1. arkobd1@gmail.com : arkobd :
  2. dharmobodi88@gmail.com : dharmobodi :

শিরোনামঃ

চামড়ার বাজারে ধস

  • আপডেটের সময়ঃ শনিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৮
  • ৩৪ বার পঠিত

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। সারা দেশে প্রায় একই পরিস্থিতি। এক লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া ১ হাজার টাকায়ও বিক্রি হয়নি। অথচ তিন-চার বছর আগে ৫০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়াই কেনাবেচা হতো ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়।

এবারের ঈদের আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে সরকার চামড়ার দাম আগেরবারের চেয়েও কম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। অথচ কোরবানির পর এমন হয়েছে যে সেই দরও ঠিক থাকেনি। অর্থাৎ কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা হয়েছে সরকার-নির্ধারিত দরের চেয়েও কমে। চামড়ার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী এবং আড়তদার সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে কয়েক লাখ মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়ার ব্যবসায় নামেন। কয়েক হাজার পাইকারি ব্যবসায়ী তাঁদের কাছ থেকে চামড়া কিনে জমা রাখেন আড়তদারদের কাছে। এবারের ঈদে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে কম দামে চামড়া কিনেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

পরে তাঁদের কাছ থেকে সেসব চামড়া কম দামে কিনে নিয়েছেন ও নিচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদারেরা। রাজধানীর কাঁচা চামড়ার পাইকারি আড়ত লালবাগ ও আমিনবাজারে ঈদের দিন ও তার পরের দিন কম দামে চামড়া বেচাকেনার খবর পাওয়া গেছে। তবে গতকাল শুক্রবার থেকে দাম একটু বাড়ছে বলে জানা গেছে।

সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম হচ্ছে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

বাস্তবে এর চেয়েও কম দামে চামড়া কেনাবেচা হয়েছে কোরবানির দিন ও তার পরের দিন। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর ঢাকার বাইরে কেনাবেচা হয়েছে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। অথচ লবণ দেওয়ার পরে কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুট চামড়া ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কেনাবেচা হওয়ার কথা।

চামড়ার আড়তদারদের সংগঠন হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন চামড়ার দাম কমার কারণ হিসেবে ট্যানারি মালিকদের দুষছেন। গতকাল শুক্রবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ট্যানারি মালিকদের চামড়া কেনার আগ্রহ কম। আবার আমাদের গতবারের টাকা এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করেননি তাঁরা। ফলে আমরাও ব্যবসায়ীদের টাকা শোধ দিতে পারিনি।’

ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ অবশ্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ঠকানোর জন্য পাঁয়তারা করছেন আড়তদারেরা। কয়েক দিন চামড়াটা সংরক্ষণ করে রাখলেই তাঁরা যথাযথ দাম পাবেন। গতকাল থেকে দাম বাড়ছে। তাড়াহুড়ো করে কম দামে বিক্রির দরকার নেই।’ বিশ্ববাজারে চামড়াজাত পণ্যের পড়তি দামের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

টাকা পরিশোধ না হওয়ার বিষয়ে আড়তদারদের সংগঠনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের অভিযোগের সত্যতা কিছুটা মেনে নেন শাহীন আহমেদ। আবার এ-ও বলেন, ‘হাজারীবাগ থেকে সাভারে যাওয়া সব কারখানা ঋণ পায়নি। এটাও একটা সমস্যা।’

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে সারা দেশ থেকে কমবেশি ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। তবে বছরের মোট জোগানের অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গতকাল ঢাকার সাভারে চামড়া শিল্পনগরের প্রায় সব কারখানা বন্ধ ছিল। কয়েকটি কারখানায় লবণযুক্ত চামড়া সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক কারখানায় ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন গবাদিপশুর চামড়া সংরক্ষণ করা হয়।

মিরাজ লেদারের শ্রমিক ইমন হোসেন বলেন, ঈদের দিন চামড়া কিনে হাজারীবাগে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সেখান থেকে গতকাল লবণযুক্ত চামড়া সাভারের কারখানায় আনা হয়।

তবে সাভারে চামড়া শিল্পনগরে শ্রমিকের সংকট রয়েছে বলেও জানা গেছে। নানা সমস্যার কারণে শ্রমিকেরা এখানে কাজ করতে চান না। এ কারণে অনেক কারখানার মালিক ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন সাভারের কারখানায় গবাদিপশুর চামড়া সংরক্ষণ করতে পারেননি।

চামড়ায় লবণ দিয়ে হাজারীবাগসহ সুবিধাজনক বিভিন্ন স্থানে জমা করে রাখা হয়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে তা সাভারে আনা হবে। পরে এসব চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হবে।

অনুগ্রহ করে এই খবরটি সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো খবর
জ্ঞানঅন্বেষণ কর্তৃক সকল অধিকার সংরক্ষিত © ২০১৯
Developed By: Future Tech BD