বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো ভান্তের।

উন্মুক্ত মহাজগতের পানে যুগে যুগে মহাপুরুষের
ক্ষণ জন্মা ব্যক্তির,
তাঁদেরই পথের অনুসরনে হবেন মহাজন ও মহাভিক্ষু
কুলগৌরবের পথ চেয়ে।
শুভ হোক, শুভ হোক অাপনারই জীবন।

মহাথেরো বরণোত্তর অনুষ্ঠানে ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া’র লিখিত বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো’র জীবনী হতে সংকলিত।

এই খবরটি সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর
GO AD

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
তৈরি করেছেনঃ মুন্না বড়ুয়া
জ্ঞানঅন্বেষণ কর্তৃক সকল অধিকার সংরক্ষিত © ২০২০
Developed By: Future Tech BD