বিনোদন

আড়াই হাজার বছর পর খোঁজ মিলল রানি ক্লিওপেট্রার সমাধিস্থলের!

নিউজটি সেয়ার করুন

সংবাদ শিরোনাম

  • আড়াই হাজার বছর পর খোঁজ মিলল রানি ক্লিওপেট্রার সমাধিস্থলের!

প্রেম আর মৃত্যু এই নারীর জীবনে একাকার হয়ে গেছে। তিনি যেমন ভালোবাসার উদ্যাম হাওয়া বইয়ে দিতে পারতেন, তেমনি প্রয়োজনে মারাত্মক হিংস্রও হতে পারতেন। পথের কাঁটা মনে করলে যে কাউকে নির্মমভাবে সরিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করতেন না।

আধুনিক ইতিহাসবিদদের মতে, পরমাসুন্দরী হিসেবে তার খুব বেশি খ্যাতি ছিল না। কিন্তু তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা, অন্যকে বশ করার প্রত্যয়ী মমতা, সহজাত রসবোধ এবং প্রচণ্ড উচ্চাভিলাষ ও তা বাস্তবায়নের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি সর্বকালের সেরা নারীদের কাতারে স্থান করে নিয়েছেন।

ইতিহাসে অ্যান্টনি-ক্লিওপেট্রার প্রেমের কথাই ফিরে এসেছে বারবার। বরং ক্লিওপেট্রার স্বামীর কথা খুব একটা জানা যায় না। আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ১৮ মাইল দূরে প্রাচীন শহর তাপোসিরিস মাগনা, সেখানেই দুই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব শায়িত রয়েছেন, বলছেন প্রত্নতত্ত্ববিদ জাহি হাওয়াস। তার মতে, একই সমাধিতে শায়িত করা হয়েছিল দু’জনকে।

রোমান সম্রাট অক্টাভিয়াস অগাস্টাস সিজারের কাছে মার্ক অ্যান্টনির পরাজয় ও ছুরি দিয়ে আত্মহত্যা রোমের ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা। এই যুগলের জীবন ঘিরে রয়েছে প্রচুর রহস্য। তাই সম্প্রতি তাদের সমাধিস্থল নিশ্চিত হওয়ার পর তা খনন করা নিয়ে উৎসাহ বেড়েছে ইতিহাসবিদদের।

বুকে বিষাক্ত সাপের দংশন নিয়ে ক্লিওপেট্রার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঘটনাটিই মোটামুটি মিথ হয়ে গেছে ইতিহাসে। আবার কেউ বলেছেন, ক্লিওপেট্রার সঙ্গে সেনানায়কের প্রেমের কারণেই দু’জনকেই হত্যা করা হয়েছিল।

অ্যান্টনির পরাজয়ের খবর পেয়েই নাকি ক্লিওপেট্রা এই সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনা নিয়ে ইতিহাসবিদরাও দুই ভাগে বিভক্ত। তাদের মৃতদেহের অবশেষ মিললে এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলেই মনে করছেন ইতিহাসবিদরা।

ক্লিওপেট্রা সুশাসক ছিলেন, খাল কেটে মিশরে জলসেচের বন্দোবস্ত করেছিলেন-এ কথাও রয়েছে ইতিহাসে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি মানুষ জানে, পৃথিবীর অন্যতম সুন্দরী ছিলেন ক্লিওপেট্রা। গাধার দুধ দিয়ে তার গোসলের কথাও লেখা রয়েছে কোনো কোনো জায়গায়।

অক্টাভিয়ান বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের পর এই যুগল ধরা পড়ে যান ৩০ খ্রিস্টপূর্ব নাগাদ। বলা হয়, ১২ আগস্ট আত্মঘাতী হন অ্যান্টনি। প্রভাবশালী রানী ক্লিওপেট্রার কাহিনী ও তার অকালমৃত্যুর ঘটনা জনপ্রিয় কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে।এ নিয়ে হলিউডের রুপোলি পর্দা থেকে শুরু করে টিভি পর্দায়ও তৈরি হয়েছে বহু সিনেমা। যদিও কোনো কোনো গবেষক সাপের কামড়ে মৃত্যুর বিষয়টি উড়িয়ে দেন। তাই এই সমাধিস্থল খননের বিষয়টি প্রকৃত ইতিহাস জানার জন্য আরও বেশি জরুরি।

ইতালিয় কবি ও দার্শনিক দান্তের মতে, লালসার শাস্তি হিসেবে কিওপেট্রা নরকের দ্বিতীয় স্তরে দাউ দাউ করে পুড়ছেন। কারো কারো দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন ‘সারপেন্ট অব দ্য নাইল’। অনেকেই তার যৌন আবেদনময়ী দিকটিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

পশ্চিমা লেখকদের অনেকেই তাকে এশিয়ান হিসেবে এবং এশিয়ানদের সব কিছুই যে খারাপ তা বোঝানোর জন্যও তার নেতিবাচক দিকগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন বা তাদের উর্বর মস্তিষ্কে অনেক কিছু আবিষ্কৃতও হয়েছে। তা ছাড়া অক্টাভিয়ান তার বিজয়ের পর যাতে শুধু রোমানদের লেখা ইতিহাসই টিকে থাকে সে জন্য মিসরের প্রায় দুই হাজার নথিপত্র পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। এ কারণেও প্রকৃত ইতিহাস অনেকাংশেই পাওয়া যায় না।

বিস্তারিত দেখুন

সম্পর্কিত খবর গুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটা ও দেখতে পারেন

Close
Close